অন্যরকম খবর

রোগীর বায়ুত্যাগে অপারেশন থিয়েটারে আগুন!

1aপায়ুপথে বায়ুত্যাগ সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ- বলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের এই ঘোষণায় যারপরনাই উদ্বেলিত হওয়ার কথা বাতকম্মসুখীদের। এমনিতে ভিড় বাস-ট্রেনই হোক বা বাজার-ঘাট, কিছু মানুষের সদর্প বায়ুত্যাগে বেজায় অসুবিধেয় পড়েন সহযাত্রীরা।

তবে বায়ুত্যাগ সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ, বিশেষজ্ঞদের একথা মেনে নিলেও, যেখানে সেখানে বায়ুত্যাগ থেকে বিরত থাকাই ভালো। কেননা এতে আকস্মিক বিপদ ঘটে যাওয়ার চান্স প্রবল। এধরনেরই একটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে জাপানে।

৩০ বছরের এক যুবতী। ধরা যাক তার নাম ইয়োশিকা মুরি। সার্ভিক্সে (গর্ভাশয়ের সঙ্কীর্ণ অংশ) অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হন টোকিও মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে।

চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন অস্ত্রোপচারের। দিনক্ষণ দেখে অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়া হয় ইয়োশিকাকে। লেজ়ার আলোর সাহায্যে অপারেশন শুরুও হয়ে যায় যথাসময়ে। এরপর আচমকাই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। হঠাৎ আগুন লেগে যায় অপারেশন টেবিলেই। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অ্যাপ্রনেও (অস্ত্রোপচারের সময় যে কাপড় পরিয়ে রাখা হয় রোগীকে)। দেখতে দেখতে জ্বলতে শুরু করে অপারেশন টেবিলে রাখা অন্যান্য কাপড়, টাওয়েল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়াতে শুরু করে।

ডাক্তার, নার্সরা তখন নিজেদের বাঁচাবেন না রোগীকে বাঁচাবেন- তা নিয়ে দোটানায়। এই হই-হট্টগোলের মাঝেই ভারপ্রাপ্ত ডাক্তার চেঁচিয়ে উঠলেন – “আগুন লাগল কী করে?” সাহায্যকারী অন্য একজন জানান, “রোগিণী বায়ুত্যাগ করেছেন। লেজ়ার থেকে আগুন লেগে গেছে সেই গ্যাসে।”

ওই দুর্ঘটনায় রোগিণীর শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। পরে তদন্তের নির্দেশ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারী দলও তদন্ত করে গত শনিবার রিপোর্ট জমা দেয়। তাতে বলা হয়, ভদ্রমহিলার নিষ্কৃত বায়ু থেকেই আগুন লেগেছিল অপারেশন থিয়েটারে। অন্য কোনও দাহ্যবস্তু সেখানে ছিল না, যার কারণে আগুন লাগতে পারত। যাবতীয় যন্ত্রপাতিও ঠিকঠাক কাজ করছিল।

রোগিণী বায়ুত্যাগের পরই তা অপারেশন রুমে ছড়িয়ে পড়ে। লেজ়ার আলোর সংস্পর্শে এসে আগুনে ঘি পড়ার কাজ করে তা। দাউ করে আগুন ধরে যায় মেশিনে। তারপরই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে সত্যিই কি পায়ুপথের বায়ু দাহ্য ?

প্রতিবেদনটি পড়তে পড়তে এই প্রশ্নটা ওঠাই স্বাভাবিক। উত্তর- হ্যাঁ। বায়ুত্যাগের ফলে যে গ্যাস নির্গত হয় তাতে যে উপাদানগুলো থাকে তার মধ্যে রয়েছে- মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, অক্সিজেন, নাইট্রাস অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন। এরমধ্যে হাইড্রোজেন ও মিথেন নিজে থেকেই দাহ্য গ্যাস।

অন্যদিকে, অক্সিজেন ও নাইট্রাস অক্সাইড অন্যকে পোড়াতে উসকানি দেয় অর্থাৎ সাহায্য করে। অপারেশন টেবিলে রোগীকে অ্যানাস্থেশিয়া করার পর অক্সিজেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের জোরদার একটা বিক্রিয়া হয়। ফলে খাদ্যতন্ত্রের বিভিন্ন ট্র্যাকে স্থিত এই দুই গ্যাসের ঘনত্ব বেড়ে যায় আরও। ফলে এদের দাহ্যক্ষমতাও আরও বেড়ে যায়। আর তা পায়ুপথে বাইরে আসার পর আগুনের সংস্পর্শে এলে কী হবে সহজেই অনুমেয়। এছাড়াও খাদ্যতন্ত্রে স্থিত নানা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও দাহ্যগ্যাস নির্গমণে সাহায্য করে থাকে।

ভিডিওঃ পাকিস্তানি মেয়ের এই ড্যান্স দেখলে চোখ কপালে উঠবে আপনার (দেখুন ভিডিও)



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন

Add Comment

Click here to post a comment