অন্যরকম খবর

হতদরিদ্র থেকে বিলিয়নিয়র হয়েছেন যে ১৯ ব্যক্তি

1aসকল বিলিয়নিয়ারই মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মাননি। এমনকি প্রকৃতপক্ষে অনেকেই একেবারে শূন্য থেকে উঠে এসেছেন। আর এটাই বাস্তবতা।

এখানে এমন ১৯ জনের পরিচিতি তুলে ধরা হলো, যারা হতদরিদ্র হিসেবে জীবন শুরু করলেও পরে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছিলেন।

১. স্টারবাকস এর মালিক হাওয়ার্ড শুলটজ গরিবদের জন্য নির্মিত একটি হাউজিং কমপ্লেক্সে বড় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ২.৯ বিলিয়ন ডলারের মালিক।
একটি ফুটবল স্কলারশিপ পেয়ে উত্তর মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি জেরক্স নামের একটি কম্পানিতে কাজ করতে যান। এর কিছুদিন পর তিনি স্টারবাকস নামে একটি কফি শপ কম্পানির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি চাকরিতে যোগদানের সময় স্টার বাকস এর মাত্র ৬০টি কফি শপ ছিল। ১৯৮৭ সালে কম্পানিটির সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশ্বব্যাপী কফি চেইনটির ১৬ হাজার দোকান খোলেন তিনি।

২. দারিদ্র্যের মাঝে জন্ম গ্রহণ করেও অপরাহ উইনফ্রে ন্যাশভিলের প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান টেলিভিশন করসপনডেন্ট হন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২.৯ বিলিয়ন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও টেনেসি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ যোগাড় করতে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি উইনফ্রেকে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান টিভি করসপনডেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৮৩ সালে উইনফ্রে শিকাগোতে একটি রেডিও টক শোতে কাজ শুরু করেন। ওই শোটিই পরবর্তীতে দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

৩. মন্টপেলিয়ার রাগবি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং বছরের সেরা উদ্যোক্তা মোহেদ আলট্রাড সিরিয়া থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার আগে দিনে মাত্র একবেলা খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ১.০৩ বিলিয়ন ডলার।
সিরিয় মরুভূমির এক যাযাবর গোত্রের দরিদ্র মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। তার মা নিজ বাবার হাতে ধর্ষিত হয়েছিলেন এবং অল্প বয়সেই মৃত্যু বরণ করেন। বর্তমানে আইএস এর রাজধানী রাক্কার এক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি ফ্রান্সে যান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে।
ফ্রান্সে গিয়ে প্রথমে তিনি দিনে মাত্র একবেলা খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। তবে এরপরও তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ফরাসি কম্পানিতে কাজ করেন। একসময় তিনি রাজমিস্ত্রিদের জন্য মাচা তৈরিকারী একটি ব্যর্থ কম্পানি কিনে নেন। সে কম্পানিটিকেই তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাজমিস্ত্রিদের জন্য মাচা সরবরাহকারী এবং সিমেন্ট মিক্সার কম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

৪. এক্সেল কমিউনিকেশনস এর প্রতিষ্ঠাতা কেনি ট্রাউট লাইফ ইনস্যুরেন্স বিক্রি করে তার কলেজের খরচ যোগাতেন। বর্তমানে তিনি ১.৪১ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ১৯৮৮ সালে তিনি এক্সেল কমিউনিকেশনস নামের ফোন কম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন যা ১৯৯৮ সালে টেলিগ্লোব নামের একটি কম্পানির সঙ্গে একীভূত হয়, ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির বিনিময়ে।

৫. রাশিয়ান ব্যবসায় টাইকুন এবং চেলসিয়া ফুটবল ক্লাবের মালিক রোমান আব্রামোভিচ চরম দারিদ্র্যের মাঝে জন্ম গ্রহণ করেন এবং মাত্র দুই বছর বয়সে এতিম হয়ে পড়েন। তিনি বর্তমানে ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক।
১৯৮৭ সালে মস্কোর অটো ট্রান্সপোর্ট ইনস্টিউটে পড়ার সময় তিনি একটি ছোট কম্পানি শুরু করেন যাতে ছোট প্লাস্টিক খেলনা তৈরি করা হত। সেখান থেকে তেল ব্যবসা শুরু করে তিনি রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেন। ২০০৫ সালে তার প্রতিষ্ঠিত সিবনেফ্ট কম্পানিটি রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত দানবীয় গ্যাস কম্পানি গ্যাজপ্রমের সঙ্গে একীভূত হয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল কম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। গ্যাজপ্রম তার কম্পানিটি ১৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয়।
২০০৩ সালে তিনি চেলসিয়া ফুটবল ক্লাবটি কিনে নেন। ২০১০ সালে তিনি ৪০০ মিলিয়ন ডলারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইয়টটি কিনে নেন।

