বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

শেয়ারেন্টিং থেকে বাবা-মায়েরা সাবধান !

1aআধুনিক যুগে গর্ভের শিশু দুনিয়াতে আসার আগেই তার ডিজিটাল পায়ের ছাপ চলে আসে বাবা-মায়ের হাতে। গর্বিত বাবা-মায়েরা গর্ভধারণের প্রথম দিন থেকেই তার জানান দিতে থাকেন। সোশাল মিডিয়ায় আগত সন্তানের যাবতীয় তথ্য আসতে থাকে। শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে ডিজিটাল দুনিয়ায় তার জীবনের বিভিন্ন স্তর বিস্তারিত তথ্য আকারে প্রকাশ হতে থাকে। অবশেষে শিশুটি যখন প্রথম কথা বলতে শেখে, তার আগেই কয়েক জিবি নাম ও অন্যান্য তথ্য তার জন্য জমা পড়ে গেছে। ডিজিটালি শিশুদের এভাবে তুলে ধরার জন্য বিরক্তি প্রকাশের সুযোগও তাদের নেই। ডিজিটাল দুনিয়ায় নতুন এক ট্রেন্ডের নাম ‘শেয়ারেন্টিং’। এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে বাবা-মায়ের।

শেয়ারেন্টিং কি? : এটা এমন এক অবস্থার নাম যখন সোশাল মিডিয়ায় শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়েরা মাত্রাতিরিক্ত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করে থাকেন।

যে কারণে এড়িয়ে চলতে হবে : মনোবিজ্ঞানী ড. হরিশ শেঠি জানান, যখন কোনো বাচ্চা হারিয়ে যায়, তখন সোশাল মিডিয়ায় তাদের ছবি প্রকাশ করায় তাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুন হয়ে যায়। সাহায্য চেয়ে এমন ছবি প্রকাশও বেশ কাজের। কিন্তু বিষয়টা লজ্জা, ট্রমা বা সহায়তার বিষয় প্রকাশ করে। বাচ্চাদের ছবি সোশাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত শেয়ারিংয়ের কারণে তারা সবার কাছে প্রকটভাবে প্রকাশ পায়। এটা ক্ষতিকর হতে পারে। শিশু  অপহরণকারী বা অপরাধীরা এমন তথ্যই খুঁজে থাকে। বিষয়টি তাদের কাজকে অনেক সহজ করে দেয়।

সীমাবদ্ধতা আনতে হবে : অনলাইনে সবার সামনেই বাবা-মায়েরা শিশুদের স্বাস্থ্য ও তাকে বড় করে তোলার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তখ্য প্রকশ করেন। কর্মজীবী মায়েরা এ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বা শ্রমের কথার জানান দেন। এসব শেয়ার করতে ভালোই লাগে। কিন্তু শেয়ারিং আর অতিমাত্রায় শেয়ারিংয়ের মাঝে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। অথচ এই দুই অবস্থার মাঝের দেয়ালটা প্রায় ঘোলাটে হয়ে গেছে। মনে রাখবেন, খুব বেশি প্রকাশ করা হলে পরবর্তিতে আপনার শিশু এ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে পারে।

ডিজিটাল অপহরণ এখন বাস্তবতা : যখন বাবা-মা শিশুর জন্মের খবর অনলাইনে প্রকাশ করেন, তখন তার পরিচয় চুরি যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যাকে বলা হয় ডিজিটাল কিডন্যাপিং। অনেক সময়ই দেখা যায়, কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে গিয়ে দেখেছে তার নামে অন্য কেউ আবেদন করে ফেলেছেন। কেউ অনলাইনে শিশুর নামের একটি অংশ প্রকাশ করলেও সে ঝুঁকি থেকেই যায়।

তাদেরও বলার থাকতে পারে : বেশিরভাগ বাবা-মাই বিশ্বাস করেন, শিশুর বিষয়টি অনলাইনে কিভাবে দেবেন তা তারাই ভালো বোঝেন। শিশুটি বড় হতে থাকলেও বাবা-মা তাদের ইচ্ছামতোই কাজটি করে যান। অথচ বড় হওয়ার পর তাদের কিছু বলার থাকতে পারে। শিশুর কথাও শুনতে হবে। এতে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছতা তৈরি হবে। এই মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চললে শিশুর মনে ক্ষোভ জমা হবে না। অনেক সময়ই বাচ্চারা মনে করে, বাবা-মা তার ওপর জোর খাটাচ্ছেন। ক্রমেই বাবা-মায়ের ওপর থেকে আস্থা হারাবে তারা।

ড. শেঠি জানান, অনেক সময়ই বাচ্চাদের অতিরিক্ত ছবি তাদের লজ্জায় ফেলে দেয়। যদিও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ নিয়েই শেয়ার করেন বাবা-মা। কিন্তু বড় হওয়ার পর এমন কিছু ঘটানোর আগে তাদের জিজ্ঞাসা করে নেওয়া উচিত বাবা-মায়ের। আবার অনেক বাবা-মা সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল পর্যন্ত তাদের না বলেই প্রকাশ করেন।

গঠনমূলক শেয়ারেন্টিং করতে হলে : সন্তানের গোপনীয়তা বিষয়ে সচেতন হতে হবে বাবা-মায়ের। তাদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে না এমন তথ্য ও প্রকাশ করবেন না। শিশুদের এসব তথ্য দিলেও কয়েকটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে বাবা-মায়ের। যেমন-

১. প্রাইভেসি সেটিংস ঠিকঠাক করে নিতে হবে সোশাল মিডিয়ার। থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো এড়িয়ে চলবেন।

২. পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেই কেবল শেয়ার করুন এগুলো। এ ছাড়া কাছের বন্ধু বা বিশ্বস্ত মানুষদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন।

৩. আপনার অ্যাকাউন্টে অন্য কেউ প্রবেশ করে কিনা তা দেখুন।

৪. শিশুর নামে গুগল অ্যালার্ট সেট করে রাখুন।

৫. সোশাল মিডিয়ায় সময় ব্যয়ের হিসাবটা সাজিয়ে রাখতে অ্যাপ ব্যবহার করুন।

৬. বাবা-মায়ের নিজেকে ভাবতে হবে। শিশুর অ্যালবাম কি পাবলিক করে রাখা উচিত হবে।

৭. বেশি পরিমাণ ছবি প্রকাশ করতে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভিডিওঃ দুই বউয়ের রাস্তায় ভয়ঙ্কর মারামারি; দেখুন ভিডিওতে



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন

Add Comment

Click here to post a comment