Default

সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন: আলোচনায় যারা

বিশেষ প্রতিনিধি ।।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল আসছে। এর আগে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে এমন কথা জানানোর পর কয়েকবার এ নিয়ে দলীয় ফোরাম ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হলেও বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি। তবে সরকার ও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তা কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে নতুন মুখ হিসাবে সরকারের সাবেক ৩ জন মন্ত্রীকে বিবেচনায় আনা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের তরুণ এমপিদের বিবেচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় নতুন কারা আসতে পারেন এ নিয়েও চলছে দলের ভিতরে বাইরে বিস্তর আলোচনা। তবে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় রদবদলের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুন মুখ আসতে পারে। পাশাপাশি রাজনীতিতে পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ৯ম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক মন্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে টেকনোকেট মন্ত্রী করা হতে পারে।

সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ২ জন সদস্য যারা সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। তারা হচ্ছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন দলের প্রতি অনুগত, অপেক্ষাকৃত তরুণ, মাঠ পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য এবং নিজ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় যারা নিজেদের ক্লিন ইমেজ নিয়ে আগামী নির্বাচনেও দলকে জিতিয়ে আনতে পারবেন তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ৫ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুজন নারী সংরক্ষিত আসনের এমপি রয়েছেন। যারা দল ও তৃণমূলে কাজ করে যাচ্ছেন।

সূত্র আরো জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বিবেচনার তালিকায় ঠাঁই পাওয়াদের মধ্যে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা ৪ আসনের এমপি জগলুল হায়দার, যিনি তৃণমূল চষে বেড়াচ্ছেন এবং ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ থেকে ইস্রাফিল আলম, সিরাজগঞ্জের ড. হাবিবে মিল্লাত এবং ফরিদপুরের আবদুর রহমান যিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র আরো জানিয়েছে, দুইজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যকে ক্লিন ইমেজে ও দলের জন্য কাজ করার পুরষ্কার হিসাবে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে। চাঁদপুরের এ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা এবং জামালপুরের মেহজাবিন খালেদ মোশাররফকে প্রতিমন্ত্রী অথবা উপমন্ত্রী করার চিন্তাভাবনা করছে সরকারের ওপরের মহল।

তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন আসবে। বহুদিন হলো মন্ত্রিপরিষদে রদবদল হয় না। তবে কারা আসবেন, এটা শুধু প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্য কারা হবেন, তা এখন বলা সম্ভব নয়। আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান শোকের মাস আগস্টের পরই মন্ত্রিসভায় রদবদল হোক। সর্বশেষ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টা মোটামুটি চূড়ান্ত করে রেখেছি। এ মাসে তো বাজেট অধিবেশন শেষ হচ্ছে। আর আগস্ট মাসে তেমন কিছু করতে চাই না। সেপ্টেম্বরের দিকে বিষয়টা চূড়ান্তভাবে সবার সমানে আনা হবে।