বিনোদন

মৃত্যুর ২১ বছর সালমানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন মামা কুমকুম

হত্যার আগের রাতেই স্ত্রী সামিরাকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ! গণমাধ্যমকে এ কথা বলেছেন সালমান শাহ’র মেজ মামা আলমগীর কুমকুম। বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রে। সালমানের ডাক নাম ইমন তারই দেওয়া। সম্প্রতি তিনি প্রয়াত এ নায়কের মৃত্যু নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন।

গত সোমবার সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি ফেসবুক ভিডিও বার্তায় জানান, সালমান আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। সে সূত্রে কুমকুম দাবি তুলেছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা, শ্বশুর শফিকুল হক হীরা ও রুবিকে জিজ্ঞাসাবাদের।

কুমকুম জানান, সালমানের মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসেন তিনি। ঢাকায় না গিয়ে সরাসরি সিলেটে চলে যান। সালমানের মৃত্যুর দিন (৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬) ছোটবোনকে নিয়ে ঢাকায় আসার কথা ছিল তার।

তিনি বলছিলেন, ‘বৃহস্পতিবার (সালমানের মৃত্যুর আগের দিন) রাত ১১-১২টার দিকে ইমন আমাকে ফোন করে পরদিন সকালে ঢাকায় আসছি কিনা জিজ্ঞেস করে। আমি হ্যাঁ বলার পর সে আমাকে না করে। সে আমাকে বলে, সকালে আমি সিলেটে আসতেছি, সকালে তোমার সাথে জুমার নামাজ পড়ব। এক সপ্তাহ থাকব, মানসিকভাবে ফ্রেশ হব।’

এরপর সালমান জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে ডিভোর্স লেটারে সাইন করবেন। কুমকুম বলেন, ‘আমি তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে, ওকে নিয়ে আর সংসার করা যায় না। আমি আসলে তোমাকে সব বলব, প্রমাণ দেখাবো। ওকে, ঠিক আছে বলে আমি ফোন রেখে দিই। এটাই ছিল তার সাথে আমার শেষ কথা।’

তিনি বলেন, ‘সামিরাকে ডিভোর্সের কারণ মিডিয়া তাকে (সালমান) জিজ্ঞেস করবে। তখন যাতে বলতে না পারে সে জন্য তাকে রাতের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আলমগীর কুমকুম জানান, সালমানের লাশ সিলেটে নেওয়ার মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন সামিরাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন সামিরার বাবা শফিকুল হক হীরা তাকে যেতে দেননি। তিনি বলেন, ‘দিতি আমার ছোট বোনের বান্ধবী। তাকে আমি ফোনে বলি, জানি না সামিরা কী করছে। কিন্তু সামিরাকে তার স্বামীকে শেষ বিদায় দিতে যেতে হবে। দিতি আমাকে বলল, আসেন বাসায়। দিতি আমাকে নিয়ে গেল। আমি গিয়ে ওখানে অনেক মহিলাকে বসা পাই। ওই হীরা, উনি আগে ছিল বেয়াই। এখন বেয়াই না। উনি এক পুলিশ অফিসারকে নিয়ে বসে ছিলেন। হীরা বললেন, না ও যাবে না। তখন আমি তাকে বললাম, সামিরার দায়িত্ব স্বামীকে শেষ বিদায় দেওয়ার। সামিরা পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও সে কোন কথা বলেনি। রুবি তখন ওখানে দাঁড়ানো। ও তখন বলেছে, না ও যাবে না। উনি কে? উনাকে তো আমি চিনি না।’

