জাতীয় বরিশাল বিভাগীয় সংবাদ রাজনীতি

হেলিকপ্টারে চড়ে পিরোজপুরে মাঠে নামলেন এমপি

ছোট ভাইয়ের সঙ্গে প্রায় দেড় বছরের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে হেলিকপ্টারে চড়ে পিরোজপুর স্টেডিয়াম মাঠে নামলেন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে সিক্ত করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এমপি আউয়াল হেঁটে পৌঁছেন স্থানীয় গোপালকৃষ্ণ টাউনক্লাব মাঠে। এ সময় সদর রোডের দু’ধারে অসংখ্য উৎসুখ জনতা হাত নেড়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়।
টাউনক্লাব মাঠে আউয়াল উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বলেন, ‘আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ সুবিধাবাদীরা কখনও কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায় এবং দলের আদর্শ তাদের পক্ষে বাস্তবায়ন হয় না। তিনি বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ নিয়ে পিরোজপুরে উপস্থিত হয়েছি। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনে যারা আছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী যারা আছেন তারা কোনো ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হবেন না। অনেক ত্যাগের ফলে পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত করেছিলাম। সেই পিরোজপুর এখন মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। বক্তব্য রাখেন এমপির ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সালেহ বাবুল।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই অনুজ সহোদরদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরেন একেএমএ আউয়াল। পরে ওই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ নেয়। এরই জেরে মেজ সহোদর, পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মালেক, সেজ সহোদর, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মালেক এবং কনিষ্ঠ সহোদর জেলা চেম্বারের সভাপতি মশিউর রহমান মহারাজের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে তার। কিছুটা আকষ্মিকভাবেই বুধবার রাত থেকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে ছোট ভাই মজিবুর রহমান খালেক তার বড় ভাই এমপি আউয়ালের সঙ্গে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মিলে গেছেন। শহরে বিষয়টি ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হলেও অনেকের মনেই ব্যাপারটি খটকা লাগছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেল। কিন্তু আউয়ালের অন্য দুই ছোট ভাই হাবিবুর রহমান মালেক ও মশিউর রহমান মহারাজ বড় ভাইয়ের সঙ্গে রয়েছেন কী-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিকালে হেলিকপ্টার স্টেডিয়ামে নামলে এমপি আউয়ালকে প্রথমেই তার সেজ ভাই মজিবুর রহমান খালেক ফুলের তোড়া হাতে দিয়ে অভিনন্দন জানান।

Advertisements