৬. শীর্ষ বিনিয়োগকারী কেন ল্যাঙ্গোনস এর বাবা-মা কাজ করতেন প্লাম্বার এবং ক্যাফেটেরিয়া শ্রমিক হিসেবে। বর্তমানে তিনি ২.৮ বিলিয়ন ডলারের মালিক।

৭. একটি চুলের যত্ন সাম্রাজ্য এবং টাকিলার পৃষ্ঠপোষক জন পল ডি জোরিয়া একসময় বাস করতেন একটি পালিত বাড়িতে এবং নিজের গাড়িতে। বর্তমানে ৩.১ বিলিয়ন ডলারের মালিক তিনি। মাত্র ১০ বছর হওয়ার আগেই পরিবারকে সহায়তা করার জন্য প্রথম প্রজন্মের আমেরিকান পল ডি জোরিয়া ক্রিসমাস কার্ড ও পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন। সেখান থেকে তাকে একটি পালিত বাড়িতে পাঠানো হয় এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে তিনি কিছুদিনের জন্য একটি ডাকাতদলেও যোগ দিয়েছিলেন।
মাত্র ৭০০ ডলার ঋণ নিয়ে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে শ্যাম্পু বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। এ সময় তিনি নিজ গাড়িতেই থাকতেন। পরে তিনি টাকিলায় বিনিয়োগ শুরু করেন এবং বর্তামানেও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন।

৮. পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী শাহিদ খান ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থালা-বাসন ধুয়ে ঘণ্টায় ১.২০ ডলার আয় করতেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৬.৭ বিলিয়ন। খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট কম্পানিগুলোর একটি ফ্লেক্স-এন-গেট এর মালিক।

৯. ফরএভার ২১ এর প্রতিষ্ঠাতা দো ওন চ্যাঙ্গ কোরিয়া থেকে ১৯৮১ সালে আমেরিকায় আসার পর একজন কেয়ারটেকার, গ্যাস স্টেশন কর্মী এবং কফি শপের ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ২.৮ বিলিয়ন। ১৯৮৪ সালে স্ত্রী জিন সুকের সঙ্গে মিলে তারা ফরএভার ২১ নামের একটি কাপড়ের দোকান খোলেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তাদের ৪৮০টি দোকান আছে যেগুলো থেকে তাদের বছরে আয় হয় ৩ বিলিয়ন ডলার।

১০. ৫.৮ বিলয়ন ডলারের মালিক র‌্যালফ লরেন একসময় ব্রুকস ব্রাদার্সের কেরানি ছিলেন। নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস থেকে উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়া শেষে কলেজে গিয়েও ছিটকে পড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বুকস ব্রাদার্সে কাজ করার সময় তিনি পুরুষদের জন্য প্রশস্ত এবং উজ্জ্বল ডিজাইনের টাই তৈরি করে খ্যাতি পান। ১৯৬৭ সালে নিজের ডিজাইন করা টাই বিক্রি করে তিনি পাঁচ লাখ ডলার আয় করেন। এর পরের বছরই তিনি পোলো কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

১১. ১৩.৩ বিলিয়ন ডলারের মালিক স্টিল টাইকুন লক্ষ্মী মিত্তাল ১৯৫০ সালে ভারতের রাজস্থানের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০ বছর ধরে একটি ডিসকাউন্ট গুদামে কাজ করে স্টিল শিল্পে তার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে মিত্তাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টিল উৎপাদক কম্পানির মালিক।

