slider অন্যরকম খবর আন্তর্জাতিক

শিশুটিকে মেরে ফেলতে ২৪০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবহার !

রেহেনা আক্তার রেখা: ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় ‘জর্জ স্টিনি’ নামক ১৪ বছর বয়সী আফ্রো-আমেরিকান বালকটিকে।  শ্বেতাঙ্গ বালিকাকে হত্যার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। একদল সাদা চামড়ার মানুষের উপস্থিতিতে মাত্র ১০ মিনিটের বিচারে দোষী সাব্যস্ত করা হয় জর্জ স্টিনিকে।

সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি কোন কৃষ্ণাঙ্গদের । ১০ মিনিটের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হবার সাথে সাথেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রায় কার্যকর করার জন্য। খানিক বাদেই ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় তার। এই সময়টায় ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে শুধু তার মায়ের সাথে দেখা করতে চাইছিলো স্টিনি।  ইলেকট্রিক চেয়ারে ২৪০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহ শুরুর ৪ মিনিটের মাথায় তাকে মৃত ঘোষণা করে ডাক্তার। ১০০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হয়ে যায় স্টিনি।

স্টিনি’র সমর্থদের অভিযোগ, বিচারে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকার পরও সাম্প্রদায়িকতার বলি হতে হয় স্টিনিকে। হতভাগ্য এই কিশোরকে দেয়া হয়নি কোনো আপিলের সুযোগ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার স্টিনি’র ওজন ছিল মাত্র ৪৩ কেজি। । বড়দের জন্যে বানানো চেয়ারটার তুলনায় অনেক ছোট সে। সেখানেই তাকে বসিয়ে ফেইস মাস্ক পরিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তারপর তার মৃত্যদন্ড  কার্যকর করেন।

এদিকে ২০১৪ সালে ৭০ বছর পর জর্জ ফ্রিয়ারসন নামের স্টিনি’র এক সমর্থকের তৎপরতার ফলে এই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠে। অবশেষে   জর্জ স্টিনিকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালত নির্দোষ বলে রায় দেন। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং সে সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক কারমেন মুলেন তার রায়ে বলেন, ‘জর্জ স্টিনির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অবিচার করা হয়েছিল।’