অপরাধ/দুর্নীতি

রোযা রেখে ইফতারির সময় এক কুলাঙ্গার সন্তানের হাতে নির্মমভাবে খুন হলেন গর্ভধারীনি মা!

নেশার টাকার জন্য বৃদ্ধা মাকে অনেক আগে থেকেই চাপ দিয়ে আসছিলো এক কুলাঙ্গার সন্তান। অসহায় বৃদ্ধা মা কয়েকবার ছেলের যন্ত্রণা সইতে না পেরে যোগান দিয়েছিলো টাকার। গতকাল শুক্রবার সন্ধা বেলাতেও নেশার জন্য মায়ের কাছে টাকা চায় কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে মা । আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধা মায়ের গলাটিপে হত্যা করে ঐ কুলাঙ্গার সন্তান।

সারাদিন রোযা রেখে ইফতারির সময় যখন মা খেতে বসলেন, তখন মায়ের উপর চড়াও হয় বাহুবল উপজেলার শিমুলিয়াম গ্রামের এক কুলাঙ্গার সন্তান। শুধু তাই নয় মাকে হত্যার পর দরোজায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থেকে ঢুকতে দেয়নি কাউকেই!

মা রহিমা খাতুনকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ছেলে টেনু মিয়াকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। হবিগঞ্জের বাহুবলের শিমুলিয়া গ্রামে শুক্রবার (১৬ জুন) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেশিদের মুখ থেকে জানা যায়, হঠাৎ তার মায়ের আর্তনাদ শুনে তারা এগিয়ে গেলে খুনি টেনু লাঠি হাতে দরোজা আগ্লে দাড়ায় কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি,ঘরের ভেতর থেকেও পাওয়া যায়নি কোনো সাড়া- শব্দ।
এসময় সবাই ভয় পেয়ে যায়। এরপর টেনু মিয়ার বোন সুফিয়া খাতুন (৩৮) যেকোনো মাধ্যমে বাহুবল থানায় খবরটি পৌছান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলেও তারা ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি প্রথমেই । অনেক সময় পর্যন্ত, দরজায় লাঠি হাতে দাড়িয়ে থাকে টেনু মিয়া।
অবশেষে বাহুবল থানার ওসি এসে তাকে আটক করেন। ভেতরে পাওয়া যায় অচেতন মায়ের মৃতদেহ ।

বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিশ্বজিৎ দাস  জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রহিমা খাতুন আনসার মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, টেনু মিয়া মাদকের টাকার জন্য তার মা রহিমা খাতুনকে বিভিন্ন সময় জ্বালাতন করতো। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আবারও নেশার টাকা চায় টেনু মিয়া। কিন্তু রহিমা খাতুন টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে মাকে গলাটিপে হত্যা করে। খবর পেয়ে বাহুবল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেনু মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।