Advertisements
অন্যরকম খবর

সিরাজগঞ্জে সমকামী দুই সতিনের কাণ্ড…

দ্বিতীয় স্ত্রীর চাপেই তৃতীয় বিয়ে করেন আব্দুর রহমান! আর স্ত্রী হিসেবে দুই সন্তানসহ তার ঘরে আসে স্কুল শিক্ষিকা বিলকিস।  দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রী সমকামিতা করছে বলে অভিযোগ তার।  এ জন্যই তাকে তৃতীয় বিয়ে করতে বাধ্য করেন দ্বিতীয় স্ত্রী।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ধর্ষণের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন দুই সতিনের এ পতি।  এ দুই সতিনের বিরুদ্ধে এলাকায় মেয়েদের প্রলোভনে ফেলে অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ডি.ডি শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বিলকিস বেগম।  সে নান্দিনামধু গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে।  অপর অভিযুক্ত হলেন, বড়কুড়া গ্রামের নাজিমুদ্দিন প্রমাণিকের মেয়ে মরিয়ম খাতুন।

এ ঘটনায় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের স্বামী আব্দুর রহমান বলেন, প্রায় তিন বছর আগে মরিয়মকে দ্বিতীয় বিয়ে করি।  বিয়ের পর থেকে সে মোবাইলে দিনের বেশির ভাগ সময় কথা বলত।  পরে জানতে পারি সে স্কুল শিক্ষিকা বিলকিসের সঙ্গে কথা বলে।  একপর্যায়ে স্কুল শিক্ষিকা বিলকিস তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দুই সন্তানসহ আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাড়িতে চলে আসে।  এ নিয়ে দ্বন্ধ শুরু হলে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের চাপে ২০১৫ সালের ৫ মে স্কুল শিক্ষিকা বিলকিসকে তৃতীয় বিয়ে করি।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর দেখি তারা দুজনে ঘরের দরজা বন্ধ রেখে দীর্ঘসময় কাটায়।  একদিন দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই।  বিষয়টি বাড়ির সকলেই দেখে ফেলে।  এ নিয়ে ঝগড়া হলে স্কুল শিক্ষিকা বাড়ি থেকে চলে যায়।  পরে মরিয়মও তার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় তাদের দুই জনকে বোঝানের চেষ্টা করি।  কিন্তু তারা দুজনই আমাকে ডিভোর্স দেয়।  আমাকে ফাঁসানের জন্য মরিয়ম বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।  মামলার স্বাক্ষী স্কুল শিক্ষিকা বিলকিস।  এ অবস্থায় গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে আমাকে।

জানা গেছে, বর্তমানে দুই অভিযুক্ত কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের মুছা মন্ডলের বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করছেন।  সেখানেও তারা সমকামিতায় লিপ্ত হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।  বিষয়টি নিয়ে বিলকিসের সাবেক শ্বশুর ও মরিয়মের মা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন মরিয়মের মা রহিমা খাতুন।  তিনি মনে করেন তার মেয়ে মরিয়ম ও স্কুল শিক্ষিকা বিলকিস সমকামিতা করে সমাজকে নষ্ট করে ফেলছে।  নিষেধ করায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।  এর প্রতিবাদ কারয় আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে দাবি করেন রহিমা খাতুন।

এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষিকা বিলকিসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আমরা যা খুশি করব, তাতে আপনাদের কি? আপনারা লিখে যা করতে পারেন করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাবার পর কামারখন্দ থানাকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাসুদেব সিনহা জানান, অভিযোগ পাবার পর প্রাথমিকভাবে দু’জনকে সংশোধনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।  তারপরেও না শুনলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisements