Advertisements
slider আন্তর্জাতিক

সিকিমকে স্বাধীন করে দেয়ার হুমকি চীনের

দিল্লিকে প্যাঁচে ফেলতে এ বার সিকিম ও ভুটানে ভারত-বিরোধী আবেগ খুঁচিয়ে তোলার হুমকি দিল চীন। সে দেশের সরকারি সংবাদপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর একটি উত্তর-সম্পাদকীয়তে দিল্লির উদ্দেশে বলা হয়েছে, দালাই লামাকে ব্যবহার করার কৌশল পুরনো হয়ে গিয়েছে। ওই পথে ভারতের কোনো লাভ হবে না। উল্টে দিল্লির পক্ষে সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে পাল্টা তাস খেলতে পারে বেইজিং। তার জেরে এমনিতেই অশান্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল আরও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। বদলে যেতে পারে দক্ষিণ হিমালয়ের ভূরাজনীতি। খবর গ্লোবাল টাইমসের।

সিকিম সীমান্তে টানাপড়েন নিয়ে রোজই দিল্লিকে নানারকম কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছে ড্রাগন। সেই হুমকির সুরেই ‘গ্লোবাল টাইমস’ বৃহস্পতিবার প্রথমে সম্পাদকীয়তে বলেছে, ‘ভারত যদি চীনের সঙ্গে এবার সংঘাতে যেতে চায়, তা হলে ১৯৬২ সালের থেকেও বেশি লোকসান হবে তাদের। ভারত নিজেদের সম্মান বজায় রেখে ডোকলাম এলাকা থেকে তাদের সেনা সরিয়ে নিক। না হলে ভারতীয় সেনাকে আমরা তাড়িয়ে ছাড়ব।’ ভারতীয় সেনাকে উৎখাত করার প্রয়োজনীয় শক্তি যে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) রয়েছে, তা-ও মনে করিয়ে দেয়া হয়েছিল।

সেই হুমকিই পরে কয়েক পর্দা চড়েছে। কাগজটি সরাসরি বলেছে, ‘সিকিমের ভারতে অন্তর্ভুক্তি ২০০৩ সালে মেনে নিয়েছিল বেইজিং। কিন্তু তা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। সিকিমের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থনের সুর এখনও রয়েছে চীনে। সেই সমস্ত কণ্ঠস্বর সিকিমের স্বাধীনতার দাবিকে তুলে ধরবে।’

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ‘ভুটানের কূটনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত। ভারতের চাপেই চীন বা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে পারছে না ভুটান। চীনের এলাকায় ঢুকে রাস্তা তৈরিতে বাধা দিচ্ছে ভারত। আর মুখে বলছে ভুটানের সার্বভৌমত্বের কথা। ভারতকে এর মাসুল দিতে হবে।’

সিকিম সীমান্তের ডোকা লা-য় চীনা সেনার রাস্তা বানানোর উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছে ভুটান। এর পরেই রাস্তা বানানোর বিষয়ে আপত্তি তোলে নয়াদিল্লিও। ভারতের মতে, ওই এলাকা চীনের নিজের নয়। সেখানে সামরিক উদ্দেশে রাস্তা বানানোর অধিকার নেই তাদের। এই প্রেক্ষাপটেই বেইজিং আজ দাবি করেছে, ডোকলাম এলাকা নিয়ে থিম্পুর সঙ্গে তাদের কোনও রকম বিতর্ক নেই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং মন্তব্য করেছেন, ‘প্রাচীনকাল থেকেই এই এলাকা চীনের। এ নিয়ে কখনও কোনও বিতর্ক ছিল না।’ চীন ও ভুটান সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই ২৪ বার আলোচনাও সেরে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে ভুটানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চালাতেই পারি।’ ভারতের উদ্দেশে তার অভিযোগ, ‘দিল্লি পঞ্চশীল নীতিকে অসম্মান করেছে। এখন নিজেদের ভুল শুধরে তাদের উচিত ডোকলাম থেকে সেনা প্রত্যাহার করা।’

দু’দেশের এই টানাপড়েনের মধ্যে বেইজিং সে দেশের নাগরিকদের ভারতে আসার বিষয়ে সতর্কতাও জারি করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র।

বেশি রাতে চীন অবশ্য বলেছে, নাথুলা পাস দিয়ে যে তীর্থযাত্রীরা কৈলাস মানস সরোবরে যেতে চেয়েছিলেন, তাদের বিকল্প রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হবে।

Advertisements