অপরাধ/দুর্নীতি

‘শারীরিক সম্পর্কের পর কন্ট্রাক্টের পুরো টাকা পরিশোধ না করায় অভিনেত্রীর ’ধর্ষণ’ মামলা’

রাজধানীর বনানীতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে এক অভিনেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীপুত্র বাহাউদ্দিন ইভানের স্ত্রী টুম্পার অভিযোগ, ‘পাঁচ হাজার টাকার কন্ট্রাক্টে ইভানের বাসায় এসেছিল ওই তরুণী। কিন্তু ইভান শারীরিক সম্পর্কের পর পুরো টাকা পরিশোধ করেনি। কারণ, তখন বাসায় টাকা ছিল না। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তাই শারীরিক সম্পর্কের পর কন্ট্রাক্টের পুরো টাকা পরিশোধ না করায় অভিনেত্রী ইভানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।’

টুম্পার দাবি, তরুণী একা ওই বাসায় আসেননি। তার এক ছেলে বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলেন। ওই ছেলে বন্ধু বাসার বাইরে অবস্থান করছিল। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই ছেলে বন্ধুকে ফোন করে তরুণী জানায়, ১০-১২ পিস ইয়াবা নিয়ে আয়। এই বাসায় বসে ইয়াবা খাব। তখন ইভান বলেন, বাসায় এসব হলে মা-বাবা ঘুম থেকে জেগে যাবে। পরে সমস্যা হবে। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দেয় ইভান।’

টুম্পার আরো দাবি করেন, তরুণীর সঙ্গে যে ব্যাগটি ছিল সেটি তার ছেলে বন্ধুর কাছেই আছে। টুম্পা আরও জানান, ইভানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

শনিবার বিকালেও ইভানের মোবাইল খুঁজতে পুলিশ বাসায় এসেছিল। বাসায় তার মোবাইল না পেয়ে বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী থানায় অবস্থানরত এক পুলিশ সদস্যের মোবাইলে ফোন করে রিমান্ডে থাকা ইভানের সঙ্গে কথা বলেন। ইভান তখন পুলিশকে জানায়, আলমারিতে খুঁজে দেখেন। কিন্তু পুলিশ সেখানেও তা খুঁজে পায়নি।

জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কেবল ধর্ষণের বিষয়টি তদন্ত করছি। কারণ, মামলা হয়েছে ধর্ষণের অভিযোগে। দু’জনের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি ইভানও স্বীকার করেছে। তাই ধর্ষণের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু ধর্ষণের আগে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়েছে কিনা সেটা এখন তদন্তের বিষয়। এ জন্য মেয়েটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে ইভান স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে এসি রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো ভুক্তভোগী যদি অভিযোগ করে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, তরুণী এবং ইভান অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কোনটা সঠিক, কোনটা মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী ওই তরুণী বলেন, তার বান্ধবী শারমীন এবং দূর সম্পর্কের বোন সুমির মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে ইভানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সুমি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের শিল্পী। সুমি, শারমীন, ইভান এবং আমি একদিন গুলশানের নান্দুস রেস্টুরেন্টে সাক্ষাৎ করি। এরপর থেকে ফেসবুক এবং মোবাইল ফোনে ইভানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। আমরা এক সঙ্গে অনেক জায়গায় ঘুরতে যেতাম। যখন এক সঙ্গে ঘুরতে যেতাম তখন ইভানের মা ইতি এবং স্ত্রী টুম্পা প্রায়ই ফোন দিত। তখন সে তার মাকে বলত, আমি অরিনের সঙ্গে আছি। এ থেকে আমি বুঝতে পারি যে, আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি তার মা জানত। আমি টুম্পার কথা জিজ্ঞাসা করলে বলত, টুম্পা তার বোন।’

তিনি জানান, কয়েক মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর থেকেই সে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।
গত মে মাসে ৩০০ ফুট রাস্তায় ইভানের গাড়িতে যখন শারীরিক সম্পর্ক হয় তখন তা গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখে ইভান। ডিওএইচএসের বাসায় আমি উঠি গত ৪ জুন। পরদিন ইভান তার এক বন্ধুকে নিয়ে আমার বাসায় আসে। তার সঙ্গে ছিল মার্টিন বিয়ার এবং বিদেশি মদ। পরে সে আমাকে মদ এবং বিয়ার এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ায়।
এরপর আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তার বন্ধু ওই দৃশ্য ভিডিও করে। ওইদিন আমি প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় ছিলাম। সকালে আমি সুস্থ হলে দেখতে পাই, ইভান আমার বেডরুমে। ওই সময় ইভান জানায়, সে যে মিশন নিয়ে এসেছিল ওই মিশন বাস্তবায়ন হয়েছে। এর পর আমি ফেসবুকে তার আইডি ব্লক করে দিই, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করি। কিন্তু সে ওই ভিডিও’র মাধ্যমে ব্ল্যাক মেইলিং করে বারবার আমাকে পেতে চাইত। বাসায় এসে হৈচৈ করত। শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হুমকি দিত। ছুরি এবং রিভলভার নিয়েও আমার বাসায় আসত। বলত যদি আমি (তরুণী) তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখি তাহলে সে আত্মহত্যা করবে। ভয় দেখিয়ে গত রমজানে নিকুঞ্জ এলাকায় নিয়ে তার গাড়িতে আমাকে ধর্ষণ করে। সেটিরও ভিডিও করে গোপন ক্যামেরায়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তরুণী বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় আমার বাসার নিচে গাড়ি নিয়ে এসে আমাকে জোর করে তার গাড়িতে তোলে। ওইদিন বলে, কাল আমার জন্মদিন। তুমি যদি আমার বাসায় না যাও তাহলে অতীতের সব ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেব। ওইদিন রাতে বারিধারা ডিওএইচএস থেকে বনানী ন্যাম ভিলেজ পর্যন্ত পুরো রাস্তা  রিকশায়  গিয়েছি। একবার রিকশা বদল করেছি। বনানীতে যাওয়ার পর সরাসরি ইভান আমাকে বাসায় নেয়নি। বাসার কাছে যাওয়ার পর বলেছে, তুমি বাইরে অপেক্ষা কর। বাসায় জন্মদিনের কিছু কাজ আছে। আমি সেসব সেরে নিই।

তরুণী বলেন, ‘ঘটনার পরদিন ইভানের বেডরুমে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। ওইদিন পুলিশ আমাকে বাঁচিয়েছে।