আন্তর্জাতিক

মৃত মানুষ জীবিত, তারপর গ্রেফতার!

২৩ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ব্যক্তির পরিবারও ভেবেছিল যে, তিনি মারা গেছেন। তবে পরিচয় গোপন করে অন্য নাম-পরিচয়ে তিনি অন্য স্থানে বাস করছিলেন। ২৩ বছর পর সম্প্রতি সেই ব্যক্তি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন।

১৯৯৩ সালে রিচার্ড হোগল্যান্ড নামের এক ব্যক্তি জরুরি অসুখের জন্য হাসপাতালে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। তখন তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের বাবা। হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তার স্ত্রী সাথে যেতে চাইলে তিনি তাকে সাথে নিতে রাজি হননি। স্ত্রী ভেবেছিলেন সে যখন একা যেতে পারবে তাহলে যাক। আর কোন সমস্যা হলে তাকে যেন জানায়।

রিচার্ড হোগল্যান্ডস্ত্রী ও দুই ছেলের সাথে রিচার্ড হোগল্যান্ড।

এভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া পর আর ফিরে না এলে তার স্ত্রীর সন্দেহ হয় এবং তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো ভাবেই যোগাযোগ করতে পারেন না। কারণ তিনি যাওয়া সময় সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন করে গিয়েছিলেন।

রিচার্ড হোগল্যান্ড অনেকদিন ফিরে না এলে তার স্ত্রী ভেবেছিলেন তিনি হয়তো মারা গেছেন। আর কোনদিন ফিরে আসার সম্ভাবনাও নেই, তাই আরেকটি বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ইনি ছিলেন রিচার্ডের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল আগেই।

রিচার্ড হোগল্যান্ডরিচার্ড হোগল্যান্ড সেখানকার টেরি জুড সেমানস্কি নামের এক মৃত জেলের পরিচয় ধারণ করে বসবাস শুরু করেন। ছবিতে জেলে টেরি জুড সেমানস্কি।

এদিকে রিচার্ড হোগল্যান্ড হাসপাতালে যাওয়া কথা বলে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিছুদিন পর সেখানেও মেরি হিকম্যান নামের আরেক নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। সেই পরিবারেও আজ দুই সন্তান।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় গোপন করে বসবাস করা সহজ নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিচয়পত্র খুবই জরুরি। তাই তিনি সেখানকার টেরি জুড সেমানস্কি নামের এক মৃত জেলের পরিচয় ধারণ করে বসবাস শুরু করেন।

রিচার্ড হোগল্যান্ডদ্বিতীয় স্ত্রীর কাছ থেকে পালানোর পর এই বাড়িতে টেরি জুড সেমানস্কির পরিচয় ধারণ করে বসবাস শুরু করেন।

টেরি জুড সেমানস্কির পরিচয় ধারণ করার কারণ হলো টেরি জুড সেমানস্কির ভাইয়ের কাছে থেকে রিচার্ড হোগল্যান্ড তার বসবাসের বাড়িটি কিনেছিলেন। টেরি জুড সেমানস্কির কোন সন্তান ছিল না। তাই তার ভাই তার বাড়িটি রিচার্ডের কাছে বিক্রি করেছিলেন। তারপর থেকেই তিনি টেরি জুড সেমানস্কি সম্পর্কে জানতেন। এবং রিচার্ড ভেবেছিলেন তার নাম ধারণ করলে কেউ তাকে চিনবে না বা আপত্তি জানাবে না।

এভাবে ২৩ বছর ধরে বসবাস করতে থাকেন রিচার্ড হোগল্যান্ড। আর দ্বিতীয় স্ত্রী আরেক জায়গায় বিয়ে করে সেখানে বসবাস করতে থাকেন। রিচার্ডের আগের স্ত্রীর দুই সন্তানরাও জানতেন তার বাবা মারা গেছেন।

রিচার্ড হোগল্যান্ডস্বামী মারা গেছে ভেবে আরেকটি বিয়ে করে সংসার শুরু করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ছবিতে তার স্ত্রী ও তার নতুন স্বামী।

এভাবে ভালোই চলছিল রিচার্ডের দিনকাল। কিন্তু সমস্যা বাঁধায় টেরি জুড সেমানস্কি নামের সেই মৃত জেলের এক ভাতিজা। তার বাবা মারা যাওয়ার পর সে তার পরিবারের ইতিহাস গবেষণা করার জন্য অ্যাঞ্চেস্ট্রি ডট কম (জীবিত-মৃত সব মানুষের তালিকা এই ওয়েবসাইটে থাকে।) নামের ওয়েবসাইটে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সে ওয়েবসাইটে তার ভাতিজা দেখতে পান, ১৯৯৪ সালে মারা যাওয়া চাচা এখনও জীবিত আছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি অবাক হয়ে যান এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন কেউ তার চাচার মিথ্যা পরিচয় ধারণ করে বসবাস করছেন। তাকে যেন গ্রেফতার করা হয়। তার চাচা যে মারা গেছেন তার সমস্ত কাগজপত্রও পুলিশের কাছে জমা দেন।

রিচার্ড হোগল্যান্ডম্যাথু (বামে) ও ডগ (ডানে) নামের রিচার্ড হোগলান্ডের দুই ছেলে। এখন তারা অনেক বড় হয়েছে। তারাও জানত তাদের বাবা মারা গেছেন।

এবার পুলিশ সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর রিচার্ড হোগল্যান্ডকে গ্রেফতার করার জন্য ‍খুঁজতে থাকেন। অবশেষে গত জুলাই মাসে মিথ্যা পরিচয় ধারণ করে বসবাস করার অভিযোগ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তার বিরুদ্ধে চুরিও অভিযোগ আনেন।

পুলিশ রিচার্ডকে একজন আত্মকেন্দ্রিক কাপুরুষ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘রিচার্ড এমন একজন মানুষ যে নিজে ভালোভাবে বসবাস করছেন কিন্তু অন্যর জীবন ধ্বংস করেছেন।’

কিন্তু গ্রেফতার হওয়ার পর রিচার্ড জানান, তার মনে তেমন কোনো চিন্তা ছিল না। তিনি শুধু তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে থেকে আলাদা থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর গ্রেফতার হন তাই ডিভোর্স দিতে পারেননি।

ভিডিওঃ সুপার সেক্সি বেলি ড্যান্সার! তাও আবার ভারতীয়! (ভিডিও)

Advertisements

Add Comment

Click here to post a comment