জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

সামান্য মোবাইল ফোন ও ৬৩৫ টাকার লোভে কলেজ ছাত্র হত্যা!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৬৩৫ টাকা ও মোবাইল ফোনের জন্য শাহরিয়ার মাহমুদ শুভ্র নামে এক কলেজ ছাত্রকে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শাহরিয়ার মাহমুদ শুভ্র (২১)। গত ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পৌনে ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয় শুভ্র। এর পর সকাল ৯টায় তার মোবাইল ফোনে কল দিলে বন্ধ পান পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় শুক্রবার থেকে শুভ্র নিখোঁজ অভিযোগ করে ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। পরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূঁইগড় এলাকায় রাস্তার পাশের একটি ডোবা থেকে গলায় কাপড় এবং হাত রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় শুভ্রর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোরে শুভ্র হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া থেকে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে শুভ্রর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটো রিকশা, দুইটি ছুরি ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে ইয়ামিন ওরফে আল আমিন (২৩), ঢাকার শনির আখড়ার কেসমত আলীর ছেলে মো. জালাল (৩০), সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকার আলম মিয়ার ছেলে জুয়েল (২২) এবং একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে রবিন ওরফে রিকশা রবিন (২৮)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারীরা শুভ্রকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার ভোর রাতে শিবু মার্কেট থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে রাজধানীর মিরপুরে যাচ্ছিলো শুভ্র। সে সময় ছিনতাইকারীরা যাত্রীবেশে ওই সিএনজিতে উঠে।

ছিনতাইকারীরা চলন্ত সিএনজিতে শুভ্রকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার মোবাইল ফোন ও নগদ ৬৩৫ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। শুভ্র এতে বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তার হাত পা বেঁধে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ হত্যা করে। পরে তার লাশ ভূঁইগড় এলাকায় রাস্তার পাশে ডোবায় ফেলে দেয়।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ফতুল্লা থানা শাখার সদস্য ছিলেন শুভ্র। পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় অনলাইন অপারেটর হিসেবেও কাজ করতেন।