slider আন্তর্জাতিক জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

সন্তান হারা এক রোহিঙ্গা মায়ের না বলা যত কথা!

রেহেনা আক্তার রেখা: আয় খুকু আয়…আয় খুকু আয়…আয়রে আমার সাথে আয় এক্ষুনি,আয়রে আমার কাছে  আয় মামণি।ছেলে হারা সৈয়দা খাতুন (৩০)  এখন প্রতিদিন কক্সবাজারের কতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে এমনভাবে ডাকে তার মৃত শিশুকে  । সে জানে তার ছেলে কখনো তার ডাকে সাড়া দিবেনা তবুও সে এভাবে ছেলেকে ডেকে অঝোরে কেঁদে মনের কষ্ট কিছুটা কমাতে চেষ্টা করে । জুমবাংলা ডট কমের প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, কল্পনায় আমার ছেলেকে ডাকলেও আমি মনের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রশান্তি খোঁজে পাই।

তিনি আরো বলেন, আমার পাঁচ বছরের ছোট্ট ছেলে নূর কাদেরকে ওরা মেরে ফেলেছে। মা হয়ে ছেলের এই অপমৃত্যু আমি কিছুতে সহ্য করতে পারছিনা। এভাবে সৈয়দা খাতুন ছেলের মৃত্যুর কথা  জুমবাংলা ডট কমকে বলতে গিয়ে অঝোরে কান্না করে । যে কান্নার মাঝে বার বার লক্ষ করা গেছে ছেলে হারা মায়ের ছেলের হত্যাকারীদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার আকুতি । শুধু সৈয়দা খাতুন নয় আরো লক্ষ লক্ষ মাকে সন্তান হারা করেছে মায়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।

রোহিঙ্গারা দিনের পর দিন নির্যাতিত , নিপিড়িত হচ্ছে তথাকথিত এই “শান্তিবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষু”দের দ্বারা। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা কতটা অহিংস শান্তিবাদী তা বার বার প্রমাণ দিচ্ছে এভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর অমানসিক নির্যাতণ করে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন। তারা সরকারি অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এবং দুইটির বেশি সন্তান না নেওয়ার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়।রোহিঙ্গারা এভাবে বার বার মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছে এবং তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

১৯৪২ সালে বাংলাদেশে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। এরপর ১৯৭৮ ও ৯২ সালে অনুপ্রবেশকরে ২ লাখ ৫০ হাজার।২০১২ সালের জুনেও মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।ওই সময় সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নেন। তার পরও অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। তবে এর সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট থেকে মিয়ানমারে শুরু হয়েছে নতুন করে সহিসংতা । আর তাই এই অল্প কয়েকদিনে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বাংলাদেশে।

এদিকে হঠাৎ করে এত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আগমন করলে স্থানীয় লোকরজন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ।এ ব্যাপারে  স্থানীয়,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী  তোফায়েল  আহম্মদ বলেন, অনেকদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি আসলাম, খুব ভালভাবে ঈদ কাটাবো বলে। কিন্তু যে হারে এলাকায় রোহিঙ্গার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ভালভাবে ঈদ কাটানো তো দূরের কথা, অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে দম বন্ধ হয়ে আসছে ।

তিনি আরো বলেন, এলাকায় মাত্রারিক্ত রোহিঙ্গা প্রবেশ করায় জনসংখ্যার ঘনত্ব তীব্রহারে বেড়ে যাচ্ছে ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে । এছাড়া অতিরিক্ত মানুষের কারণে এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ‍দিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন হুমকির মুখে পড়েছে ।