বিনোদন

সালমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন পরিচালক রাজু

সালমান শাহ অভিনীত অন্যতম সিনেমা ‘জীবন সংসার’। এতে আরো অভিনয় করেন শাবনূর। এ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় অভিষেক ঘটে জাকির হোসেন রাজুর। জাতীয় পুরস্কারজয়ী এ নির্মাতা জানান, সালমানের কিছু কথা এখনো তার কানে বাজে, স্মৃতিগুলোও তাজা।

সম্প্রতি সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রুবির ভিডিও বার্তার পর এ নায়ককে নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। রাজু ফেসবুকে লিখছেন সালমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা।

তিনি লেখেন, ‘রোমান্টিক চরিত্রে সালমানের বিকল্প ছিল না, এখনো গড়ে ওঠেনি। রাজ্জাক ভাইয়ের পরে এ দেশের চলচ্চিত্রে একমাত্র সালমানই অভিনয়ে স্বকীয় ধরন তৈরি করতে পেরেছিল। দর্শকদের হলমুখো করতে সমর্থ হয়েছিল সে। আবার কবে, কতদিন পরে যে সালমানের মতো অভিনেতা আসবে, আমরা পাবো— সন্দেহ আছে।’

রাজু লেখেন, “সালমানকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজে পরামর্শ দিত। তবুও আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থকতাম। তখন সে রাগ করত, অভিমান করত। আমি তো কেবল (জীবন সংসার) পরিচালক হলাম। অনেক বড় বড় পরিচালক ওর কথা শুনত, শুনতে বাধ্য হতো। পরে আমার ছবির রাশ দেখে, ডাবিং শেষে আমাকে বলত, ‘রাজু ভাই, আপনি ভালো পরিচালক হবেন।”

সালমান প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ ছিলেন কিন্তু বাইরে থেকে বোঝা যেতো না— উল্লেখ করে বলেন, “জীবন সংসার’-এর ১৫ নাম্বার রিলে শাবনূরের বিষ খাওয়ার একটা সিকোয়েন্স আছে। শুটিং করার সময় সালমান শাহ্-শাবনূর দুজনেই দরদ দিয়ে, অনেক আন্তরিকতার সাথে অভিনয় করে। ওদের অভিনয়শৈলী গোটা এফডিসিতে সে সময় আলোড়ন তুলেছিল। খুবই ভালো করেছিল সালমান, শাবনূরও। তাদের আগ্রহ ছিল পুরো সিকোয়েন্সটা স্ক্রিনে দেখবে, ডাবিং করার সময় খণ্ড খণ্ড দেখে ওদের মন ভরেনি। এই সিকোয়েন্সটা দেখার জন্যে সালমান ল্যাবে এসে অনেক্ষণ বসেছিল। তখনো ১৫ নাম্বার রিলটি প্রিন্ট হয়নি, বসে আছে তো আছেই ও আর ল্যাব ছেড়ে যায় না! প্রিন্টিং ও ডেভেলপে সালমান নিজে গিয়ে ওদের বলেছিল— ভাই, এই রিলটা আগে করে দিন। প্রজেকশন রুমে শুয়ে শুয়ে ও পুরো রিলটা দেখে। শেষ হওয়ার সাথে সাথে এসে আমাকে জাপটে ধরে রাখে। কথা নেই, বার্তা নেই। সে কী বলতে চাইল সে জানে, আমি কী বুঝলাম আমি নিজেও জানি না! এরপর ল্যাব ছেড়ে সে সোজা বেরিয়ে যায়।”

মৃত্যুর একদিন আগের ঘটনা উল্লেখ করেন রাজু— ‘শিবলি ভাইয়ের (শিবলি সাদিক) ছবির শুটিংয়ে ওর সাথে আমার শেষ দেখা হয়। ও গাড়ির উপর বসে শট দিচ্ছিল, আমি শুটিং স্পটের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। আমাকে দেখতে পেয়ে গাড়ির উপর বসেই শিবলি ভাইকে বলছিল, জিনিস ছোট হলেই খারাপ হয় না। শিবলি ভাই প্রথমে বুঝতে পারেনি। কাছে গেলে শিবলি ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, সালমান ঠিকই বলেছে। তার প্রমাণ আমি সেন্সর বোর্ডে পেয়েছি। ওখানে আমার ছবির সেন্সর প্রিন্ট করাতে গেলে ওরা আমাকে বলেছিল— অনেক দিন পরে ভালো একটা ছবি দেখলাম।’

রাজু জানান, সালমানকে নিয়ে আরেকটি ছবির পরিকল্পনা করেছিলেন। সালমান তা জানতে পেরে বলেছিলেন, ‘আমাকে নিয়ে কাজ করার জন্যে অনেক পরিচালক, প্রযোজক ঘুরে বেড়াচ্ছে। শিডিউল দিতে পারছি না। অনেকে হয়তো ছয় মাস ঘুরেও পাবে না, কিন্তু আপনি ঘরে বসে পেয়ে যাবেন। আমার শিডিউল আপনাকে ভূতে জোগাড় করে দিবে। আপনি যেদিন নতুন ছবি পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন সেদিনই আমার কাছে চলে আসবেন। এখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমান।’

এরপর ‘পোড়ামন’-খ্যাত এ নির্মাতা লেখেন, “নাকে তেল দিয়ে ঘুমান’ সালমান শাহ্ এই কথাটি রাতে এখনো আমার কানে বাজে। যখন ওর কথা মনে পড়ে ভীষন খারাপ লাগে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ওর কত স্মৃতি, মনে পড়ে ১৫ নাম্বার সিকোয়েন্সটা দেখার পরে আমাকে জাপটে ধরার কথা। আমি জাকির হোসেন রাজু ‘সালমান শাহ্’র হত্যাকারীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।”

১৯৯৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান সালমান শাহ। সব মিলিয়ে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যার বেশিরভাগই হিট। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন এ নায়ক। সালমানের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে দুই দশক ধরে বিতর্ক চলছে।