Advertisements
বিনোদন

১৫ বছরেও ফেরানো সম্ভব হয়নি তিন্নি হত্যার আসামি অভিকে!

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশে রয়েছেন তিন্নি হত্যা মামলার একমাত্র আসামি, এক সময়ের আলোচিত-সমালোচিত ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভি। ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন মডেল তিন্নি। এরপরই আত্মগোপনে চলে যান অভি। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে পলাতকই রয়েছেন জাতীয় পার্টির সাবেক এই সংসদ সদস্য।

অভি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ থাকলেও তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঁঠগড়ায় দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। পলাতক থাকা অবস্থায়ই হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে মামলাটির স্থগিতাদেশ পান অভি। এরপর কেটে গেছে প্রায় অর্ধযুগের বেশি।

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ঢাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সপ্তম আদালতে মামলাটি পড়ে আছে বছরের পর বছর।

আদালতসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ই নভেম্বর রাতে খুন হন তিন্নি। এর আগে ৬ই নভেম্বর তিন্নিকে তার স্বামী সাক্কাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেন অভি। ওই দিনই অভি পিয়ালকে তার কোলের দেড় বছর বয়সী কন্যা সন্তানসহ রাজধানীর বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এরপর বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দিতে থাকেন তিন্নি। একপর্যায়ে তিন্নি বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেন। ১০ই নভেম্বর রাতে তিন্নির মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর গুমের উদ্দেশ্যে ওই রাতেই গাড়িতে বুড়িগঙ্গায় ১নং চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে নিয়ে তিন্নির লাশ ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু পানিতে নয়, লাশটি পড়ে পিলারের উচুঁ অংশে।

পরদিন ১১ই নভেম্বর সকালে লাশ ঘিরে সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত করে।

মর্গে চারদিন রাখার পর ১৫ই নভেম্বর অজ্ঞাত হিসেবেই জুরাইন কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। এদিকে তার চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি হারানো ডায়েরি করেন। লাশ উদ্ধারের দিনই একই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন একই থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শফি উদ্দিন। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের তাতে আসামি করা হয়।

পরে সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি ছোট্ট সংবাদের সূত্র ধরে তিন্নির স্বজনরা আঞ্জুমানে মুফিদুলে যান। ছবি দেখেই চিনে ফেলেন তাদের প্রিয় তিন্নির লাশ। এরপরই ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাইয়ুম আলী সরদার। পরে মামলাটিতে অভির নাম উঠে এলে তা নিয়ে আরো হৈচৈ পড়ে যায়। চাঞ্চল্যকর বিবেচনায় মামলাটির ভার পড়ে সিআইডির ওপর।

প্রথম দিকে দুই সিআইডি পরিদর্শক মো. ফজলুর রহমান ও সুজাউল হক তদন্ত করেন। এরপর যথাক্রমে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা, মো. আরমান আলী, কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ মামলাটি তদন্ত করেন।

অবশেষে ঘটনার ৬ বছরের মাথায় মামলার ৭ম তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মো. মোজাম্মেল হক ২০০৮ সালের ৮ই নভেম্বর মামলাটির তদন্ত শেষ করেন।

ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তিন্নির স্বামী পিয়াল, এবাদুল্লাহ ওরফে স্বপন গাজী, গাজী শফিউল্লাহ ওরফে তপন গাজী, মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে জুয়েল এবং সোমনাথ সাহা বাপ্পীসহ কয়েকজনকে। পরে গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়।

তারাসহ কারাগারে বন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের স্বীকারোক্তিতেই ফাঁস হয় আসল গোমর। বেরিয়ে আসে অভির নাম। একমাত্র অভিকেই দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। ২০০২ সালে অভি পালিয়ে প্রথমে ভারত চলে যান। সেখান থেকে পালিয়ে কানাডায় যান।

Advertisements