Advertisements
অন্যরকম খবর আন্তর্জাতিক

মুসলিম উদ্বাস্তুদের আশ্রয়কেন্দ্র এক গির্জা

মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে খ্রিষ্টান জঙ্গি দল অ্যান্টি-বালাকার হাত থেকে পালিয়ে গির্জায় আশ্রয় নিয়েছে মুসলিমরা।

এক মাসেরও বেশি আগে গির্জায় আশ্রয় নেওয়া এ লোকজন দেশটির দক্ষিণ-পূর্বে একটি ক্যাথলিক গির্জায় ছিল।

গত মে মাসের মাঝামাঝি ভয়াবহ সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাঙ্গাসু শহরের একটি ক্যাথেড্রালে আশ্রয় নেয় অন্তত ১ হাজার ৫০০- এরও বেশি উদ্বাস্তু, যাদের অধিকাংশই মুসলিম। গির্জার পাদ্রি আলাঁ ব্লেইস বিসিয়ালো জানান, ঘরে ফেরার নিরাপদ পরিবেশ এখনও নিশ্চিত হয়নি। শহরে বন্দুক হাতে লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই উদ্বাস্তুদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে।

গত ১৩-১৪ মে অ্যান্টি-বালাকা বাঙ্গাসু শহরের তোকোয়ো এলাকায় ক্রমাগত হামলা চালালে শহরটিতে বর্তমান পরিস্থিতির সূচনা হয়। অ্যান্টি-বালাকা প্রধানত খ্রিষ্টানদের নিয়ে গঠিত। তোকোয়ো প্রধানত মুসলিম এলাকা। হাজারো লোক স্থানীয় মসজিদে আশ্রয় নেয়। কিন্তু পরে মসজিদেও হামলা চালানো হয় এবং মসজিদটির ইমাম নিহত হন। মসজিদে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে বাঁচাতে স্থানীয় ক্যাথলিক পাদ্রি তোকোয়োতে ট্রাক পাঠিয়ে যত সম্ভব মানুষকে গির্জায় নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে বলেন।

শুক্রবার রেড ক্রসের স্থানীয় শাখার প্রেসিডেন্ট আতোঁয়ান মবাও বোগো বলেন, শেষ হিসেব অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সহিংসতায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি বাড়তে পারে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বাঙ্গাসু শহরের ৩৫ হাজার অধিবাসীর অধিকাংশই শহর ছেড়ে পালিয়েছে। কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। বাকিরা প্রতিবেশী গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে আশ্রয় নিয়েছে।

গির্জায় আশ্রয় নেওয়া উদ্বাস্তু আলিদু জিব্রিল জানান, তারা খাদ্য ও কাপড়ের অভাবে সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন। তারা কোথাও যেতে পারছেন না। গির্জায় আশ্রয় নেওয়ার এক সপ্তাহ পর তাদের প্রথমবার খাবার দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অ্যান্টি-বালাকা জঙ্গীরা ব্যবসায়ীদের খাবার সরবরাহ করতে দিচ্ছে না।

রেড ক্রসের স্থানীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বব লিবেঞ্জ বলেন, বাস্তুচ্যুতদের কেউ কেউ গির্জার ভিতরে ঘুমাচ্ছে। বাকিরা গির্জা-প্রাঙ্গণে তোশকের উপর রাত কাটাচ্ছে। অবশ্য একাধিক বেসরকারি সংগঠন খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছে।

দেশটিতে জাতিসংঘপ্রেরিত বাহিনী, ‘মিনুস্কো’-র মুখপাত্র ভ্লাদিমির মন্তিয়েরো জানিয়েছেন, বাঙ্গাসুর নিরাপত্তাহীন অবস্থা অনেকখানি কমে এলেও এখনও বাস্তুচ্যুতদের ঘওর ফেরা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মিনুস্কার নিয়মিত টহল সত্ত্বেও উদ্বাস্তুদের গির্জা ছেড়ে এখনই বাড়িতে ফেরা ঠিক হবে না। তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। অনেকেরই যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন

Advertisements