জাতীয়

সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, জেলেদের মুখে হাসি

অবশেষে সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়তে শুরু করেছে ইলিশ। মৌসুম শুরু হওয়ার পরও ইলিশের বাজারে আকাল চলছিল।

গত চার দিন ধরে বরিশাল নগরীর ইলিশের মোকামে ট্রুলার ভর্তি করে আসতে শুরু করেছে রুপালি ইলিশ। তবে এখনও স্বাদে অনন্য নদীর ইলিশ আসছে কম।

সোমবার বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে ইলিশের মোকামে দেখা যায় কেউ ট্রুলার থেকে ইলিশ নামাচ্ছেন, কেউ আড়তের সামনে ইলিশের স্তূপ দিচ্ছেন। আরেক দল শ্রমিক ইলিশ ওজন দেয়ার কাজে ব্যস্ত। বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা পাইকারদের সঙ্গেও দরদামে ব্যস্ত আড়তদার ও তাদের লোকজন। কথা হয় কয়েকজন আড়তদারের সঙ্গে।

তারা জানান, যেভাবে ইলিশ আসতে শুরু করেছে তাতে আগামীতে ইলিশের এই চড়া মূল্য কমতে বাধ্য। মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আরও অন্তত এক থেকে দেড় মাস ইলিশের আধিক্য থাকবে। তবে উন্নত ও আধুনিক সরঞ্জামের সঙ্গে প্রশিক্ষিত জেলে থাকলে সাগর থেকে আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ আহরণ সম্ভব হতো।

আড়তদার মো. শাহাজাদা বলেন, এখন নদীর ইলিশ কম। সাগর থেকে বেশি ইলিশ আসছে। গত চার দিন ধরে ইলিশ আসছে। প্রতিদিনই এক থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশ মাছ আসছে। নদীর ইলিশের চেয়ে সাগরের ইলিশের দাম কম। নদীর রফতানিযোগ্য (এসসি সাইজ) ইলিশের মণ ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৩০ হাজার ও এর নিচের সাইজের ইলিশের মণ ১৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে সাগরের ইলিশ গড় হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় হয়। সাগরের ইলিশ মণ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়।

শাহাজাদা বলেন, মাছ আসার ধারা অব্যাহত থাকলে ইলিশের দাম আরও কমবে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল দাস বলেন, বর্তমানে ইলিশ মৌসুম হওয়ায় সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ছে। কিন্তু মাছ শিকার পদ্ধতি মান্ধাতার আমলের হওয়ায় জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ছে কম। আধুনিক ও উন্নত সরঞ্জামাদি ব্যবহার এবং জেলেদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যাপারে প্রত্যেক ট্রুলার মালিককে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।