Advertisements
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

যে কারণে বাচ্চাদের থেকে মোবাইল থেকে দূরে রাখবেন

ডিজিটাল বাংলাদেশে আজ সবাই ডিজিটাল জীবনযাপনের দিকে ঝুঁকে পড়েছি। বাচ্চাদের বয়স ৩-৪ হতে না হতেই তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে মোবাইল, ট্যাবসহ আরও নানা ধরনের ডিভাইস। ইংরেজি না জানা সত্ত্বেও তারা এসব ডিভাইস এমনভাবে চালাচ্ছে যা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিও পারবে না। কিন্তু এটা ঠিক হচ্ছে কি?

আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আপনি আপনার শিশুকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন না তো? যে বয়সে তাদের হাতে গল্পের বই বা কমিক্স থাকার কথা সেখানে ট্যাব থাকা কি আধুনিকতার নামে ক্ষতি বয়ে আনা নয়? চলুন জেনে নেই-

বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস থাকার ক্ষতিকারক দিকসমূহ:

বিশেষজ্ঞদের মতে ১৬ বছর হওয়ার আগে বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দেয়া উচিৎ নয়। কারণ:

❏ বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন শিশুদের মাথায় এবং কানে টিউমার (নন ম্যালিগন্যান্ট) সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে এই টিউমার মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

❏ বাচ্চাদের মস্তিষ্কে প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে ৬০% বেশি রেডিয়েশন শোষিত হয় এবং এই রেডিয়েশন বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টির জন্যও দায়ী।

❏ মাত্র ২ মিনিট মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের আওতায় থাকলে শিশুদের ব্রেইনের ইলেক্টোরাল অ্যাক্টিভিটি ১ ঘণ্টার জন্য পরিবর্তিত হয়ে যায়।

❏ বাচ্চারা অল্পতেই মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে তাদের পড়াশুনায় বা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ কমে যায়।

❏ মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইসের স্ক্রিন চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

❏ ডিজিটাল প্রযুক্তি বাচ্চাদের চিন্তাশক্তির প্রসার রোধ করে দেয়।

❏ অনেকে প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে থাকে। অল্প বয়সে বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কেন বই তুলে দিবেন?

❏ বলা হয়ে থাকে, বই মানুষের পরম বন্ধু। ছোট বেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস আপনার সন্তানের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

❏ শিশুদের বেশির ভাগ বইয়ে নৈতিকতার শিক্ষা থাকে যা আপনার সন্তানকে ভালো খারাপের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে।

❏ বই পড়ার মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার সন্তান একটি ভাষা রপ্ত করে ফেলতে পারে।

❏ বই পড়লে শিশুরা ভালো ব্যবহার করতে শেখে এবং অযৌক্তিক কাজ কম করে।

❏ এই অভ্যাসটি আপনার শিশুকে ভিন্ন ভিন্ন জগতের সাথে পরিচিত করবে এবং তার মনে ভালো কিছু করার চেতনা জাগ্রত হবে।

❏ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল নয় অ্যানালগ থাকাই ভালো। আপনার সন্তানকে সুস্থ এবং মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তার হাতে বই তুলে দিন।

Advertisements