Advertisements
খেলা-ধুলা

সরফরাজপুত্রকে কোলে নিয়ে ভক্তকুলের প্রশংসায় ভাসছেন ধোনি

তারা প্রতিনিধিত্ব করেন ভিন্ন দেশের। ক্রিকেট মাঠে যখন নামেন তখন তারা তাই একে অপরের শত্রুই। কিন্তু আবার এক অর্থে তো তারা সবাই সহযোদ্ধা বা সহকর্মী। একজন সমকর্মী কোনো আরেক সহযোদ্ধার সন্তানকে নিয়ে ছবি তুললে তা স্বাভাবিক ঘটনাই। কিন্তু ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের আগের রাতে যা করলেন তা মুগ্ধ করার মতো। পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ছেলেকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছেন ধোনি। যেই ছবিটা এখন সোশাল মিডিয়ায় ভাইরালের মতো।

পরের দিনই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান লড়াই। তার আগে এমন ছবি অবশ্য ক্রিকেটীয় ভাতৃত্বের গানই গাইছে। কিন্তু দুই দেশের সীমান্ত আর রাজনীতিতে যে উত্তাপ তাতে ধোনির ওই ছবি কল্পনা করা কি একটু কঠিন না! তাই হোটেল লবিতে সরফরাজ পুত্রকে নিয়ে তোলা ধোনির ছবি প্রশংসাই কুড়িয়েছে সবার।


ভারত-পাকিস্তানের রাজনীতিতে এখন এমনই উত্তাপ যে দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ কল্পনাই করা যায় না। ২০১৩ সালে সর্বশেষ দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল দুই দল। এরপর আর তা সম্ভব হয়নি। কদিন আগেই যেমন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হলেও ভরতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসে, এখনই তা সম্ভব নয়। এটা না হয় দুই দেশের রাজনীতির ব্যাপার। কিন্তু পরিধিটা যদি একটু ছোট করে আনা হয়, তখনও দেখা যাবে সমান উত্তেজনা। গত ডিসেম্বরেই যেমন রিপন চৌধুরি নামে এক ভারতীয় ভক্ত জেলে গেলেন পাকিস্তানের জার্সি গায়ে জড়ানোর অপরাধে। অথচ সেই ভারতীয় নাগরিক শহীদ আফ্রিদির ভক্ত বলে প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা থেকেই জার্সিটা পরেছিলেন শুধু।  গত বছর শুরুর দিকেও ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছিল পাকিস্তানেও। এক পাকিস্তানি কোহলি ভক্ত গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নিজের বাড়ির ছাদে ভারতের পতাকা উড়িয়ে। এই যখন অবস্থা, তখন ধোনির কাজটি সাহসী পদক্ষেপই বলা যেতে পারে । যা অনুচ্চারে গাইছে ক্রিকেট ভাতৃত্বের গান।

তবে রাজনীতিতে দুই দেশের উত্তাপটা যেমনই হোক, দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে বন্ধনটা অন্য দেশের সঙ্গে যেমন তেমনই। শহীদ আফ্রিদির অবসরের পর পাকিস্তানি তারকাকে কোহলির দেওয়া উপহারটাই তার প্রমান। কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটারদের অটোগ্রাফসহ নিজের একটি জার্সি উপহার দিয়েছিলেন আফ্রিদিকে।

Advertisements