১২. বর্তমানে ১৪.৬ বিলিয়ন ডলারের মালিক, বিলাস দ্রব্যের মোগল ফ্রাঁসোয়া পিনল্ট ১৯৭৪ সালে স্কুল ছেড়েছিলেন দারিদ্রের কারণে অপমানিত হওয়ায়। তার মালিকানায় রয়েছে বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড কেরিং (আগের নাম পিপিআর)। তার কম্পানির মালিকানায় আছে গুচি, স্টেলা ম্যাক কার্টনি, আলেক্সান্দার ম্যাক কুইন এবং ইভেস সেইন্ট লরেন। এখন তিনি ক্রিস্টি নামে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্প ব্যবসার মালিক।

১৩. লিওনার্ডো ডেল ভেচ্ছিও একটি এতিমখানায় বড় হয়েছেন। পরে তিনি একটি কারখানায় কাজ করতে গিয়ে হাতের একটি আঙুলের অংশ হারান। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি ছাঁচ নির্মাণ দোকান খোলেন। যা পরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সানগ্লাস তৈরিকারী কম্পানিতে রুপান্তরিত হয়। তিনি রে বেন এবং ওকলে এর মতো চশমার ব্র্যান্ডগুলোকেও ব্যবসায় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার।

১৪. কিংবদন্তি বণিক জর্জ সোরোস হাঙ্গেরিতে নাৎসি বাহিনীর হামলার সময় পালিয়ে বেঁচে ছিলেন। এরপর ১৯৪৭ সালে তিনি লন্ডনে চলে আসেন দরিদ্র এক কলেজছাত্র হিসেবে। লন্ডনে একজন ওয়েটার এবং রেলওয়ের কুলি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকস এ পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি একটি উপহার সামগ্রীর দোকানে কাজ করেন। সেখান থেকে পরে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ব্যাঙ্কার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯২ সালে ব্রিটিশ পাউন্ডের বিরুদ্ধে বিখ্যাত বাজি থেকে তিনি বিলিয়ন ডলার আয় করেন। বর্তমানে তিনি ২৪.৯ বিলিয়ন ডলারের মালিক।

১৫. বর্তমানে ৩১.১ বিলিয়ন ডলারের মালিক ব্যবসায় ম্যাগনেট লি কা শিং তার বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারকে সহায়তা করার জন্য বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার বাবা মারা যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫। ১৯৫০ সালে তিনি চেউং কোং নামের শিল্প কারখানা স্থাপন করেন যেখানে প্লাস্টিক উৎপাদনক করা হত। পরে তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসাও শুরু করেন।

১৬. কলেজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়া শেল্ডন অ্যাডেলসন বোস্টনের একটি ভাড়া বাড়ির মেঝেতে ঘুমিয়ে বড় হয়েছেন। তার বাবা ছিলেন ক্যাব ড্রাইভার। আর মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন। কলেজে পড়া শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ভেন্ডিং মেশিন চালিয়ে, পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিক্রি করে, ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগের প্রচারণা চালিয়ে এবং বাণিজ্য শো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে তিনি লাস ভেগাস স্যান্ডস নামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনোর মালিক। ফোবর্স এর মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় দাতাতের একজন। বর্তমানে ৩১.২ বিলিয়ন ডলারের মালিক তিনি।

১৭. ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন কলেজ থেকে ঝরে পড়েছিলেন তার পালিতা মায়ের মৃত্যুর পর। এরপর আট বছর ধরে তিনি ছুটা কাজ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি সফটওয়্যার কম্পানি ওরাকল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি ৪৮.৭ বিলিয়ন ডলারের মালিক।

১৮. সার্কাস দল ক্রিক দু সোলেইল প্রতিষ্ঠার আগে গায় ল্যালিবার্তে ছিলেন সার্কাসের একজন আগুন ভক্ষক। বর্তমানে লাসভেগাসের বিখ্যাত ওই সার্কাস দলের সিইও হিসেবে কর্মরত আছেন গায় ল্যালিবার্তে। তার সম্পদের পরিমাণ ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার।

১৯. ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠাতা জ্যান কৌম মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার মার সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে তারা সরকারি সহায়তায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হন। সে সময় বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি একটি স্থানীয় দোকানে ঝাড়ুদারের কাজ করতেন।
কম্পিউটারে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল মেসেজিং কম্পানি হোয়াটসঅ্যাপের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে ২২ বিলিয়ন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেয় ফেসবুক। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৮.৮ বিলিয়ন ডলার।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

ভিডিওঃ পরিচালককে হুমকি দিলো সানির স্বামী! (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment