slider জাতীয়

যুদ্ধে জড়াবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার!

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যেই মিয়ানমার বার বার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে। মিয়ানমারের বার বার এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিস্থিতি হতে পারে বলে দেশটিকে সতর্ক করেছে ঢাকা। এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমও শঙ্কা প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুদ্ধে জড়াতে পারে বাংলাদেশ-মিয়ানমার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন নিউজ উইক তাদের এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলেছে, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট ও ক্রমাগত আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিবেশী দুই দেশ কী যুদ্ধে জড়াতে পারে?’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক সপ্তাহে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার রাখাইনে জাতিগত হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। দেশটির বিমানবাহিনী বার বার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে। বাংলাদেশ বারবার সাবধান করলেও মিয়ানমার গায়ে লাগাচ্ছে না। সব মিলিয়ে প্রতিবেশী এই দুই দেশের যুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কা করছে গণমাধ্যমটি।

বলা হয়েছে, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইনে চলমান সেনা অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মারাত্মক ভয়াবহ এই অভিযান জাতিগত নিধন হিসেবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী ম্যাগাজিনটি জানিয়েছে, ‘চলতি সেপ্টেম্বরের গত ১০, ১২ এবং ১৪ তারিখ মিয়ানমারের ড্রোন এবং হেলিকপ্টার তিন দফায় বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।’

গত শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার বার বার উসকানিমূলকভাবে আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। যার জন্য গভীর উদ্বিগ্ন ঢাকা। এ ধরনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন আগামীতে যেন না হয় বিষয়টি নিশ্চিতে মিয়ানমারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ধরণের উসকানিমূলক কাজ ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে।

মিয়ানমারের সরকারের মুখপাত্র জ্য তে বলেন, ‘বাংলাদেশের অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। তবে বাংলাদেশ অভিযোগ তা যাচাই করে দেখা হবে। আমরা দুই দেশ মূলত শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলা করছি।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশের কমপক্ষে ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলায় চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মিয়ানমার। এই হামলায় ১২ জন পুলিশ নিহত হন। এরপরই দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও রাখাইনের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। প্রাণ ভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে।

রাখাইনে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুটেরাস ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘রাখাইনে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে মিয়ানমার। অবিলম্বে তাদের এই সহিংস রাস্তা পরিহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।’ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও মিয়ানমারকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের অধিকার বাস্তবায়নে আনান কমিশন বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিয়েছে।