ভিডিও মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য (ভিডিও)

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ায় ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানোয় প্রতিদিন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। মিয়ানমার সরকার মনে করে রাখাইনে বসবাসকারী দশ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা মুসলমান বেআইনি অভিবাসি এবং তাদের কোনো নাগরিক অধিকার নেই। এ কারণে ২০১২ সাল থেকে সেখানে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা মুসলমানদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের ২৫ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । ’ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক জ্বালানী উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান ইউটিউবে একটি বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। তার এই বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

দুটি দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। একটি হিন্দু সংখ্যাগরীষ্ঠ ভারত এবং অপরটি বৌদ্ধ সংখ্যাগরীষ্ঠ মিয়ানমার।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে উভয় দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত হয়ে আসেছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। প্রায় প্রতিদিনই রোহিঙ্গা মুসলমনারা খুন, ধর্ষনসহ নানারকম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। তাদের অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর অব্যাহত নির্যাতনের কারণে তারা আর নিজ দেশে ফিরতে পারছে না। অপরদিকে, বাংলাদেশ বর্ডার সিকিউরিটি গার্ড বিজিবি তারাও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। সুতরাং মিয়ানমারের এই নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা না তাদের নিজ দেশে থাকতে পারছে, না তাদের প্রতিবেশি বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পারছে।

এদিকে মিয়ানমারের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সূচিও রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাকারী ও তাদের নির্যাতকারীদের সমর্থন করছেন। এটি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।পশ্চিমাদেশগুলোও এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেকটাই নিরব।

জতিসংঘ এ নিয়ে বিবৃতি দিলেও তারা এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ নেয় নি। এখনপর্যন্ত যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক আহবান করেছে। আমরা জানিনা নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হবে।যদিও এব্যাপারে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা খুব ভালো নয়।

নিরাপত্তা পরিষদ কখনোই রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারকে নিন্দা জানিয়ে কোন প্রস্তাব পাশ করে নি। আমরা আশাকরছি জাতিসংঘ এবার রোহিঙ্গা ইসুতে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অপর দিকে, ইসলামি সম্মেলন সংস্থা ওআইসি’রও এব্যাপারে তাদের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। তারা মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।এটাও সত্যি দুর্ভাগ্য জনক। আমি ওআইসিসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ বিশেষকরে বাংলাদেশের প্রতিটি মুসলিম নাগরিকের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।

ভিডিওটি দেখুন:এখানে ক্লিক করে