খেলা-ধুলা

যে কারনে অনিশ্চয়তায় জহির-দ্রাবিড়ের নিয়োগ

ক্রিকেট উপদেষ্টা কর্তৃক নিযুক্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ জহির খান এবং ব্যাটিং পরামর্শক রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে বিসিসিআই যেন এখনই কোনও চুক্তি না করে, নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা গঠিত কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

ভারতীয় দলের ‘বর্ধিত’ কোচিং স্টাফদের সঙ্গে যাবতীয় যা চুক্তি করার সেটা নির্ধারিত হবে শনিবারের বৈঠকের পরই, জানিয়ে দিল সিওএ। সৌরভ-শচীন-লক্ষ্মণদের লেখা

একটি চিঠি পেয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে কার্যত বাধ্য হয়েছে কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। জাহির খান এবং রাহুল দ্রাবিড়ের নিয়োগ নিয়ে রবি শাস্ত্রী এবং সৌরভদের মধ্যে যে ‘দ্বন্দ্বের কথা’ কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে তাতে মর্মাহত হয়েছেন ভারতের তিন কিংবদন্তী। কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে লেখা চিঠিতে সৌরভরা জানিয়েছেন, ‘কোচ নির্বাচন নিয়ে যে মিথ্যাচারের প্রচার চলছে, তাতে আমরা বেদনাহত। আমরা তিনজনই সততার সঙ্গে দেশের হয়ে খেলেছি। বর্তমানে বিসিসিআই আমদেরকে যা দায়িত্ব দিয়েছে সেটাও গুরুত্ব সহকারে নির্বাহ করতে সচেষ্ট হয়েছি আমরা। এরপর আমাদের নিয়ে যে মিথ্যাচার প্রচার করা হচ্ছে তা কখনই কাম্য নয়।’ ওই চিঠিতে সৌরভরা এটাও জানিয়েছেন, ‘কোচ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই জাহির খান এবং রাহুল দ্রাবিড়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, রবি শাস্ত্রী ভারতীয় দলের বোলিং কোচ হিসেবে ভরত অরুণকে চাইছেন। আর এটা নিয়েই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কোচ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যেভাবে কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছেন রবি শাস্ত্রী, তা বিরল। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, শাস্ত্রী নিজের পছন্দের ভরত অরুণকে বোলিং পদে বসানোর জন্য যেভাবে এগোচ্ছেন তাতে ভারতীয় বোর্ডের অখণ্ডতার পক্ষে ক্ষতিকর। এমন অবস্থায় জাহির খান, রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের চুক্তি আপাতত স্থগিত করে বিষয়টি আরও জটিল করে দিল সিওএ।

কেবলমাত্র রবি শাস্ত্রীর সঙ্গেই চুক্তি করতে পারবে ক্রিকেট বোর্ড। অনেকেই মনে করছে, যেহেতু জহির এবং রাহুলের সঙ্গে এখনও কোনও রকম চুক্তি হয়নি, সেক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের কাছে নিজের সিদ্ধান্ত বদলের একটি রাস্তাও রইল। রবি শাস্ত্রীর কথাই যদি রাখতে হয়, তাহলে ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তকে লঙ্ঘন করতেই হবে বোর্ডকে। সেক্ষেত্রে আবার প্রশ্ন উঠতে পারে যখন শচীন-সৌরভ-লক্ষ্মণদের কোনও সিদ্ধান্তই মানা হবে না, তাহলে ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি রাখার অর্থই বা কী? এখন দেখার কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ভারতীয় বোর্ড শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও একটা দিন।-জিনিউজ।