আইন-আদালত জাতীয়

রোববারের মধ্যে ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব দাখিলের নির্দেশ

বহু বিপণন ব্যবসা (এমএলএম) প্রতিষ্ঠান ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিহনার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনের জামিন সংক্রান্ত এক শুনানিতে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী রবিাবর মামলাটি আবার কার্যতালিকায় থাকবে।

ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদিদ্ন মাহমুদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান।

শুনানির এক পর্যায়ে আপিল বিভাগ বলেন, ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডি জামিনে একবার কারাগারের বাইরে গেলে তারা এক টাকা জমা দেবেন না; এমনকি তাদেরকে খুঁজেও পাওয়া যাবে না।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসটিনি গ্রুপের গাছ লাগানো প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৫ লাখ গাছ ৬ সপ্তাহের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ওই দিন আদালত আদেশে বলেছিল, ৩৫ লাখ গাছ বিক্রির ২৮০০ কোটি টাকা সরকারকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে। টাকা পাওয়ার পর ডেসটিনির এমডি ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে আপিল বিভাগ জামিন দিবেন। এছাড়া গাছ বিক্রি করে যদি ২৮০০ কোটি টাকা না হলে, কমপেক্ষ ২৫০০ কোটি টাকা সরকারকে দিলেই জামিন দেয়া হবে। কিন্তু আদালতের শর্ত অনুযায়ী, টাকা জমা না দেওয়ায় এখনো জেলে রয়েছেন ডেসটিনির এ দুই কর্নধার।

এর আগে গত বছরের ২০ জুলাই ডেসটিনির এমডি ও চেয়ারম্যানকে জামিন দেয় হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। ওই জামিন শুনানি স্থগিত চেয়ে আপিল করে দুদক।

তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ ও ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ প্রতিষ্ঠানটির ২২ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ৪ মে এ দুই মামলায় অভিযোপত্র দেয় দুদক।

দুই মামলার মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লি.-এর মামলার অভিযোগপত্রে এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

অপর মামলাটি হয় ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন নিয়ে। এই মামলার অভিযোগপত্রে ২১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় ৪৬ জনকে। ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন মামলার আসামি ১৯ জন। দুই মামলার অভিন্ন আসামি ১৪ জন। দুই মামলারই প্রধান আসামি রফিকুল আমিন। দুই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১৫০ জনকে।