জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

মানুষের মরদেহ দাফন করা সম্ভব হচ্ছেনা

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরে জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমেছে। আশপাশের কবরস্থান হাটুঁপানি জমায় মানুষের মরদেহ দাফন করা যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবনে চরম দুর্ভোগসহ ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, ভৈরবের মেঘনা নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে বিপদসীমার কয়েক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে।

শহরের জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলেছে এলাকাবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া খাল বিল নদী নালা অপরিকল্পিতভাবে ভরাট করার কারণে এই জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে।

পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন নতুন ড্রেনেজ নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু পৌরসভার এত বড় তহবিল নেই শহর এলাকার ড্রেন নুতনভাবে করার। সরকারি অনুদান পেলেই নতুন ড্রেন নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সারাদেশের মতো ভৈরবেও গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বর্ষণ ও অতি বৃষ্টি হচ্ছে। এই অতি বর্ষণের কারণে ভৈরব শহরের প্রধান পৌর কবরস্থান পানিতে ডুবে গেছে।

ফলে কয়েকদিন ধরে মৃত মানুষের মরদেহ কবরস্থানে দাফন করা যাচ্ছে না। গত শুক্রবার শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়ার মাসুদ নামের এক ব্যবসায়ী মারা গেলে তাকে তার বাড়ির ফুল বাগানে দাফন করা হয়।

এভাবে অনেকের মরদেহ কবরস্থানের পরিবর্তে নিজস্ব জায়গায় দাফন করার খবর পাওয়া গেছে। ভৈরবের শত বছরের পুরোনো কে বি মডেল হাইস্কুলটি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলে এখন হাঁটুপানি।

ফলে কর্তৃপক্ষ স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। একইভাবে শহরের আমলাপাড়া, কমলপুর, নিউ টাউন এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ রাখা হয়।

এতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তিসহ লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। টানা বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু রোডসহ জিল্লুর রহমান বাঁধ রোড, ঘোড়াকান্দা রোড, আমলাপাড়া রোড, নিউ টাউন রোড, কমলপুর রোড ও পঞ্চবটি রোডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগসহ নানা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। শহরের অধিকাংশ সড়ক ভাঙা, বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও সড়কগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেই বলে স্থানীয়রা জানায়।

এ ব্যাপারে ভৈরব পৌর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আল-আমিন বলেন, শহরের নদী নালা খাল বিল এলাকাবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বেআইনি ও অপরিকল্পিকভাবে ভরাট করার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে ভৈরব শহরে অনেক নতুন ড্রেন নির্মাণ করতে হবে।

কিন্তু পৌরসভার তহবিলে এত টাকা নেই বলে জানান তিনি। সরকারি অনুদান পেলেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ে ড্রেনেজের উন্নয়ের জন্য পত্র দিয়েছি। যদি বরাদ্দ পাওয়া যায় তবে আগামী এক বছরের মধ্যই জলাবদ্ধতা দূর হবে।