Advertisements
অপরাধ/দুর্নীতি

মোহাম্মদপুরে হোটেলে তরুণীর আত্নহত্যার চেষ্টা

ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন মেয়েটির প্রকৃত নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আসেনি কোনো স্বজনও।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি আবাসিক হোটেল থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হোটেলের ব্যবস্থাপক ও এক কর্মচারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পুলিশ বলছে, ঘটনাটি রহস্যজনক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুরের বিজলী মহল্লায় তাজিন আবাসিক হোটেলের রিসিপশনে আসেন দুই তরুণ-তরুণী। তরুণ নিজেকে আশরাফ ও তরুণীর নাম মিথিলা আক্তার লিখে ১০৭ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। হোটেল কক্ষে ওঠার সময় তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দাবি করে একটি কাবিননামাও দেখান হোটেল কর্তৃপক্ষকে। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার চণ্ডিপুর গ্রামের ঠিকানা দিয়ে হোটেলে ওঠেন।

এরপর দুপুরের দিকে আশরাফ নামধারী তরুণ হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। আর ফিরে আসেননি। বিকেল ৪টার দিকে হোটেলের এক কর্মী ওই কক্ষে গোঙানোর শব্দ শুনতে পান। চাপানো অবস্থায় থাকা দরজা ধাক্কা দিয়ে ওই কর্মী ভেতরে ঢুকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তরুণীকে দেখতে পান এবং কর্তৃপক্ষকে জানান। রাত ১০টার দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। তরুণীটি এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় হোটেলের ব্যবস্থাপক মাকসুদুর রহমান ও কর্মী আশিকুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘ঘটনাটি উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তরুণীর জ্ঞান ফিরলে তাঁর কাছ থেকে সব জানা যাবে। আমরা সেই অপেক্ষায় রয়েছি। ’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তরুণীটি বর্তমানে হাসপাতালের ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। ওই বিভাগের চিকিৎসকরা তাঁকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তত্ত্বাবধানে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল বিকেলে তরুণীর জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু তিনি কারো সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। শুধু কেঁদেই চলেছেন। তাঁর কোনো আত্মীয়স্বজন গতকাল রাত পর্যন্ত আসেনি।

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আজিজুল হক জানান, আশরাফ নামধারী যুবককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, যে কাবিননামাটি দেখিয়ে দুই তরুণ-তরুণী হোটেলে উঠেছিলেন সেটি ভুয়া বলে জানতে পেরেছে তারা।

উল্লেখ্য, গত ২২ মে রাতে মতিঝিলের ফকিরাপুলের হোটেল আল-আমিনে রীনা আক্তার নামের এক নারী খুন হন। তাঁর স্বামী টিপু সুলতান চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে হত্যা করেন। তাঁদের সঙ্গে ২১ দিন বয়সী সন্তানও ছিল।

Advertisements