slider জাতীয়

যেভাবে পুরান ঢাকা আধুনিক শহরে পরিণত হচ্ছে

আধুনিক শহরে পরিণত হবে পুরান ঢাকা। এখানকার ঘিঞ্জি এলাকাকে বদলাতে আরবান রি-ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামে একটি কাজ হাতে নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ প্রকল্পের আওতায় থাকা ছোট বাড়িঘরগুলো ভেঙে ফেলা হবে। পরিকল্পিত একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানকার একাধিক ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হবে বাসিন্দাদের। এরই মধ্যে নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজউকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেঙে ফেলা বাড়িঘরের জায়গায় নির্মাণ করা হবে চওড়া সড়ক, পানি নিষ্কাশনের নালা, পার্ক, রোপণ করা হবে গাছ। এতে নতুন করে কোনো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। স্থানীয়দের উদ্যোগেই পুরান ঢাকাকে বদলে দেওয়া হবে। এতে সরকার কেবল তাদের সহযোগিতা করবে।

রি-ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে আধা কাঠা থেকে দেড় কাঠার ছোট প্লটগুলোকে একত্র করে তিন বিঘা কিংবা পাঁচ বিঘা আয়তনের একেকটি ব্লক তৈরি করা হবে। সেখানে নতুন করে নির্মিত বহুতল ভবনে প্রত্যেককে দেওয়া হবে একাধিক ফ্ল্যাট।

জমির পরিমাণ ও সড়কের জন্য ছেড়ে দেওয়া জায়গার অনুপাত হিসাব করে কে কতটা ফ্ল্যাট পাবেন তা নির্ধারণ করা হবে। ওই ব্লকেই উন্মুক্ত স্থান, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার, বিনোদন কেন্দ্রসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধার সংস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় রি-ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নেওয়া হয়। এর আওতায় অসংখ্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে নতুন করে ঢেলে সাজায় সেসব দেশ। একইভাবে পুরান ঢাকাকে আধুনিক মেগা প্রজেক্টের আওতায় এনে দুঃসহ যানজট ও জলজট সমস্যা নিরসন করা যাবে।
রি-ডেভেলপমেন্টের প্রাথমিক কাজ হিসেবে ৩০ জুলাই বংশালের মালিটোলায় রাজউকের ইন্টারনাল জরিপ শুরু হয়। সেখানকার ৩০ বিঘা ও ১০ বিঘা আয়তনের দুটি জায়গা চিহ্নিত করে পুরনো, ঘিঞ্জি ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কতগুলো আছে এর তালিকা করা হয়। একই সঙ্গে জমির দাগ নম্বর ও মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আগামী ১০-১৫ আগস্টের মধ্যে এ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের উপস্থিতিতে নগর ভবনে একটি অবহিতকরণ সভা করবে রাজউক। মূলত বংশালে নেওয়া পাইলট প্রজেক্টের বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভয়, সংশয় কিংবা সন্দেহ না থাকে এবং যাদের জমি তাদেরই থাকবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হবে ওই সভায়। স্থানীয়দের আগ্রহ অনুসারে নগরীর অন্যত্রও একই মডেলে এগোতে চায় রাজউক। এর মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শহরকে আধুনিক শহরে রূপান্তর করা সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি।আধুনিক শহরে পরিণত হচ্ছে পুরান ঢাকা

রাজউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, পুরান ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে যে স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানকার এলাকাবাসীর মতামত সন্নিবেশ করা হবে। তবে অল্প জায়গায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরায়ণ করা সম্ভব। আর আরবান রি-ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। স্থানীয়দের অংশীদারির ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

পুরান ঢাকার চিহ্নিত সমস্যাগুলো হলো, জরাজীর্ণ পুরনো আবাসিক ভবন, অপর্যাপ্ত আলো-বাতাস, ঘিঞ্জি পরিবেশ, অপরিকল্পিত এলাকা, ফুটপাথবিহীন, সংকীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের লাইন, অস্বাস্থ্যকর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, অপ্রতুল খোলা জায়গা, ভূমিকম্প ও অগ্নিদুর্ঘটনার অতিমাত্রার ঝুঁকিযুক্ত এলাকা এবং অপর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা।

এসব সমস্যা নিরসনে আরবান রি-ডেভেলপমেন্টে যা আছে, সব স্টেকহোল্ডারের মতামত ও চাহিদার নিরিখে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিদ্যমান ভবন ও অবকাঠামোসমূহ পুনর্নির্মাণ, পুনর্বিন্যাস ও কাঠামোগত হালনাগাদ করা, রাস্তা প্রশস্ত করা, পরিকল্পিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ভূমিকম্প ও অগ্নিদুর্ঘটনাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া, পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধার সংস্থান, পর্যাপ্ত গাছপালাযুক্ত পার্ক, খেলার মাঠসহ খোলা জায়গা রাখা, পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন শহরে পরিণত করা।

২ মে রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান প্রণয়নের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয়রা তাদের বিভিন্ন সমস্যা রাজউক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেন। সমাধান হিসেবে রি-ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন চিত্র দেখানো হলে তা বাস্তবায়নের জন্য তারা মত দেন।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন