আন্তর্জাতিক

মেয়েরা বদলে হয়ে যাচ্ছে ছেলে!

খুব ছোট একটা গ্রাম। চারিদিকে সবুজের গালিচা বিছানো। আর ঠিক পাশেই গর্জন করতে থাকা সমুদ্র যেন গ্রামটির অতন্দ্র পাহারাদার। প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এই গ্রামটি এক কথায় অপূর্ব। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত কেরাবিয়ান দ্বীপের এই ছোট্ট স্বর্গটির খোঁজ কেউ রাখেনি। এমনকি সে দেশের সরকারও যেন ভুলে গিয়েছিল এই মানুষগুলিকে। কিন্তু হঠাৎই একটা খবর পশ্চিমী দুনিয়ার কানে পৌঁছাতেই রাতারাতি বদলে গেলে গ্রামটার ছবি। সভ্য সমাজের থেকে উপেক্ষিত এই গ্রামটির দিকে এখন সারা বিশ্বের নজর। কেন জানেন? কারণটা শুনলে বাস্তবিকই সবাই অবাক হয়ে যাবেন।

কী আছে এই গ্রামে?
সম্প্রতি বি বি সি-এর “কাউন্টডাউন টু লাইফ” নামে একটি ডকুমেন্ট্রিতে আজব একটা তথ্য উঠে এসেছে। এই গ্রামে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মেয়ের শরীর ৭ বছরের পর থেকেই ছেলের শরীরে বদলে যেতে শুরু করে! প্রথমটায় সংবাদিক থেকে চিকিৎসক, কেউই বিষয়টা বিশ্বাস করতে পারছিল না। কিন্তু এমনটা সত্যিই হয়ে থাকে! গবেষণা রিপোর্ট যা বলছে, তা পড়লে বাস্তবিকই চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।

কী লেখা আছে সেই রিপোর্টে?
এই গ্রামে জন্ম নেওয়া প্রতি ৯০ জন মেয়ের মধ্যে ১ জন মেয়ে বয়স ৭-১২-এর মধ্যে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। আসলে একটি বিরল রোগের কারণে মেয়েদের শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে থাকে যে তাদের গোপন অঙ্গ ধীরে ধীরে ছেলেদের মতো হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণের কারণে মেয়েদের শরীর বদলে যায় ছেলেদের শরীরে। তাই তো বয়স বাড়ার পর দেখে বোঝাই যায় না যে এরা এক সময় মেয়ে ছিল। প্রসঙ্গত, এই রোগকে চিকিৎসা পরিভাষায় “সুডোহার্মাফারোডিটে” বলা হয়ে থাকে।

এক অন্য সমাজ:
ডমিনিক রিপাবলিকের এই ছোট্ট গ্রাম, সেলিনাসেই মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাওয়া মানুষদের তৃতীয় লিঙ্গের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। যেমন জনির কথাই ধরা যেতে পারে। ২৪ বছর বয়সি এই পুরুষের শরীর পরীক্ষা করে বিজ্ঞানিরা দেখেছেন এই মানুষটি ফিজিকালি এবং বায়োলজিকালি একজন পুরুষ। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত জনিকে সবাই চিনতো ফেলিসিটা নামে। কারণ সে মেয়ে হিসেবে জন্ম নিয়েছিল। কিন্তু আজ সে পুরুষ! উপরের ছবিটা দেখুন। এটা জনির। কেউ বলবে এক সময় সে মেয়ে ছিল!

সবই এনজাইমের খেলা:
গবেষকদের মতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেনেটিক পরিবর্তনের কারণে শরীরে বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে ধীরে ধীরে এমন কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়তে শুরু করে যে মেয়ের শরীর বদলে যেতে থাকে পুরুষে।

এবার…
বিজ্ঞানিরা উত্তরের খোঁজে লেগে পরেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। জানা যায়নি কীভাবে এই শরীরের বদল আটকানো যেতে পারে। তাই যতদিন না এই ধাঁধার সন্ধান মিলছে। ততদিন এইভাবেই মেয়েরা বদলে যেতে থাকবে ছেলেতে। আর ডমিনিক রিপাবলিকের এই চোট গ্রামটি থেকে যাবে লাইম লাইটের তলায়।