মৃত্যুর দশদিন পর সালমান শাহ্‌র মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী, ছোট ভাই, শ্বশুর হীরা, শাশুড়ি লুসি, স্ত্রী সামিরা, গোয়েন্দা পুলিশসহ সালমানের ফ্ল্যাটে যান আলমগীর কুমকুম। সেখানে সালমানের শ্বশুর হাসাহাসি করলে তিনি রেগে যান। কুমকুম বলছিলেন, ‘ডিবি পুলিশের তৎকালীন ডিসি বদরুল করিম সাহেব সেখানে ছিলেন। পাশের বাসায় লোকজন সাক্ষ্য দিয়েছে তারা রাত দুটা-আড়াইটার দিকে সালমান শাহ্‌ যে রুমে ছিল সে রুমে ধস্তাধস্তি দেখেছেন। খাবার ছিল না খাওয়া। বাথরুমে ও সুটকেসে ভেজা কাপড় ছিল। সামিরার একটাও দামি কাপড়-চোপড় পাওয়া যায়নি। ইঞ্জেকশনে অ্যাম্পুল, খালি সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে আমার সামনে— ওগুলো গেল কোথায়? সবগুলোর ফটোগ্রাফ আছে আমার কাছে, লাগলে দিব।’

সালমানকে যে হত্যা করা হয়েছে তার অন্যতম আলামত হিসেবে তিনি বলেন, ‘সালমান শাহ্‌ মালবোরো সিগারেট খেত। কিন্তু তার রুমে ৩-৪টা বেনসন সিগারেটের টুকরো পাওয়া গেছিল। যেটা ডিসি, ডিবি বদরুল আমিন সাহেব আমার সামনে আলামত হিসেবে জব্ধ করেন।’

এদিকে সালমানের মৃত্যুর ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রহস্যের জট আজও খোলেনি। পুলিশ আত্মহত্যা হিসেবে এটাকে চালালেও পরিবারের দাবি সব সময়ই ছিল, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে।

সালমান পরিবারের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা ও সামিরার বর্তমান স্বামী মোস্তাক ওয়াইজ। তিনি সালমান শাহর বাল্যবন্ধুও। সালমান শাহর মৃত্যুর তিন বছর পর মোস্তাক ওয়াইজ বিয়ে করেন সামিরাকে। সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে এখন পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলেননি সামিরা ও তার স্বামী মোস্তাক।

পরিবারের তরফ থেকে জানা গিয়েছিল, সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা স্বামী মোস্তাকসহ থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মোস্তাক ওয়াইজ স্ত্রীসহ দেশেই রয়েছেন। ঢাকার গুলশান এলাকায় মঙ্গলবার মোস্তাকের সাথে সাক্ষাৎ ও কথা হয়েছে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর। বলা যায় প্রথমবারের মতো মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন সামিরার স্বামী মোস্তাক।

সালমানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি সামিরাকে বিয়ে করেন বলে জানান। মোস্তাক বলেন, ‘সালমান শাহ আমার বন্ধু। তাকে আমি অনেক পছন্দ করতাম। সালমান মারা যাওয়ার ৩ বছর পর আমি সামিরাকে বিয়ে করি। সামিরা প্রথমে এই বিয়েতে রাজি ছিল না। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়।

সামিরার বিরুদ্ধে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তারপরও সামিরাকে বিয়ে করেন মোস্তাক। সে সময় তার সঙ্গে সামিরার পরকীয়ার গুঞ্জন ওঠে। এ বিষয়ে মোস্তাক বলেন, সামিরার সঙ্গে আমার পরকীয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ সামিরা আমার বন্ধু সালমান শাহর স্ত্রী। তাদের লাভ ম্যারেজ ছিল। সেখানে আমার সঙ্গে কেন পরকীয়া হবে?

মোস্তাক বলেন, আসলে আমি আমার বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই সামিরাকে পরে বিয়ে করেছি। ইমনের (সালমান শাহ) মৃত্যুর পর সামিরার জীবনটা অনেকে বিষিয়ে তুলেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে তাকে বাঁচাতে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ওকে বিয়ে করেছি।

সামিরা-মোস্তাকের ঘরে দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। বর্তমানে তাদের নিয়ে সংসার করছেন তারা।

Advertisements