Advertisements
খেলা-ধুলা

শিরোপা জয়ের দ্বাপ্রান্তে সুইস তারকা ফেদেরার

সর্বশেষ উইম্বলডন শিরোপা জয় করেছিলেন ৫ বছর আগে। দীর্ঘ বিরতির পর রেকর্ড অষ্টমবারের মতো অল ইংল্যান্ড ক্লাব শিরোপা জয়ের দ্বাপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন রজার ফেদেরার। এর মাধ্যমে আধুনিক যুগে সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে পুরুষ টেনিসের শিরোপা জয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এই সুইস তারকার।
১৯৭৫ সালে সবচেয়ে বেশি বয়সী হিসেবে উইম্বল্ডনের শিরোপা জয় করেছিলেন আর্থার অ্যাশ। এ সময় অবশ্য তার বয়স হছিল ৩২ বছর। যেটি বেশ সহজেই অতিক্রম করতে যাচ্ছেন চির সবুজ ফেদোরার।
ক্রোয়েশিয়ার তারকা ম্যারিন সেলিচের বিপক্ষে একটি জয় তাকে পৌঁছে দেবে পুরুষ টেনিসে ক্যারিয়ারের ১৯তম গ্রান্ড স্ল্যাম জয়ীর আসনে। এটি হবে চলতি বছর তিনটি শীর্ষ প্রতিযোগিতায় তার দ্বিতীয় শিরোপা। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ ছয় মাস টেনিসে অনুপস্থিত থাকার পর জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয় করেছেন তিনি।

পর পর ইন্ডিয়ান, ওয়েলস ও মিয়িামি মাস্টার্স জয় করা ফেদারার বলেন, ‘ঘাষের মাঠের এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমার চেষ্টা ছিলো নিজেকে ভালো অবস্থায় রাখা। প্রথম তিন চার মাস ছিল আমার স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেয়ার মিশন। আর এটি হচ্ছে আমার প্রত্যাশা পুরনের একটি অংশ। আপনারা দেখেছেন উইম্বল্ডনে আমি সঠিক অবস্থানেই ছিলাম। শেষ পর্যন্ত এখানে পৌঁছাতে পেরে আমি খুশি।’
হাঁটুর ইনজুরির কারণে ২০১৬ মৌসুমটি খেলতে না পারার পর ২০১৭ সালে নিজের এই ফর্ম দেখে নিজেই বিষ্মিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফেদারার। এই বছর তিনি এ পর্যন্ত ৩০ টি ম্যাচে জয় এবং দুই ম্যাচে পরাজিত হয়েছেন। একটি সেটেও না হেরে ক্যারিয়ারের ১১তম উইম্বল্ডনের ফাইনালে উঠে এসেছেন এই টেনিস কিংবদ্বন্তী। রোববারের ম্যাচটি হবে টুর্নামেন্টে তার ১০২তম ম্যাচ এবং শীর্ষ টুর্নামেন্টের ২৯তম ফাইনাল। ফেদারার বলেন, ‘উম্বল্ডনে ইতিহাস গড়তে পারলে আমি সত্যিকার অর্থে খুবই খুশি হব। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি এই টুর্নামেন্টকে ভালোবাসি।’
২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ফাইনালে এন্ডি মারেকে হারিয়ে পিট সাম্প্রাসের সর্বাধিক শিরোপা জয়ের আসনে ভাগ বসানো ফেদারার আরো বলেন, ‘এখানেই একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি আমার স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। সেই সঙ্গে অস্টমবারের মতো শিরোপা জয়ের সুযোগও রয়েছে। এই অনুভুতি অসাধারণ। সত্যিকার অর্থে আমি এখন খুবই রোমাঞ্চিত। আশা করছি আমি আরেকটি ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারবো। এখানে এটি হবে আমার ক্যারিয়ারের ১১তম ফাইনাল। সবকিছুই রেকর্ডময়, যার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এটি ভাবতেই আমি বেশ পুলকিত বোধ করছি।’
টেনিস বিশ্বে বর্তমানের শীর্ষ তারকা এন্ডি মারে, নোভাক জকোভিচ এবং রাফায়েল নাদাল যেখানে সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারেনি, সেখানে পুনর্জন্ম হয়েছে ফেদারারের।
এদিকে ২৮ বছর বয়সি চিলিচে জন্য উইম্বল্ডন হচ্ছে চলতি বছরে তার সপ্তম ইভেন্ট। আসন্ন ফাইনালে সবার দৃষ্টি থাকবে ফেদারারের দিকেই। কারণ, সেন্টার কোর্টে তিনি যে কয়টি ম্যাচ খেলেছেন তার সবক’টিতেই জয়লাভ করেছেন। ফাইনালে তাকে হারানোটা তাই চিলিচের জন্য বেশ কঠিনই হবে।
এ পর্যন্ত ফেদেরার বিপক্ষে সাত বার মুখোমুখি হয়ে মাত্র একবার জয় পেয়েছেন চিলিচ। ২০১৪ সালের ইউএস ওপেনের জয় ফেদারারের বিপক্ষে তাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। ১১বারের প্রচেস্টায় প্রথমবার উইম্বল্ডনের ফাইনালে উঠেছেন চিলিচ।
তিন বছর আগে নিউইয়র্কে একমাত্র গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের সময় সেমিফাইনালে ফেদারারকে সরাসরি সেটে হারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ফেদারার বলেন, ‘এমি এটি বলতে পারবো না যে ম্যাচটি আমার জন্য সহজ হবে। কারণ, চিলিচের বিপক্ষে আমার বেশ কঠিন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি এই ম্যাচটিও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
গোরান ইভানিসেভিচের পর চিলিস হচ্ছেন দ্বিতীয় কোন ক্রোয়েশিয় তারকা যিনি উইম্বল্ডনের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তার সাবেক কোচ ইভানিসেভিচ ২০০১ সালে ঐতিহাসিক শিরোপা জয় করেছিলেন।
চিলিস বলেন, ‘এটি রজার্সের হোম গ্রাউন্ড। এখানেই তিনি সবচেয়ে বেশী স্বস্তিবোধ করেন। আমি জানি তিনি সেরা খেলাটি এখানেই খেলে থাকেন। তবে সত্যিকার অর্থেই আমি ১২ মাস আগের দিকে তাকাব। যে ম্যাচে তার কাছে আমি মাত্র এক পয়েন্টের জন্য হেরেছিলাম। তবে এখনো আমাকে পাহাড় সমান উচ্চতা পাড়ি দিতে হবে।’

Advertisements





সর্বশেষ খবর