বিনোদন লাইফ স্টাইল

যা করতে হবে ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরলে?

অনেকের কাছেই দুঃস্বপ্নের মতো Sleep paralysis বা বোবায় ধরা। বোবায় ধরা শব্দটিই আমাদের সমাজে বেশি পরিচিত। এটি হচ্ছে ঘুমন্ত এবং জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থা। বোবায় ধরা ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়া বা ঘুম থেকে জেগে উঠার সময় শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়তে না পারার একটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এটি ঘটে একজন ব্যক্তির ঘুমিয়ে পড়া বা জেগে উঠার আগমুহুর্তে।

বোবায় ধরলে ব্যক্তি সাধারনত যেসব অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যায়, সেগুলো হলো-

১.চোখ ছাড়া শরীরের অন্যসব অঙ্গ পক্ষঘাতের শিকার হয়েছে, এমন অনুভূতি।

২.বুকে প্রচ- চাপ অনুভব করা।

৩.কোনো কথা বলতে না পারা। অর্থাৎ চাইলেও পাশেরজনকে ডাকতে না পারা।
ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরলে
কেউ যদি প্রায় সময় কিংবা অধিকাংশ সময় এসব অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হয়ে থাকেন, তাহলে বুঝতে তিনি বোবা ধরা রোগে আক্রান্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বোবায় ধরা নিয়ে নানা কল্পকাহিনী প্রচলিত রয়েছে।

অনেকেই এটিকে কোনো রোগ হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের ধারণা বোবায় ধরা  মানে আসলেই কোনো ভূত বা প্রেতের আক্রমণ। এ থেকে প্রতিকারের জন্য ছুরি অথবা কোনো অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ তাদের। অনেকেই আবার এটিকে ‘বাতাস লেগেছে’ বলে অভিহিত করে এর জন্য ঝাঁড়-ফুকের ব্যবস্থাও করে।

চিকিৎসা শাস্ত্র বলে, বোবায় ধরা মূলত ঘুমের মধ্যে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ার একটি অংশ। সুস্থসবল ব্যক্তিদেরও এই সমস্যায় পড়তে দেখা যায়।

এতো কিছুর পরেও এটি খুব সাধারন একটি শারীরিক সমস্যা। প্রায় আট শতাংশ লোকই বোবায় ধরার কবলে পড়ে। তবে এর মধ্যে ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ৩২ শতাংশ মানসিক রোগী। এদের বেশিরভাগই এই রোগের মাধ্যমে কোনো ক্ষতির শিকার হয় না। বোবায় ধরার কারনে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা খুব কমই দেখা গেছে।

অনেকেই এই আতঙ্কে ঘুমাতে ভয় পায়। এর পর কী ঘটতে যাচ্ছে এমন চিন্তায়, অনেকেই বেডরুমে যেতেও ভয় পায়। সাধারনত চার থেকে ছয় মিনিটের জন্য ব্যক্তি এই রোগের কবলে পড়ে। কিন্তু এর মধ্যেই প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হন কেউ কেউ।

এই বোবায় ধরা রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই বলেই জানালেন চিকিৎসকেরা। তবে এই রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারনত কিছু ঔষধের পরামর্শ দেয় যেগুলো র‌্যাপিড আই মুভমেন্টে (আরইএম) সহায়তা করে। এছাড়া হতাশারোধক ঔষধও বেশ কার্যকর। তবে সবচেয়ে উপযোগী সাইকোথেরাপি।

Advertisements