অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয়

শিশু ধর্ষণচেষ্টায় মসজিদের ইমাম রিমান্ডে

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে (৮) ধর্ষণচেষ্টা মামলায় প্রধান আসামি মসজিদের ইমাম আজিজুল হককে (৬০) দু’দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনের বিষয়ে রবিবার দুপুরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মমিনুন নেসা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অন্য আসামিরা নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনূস আলী দেওয়ান, ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাজাহান আলী, আজাহার আলী এবং মৌয়কুড়া গ্রামের মাতব্বর ফুল মাহমুদ ও ইসমাইল হোসেনকে জামিন দিয়েছে আদালত।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু তার ছোট ভাইকে নিয়ে উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের মৌয়াকুড়া জামে মসজিদ মক্তবে পড়তে যায়। এ সময় বৃষ্টি থাকায় উপস্থিতি কম দেখে ওই মক্তব্যের শিক্ষক ও ইমাম আজিজুল হক উপস্থিত দুই ছাত্রকে খাবার আনতে একটি বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

পরে সে ওই শিশুটিকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরে। পরে ঘটনাটি কাউকে না বলার শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়। ধর্ষণের চেষ্টার সময় ওই শিশুর গালে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ে দেয় অজিজুল।

পরদিন ৫ জুলাই সকালে ওই শিশুটি ব্রাক পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ে পড়তে যায়। ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা গালে কামড়ের বিষয়টি জানতে চাইলে, শিশুটি ঘটনাটি খুলে বলে। এরপরই ঘটনাটি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের মাঝে জানাজানি হলে এলাকাবাসি ইমাম আজিজুলকে অবরুদ্ধ করে।

এরই প্রেক্ষিতে ওই দিন বিকেলে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনূস আলী দেওয়ানসহ ওই ইউনিয়নের কয়েক জন ইউপি সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক করেন । সালিশে ঘটনাটি সুরাহা করার জন্য ওই ইমামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে সালিশের সিদ্ধান্তে শিশুটির পরিবার সন্তুষ্ট না হয়ে, ন্যায় বিচার দাবি করে ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিশুর মা বাদি হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণচেষ্টা ও সহযোগিতার অভিযোগ এনে ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রাতেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি হাফেজ মো. আজিজুল হক, সালিশ পরিচালনাকারী নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনূস আলী দেওয়ান, ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাজাহান আলী, আজাহার আলী এবং মসজিদ কমিটির সদস্য ফুল মাহমুদ ও ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করে। তবে মামলার আরেক আসামি ইউপি সদস্য সুরুজ আলী পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম  বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদলতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত মামলার প্রধান আসামিকে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Advertisements