Advertisements
জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

মুজিব সেনারা কাউয়া তাড়াবেই

মোল্লা আনিস: হাইব্রিড,অনুপ্রবেশকারী,আগাছা, পরগাছা শব্দগুলো ইদানীং আমাদের রাজনীতিতে খুব আলোচিত। তবে আমরা যেভাবেই বলি না কেন, শব্দগুলো একটি বিশেষ প্রজাতিকে নির্দেশ করে, যারা কিনা নিজেদের আসল উদ্দেশ্য গোপন রেখে অন্য একটি দলে প্রবেশ করে, গিরগিটির মতো সেই দলের বর্ণ ধারণ করে, কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে নিজেদের লালসা পূরণ। এদেরকে ঠিক গিরগিটি বললেও যথেষ্ট হয় না। কারণ, সাময়িকভাবে নিজেদের রঙ বদলালেও দলের রাজনীতিতে নিজেদের আদর্শ প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। এরা সুকুমার রায়ের ”হাতিমি” বা ”বকচ্ছপের” চেয়ে কম নয়।

বিভিন্ন সময়ে এদের বিভিন্ন রূপ। এরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে কাউয়া রূপে ধরা দিয়েছে। কাক যেমন সর্বত্র কা কা রবে উচ্ছিষ্ট ভোগ করতে ব্যস্ত এরাও তেমনটা বলেই হয়তো মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের এই উক্তি। তিনি কাউয়া তাড়াতে চান সম্ভবত যেমন করে প্রায় ৫০ বছর আগে বঙ্গবন্ধু তাড়িয়েছিলেন।

 

লেখক : মোল্লা আনিস

 

“কয়েক দিন পূর্বে একটা ধনুক বানাইয়াছি। ধনুকটাকে আমি “বন্দুক” বলে থাকি। ইটের গুঁড়া দিয়ে কাক বাহিনীদের আমি আক্রমণ করলেই ওরা পালাতে থাকে। আবার ফিরে আসে। কিছু সময় কাক মেরেও কাটাইয়া থাকি।’…কারাগারের রোজনামচা।

 

এখানে আমরা দেখতে পাই, কাউয়ারা খানিকক্ষণ দূরে সরলেও সুযোগ বুঝে ঠিকই ফিরে আসার চেষ্টা করে। যদিও আওয়ামী লীগে এইধরনের প্রাণীর আগমন ইদানীংকালে বেশি । কারণ, পূর্বে কাউয়াদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার জন্য একশ্রেণীর রাজনৈতিক দল ভাগাড় বরাদ্দ দিয়ে রেখেছিল বহুকাল। সেই সময়ে শাসক নামের শোষকদের ভোজনসভায় লুটপাট করা খাদ্য উপচে পড়তো, সুতরাং ভাগাড়ে উচ্ছিষ্ট জমতো যথেষ্ট। কিন্তু এখন টানা দুই মেয়াদে ধরিত্রীকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নমুখী সরকার ক্ষমতায় থাকায় সেই শোষকদের হাতে আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে, ভাগাড়গুলিও তাই খালি। কাউয়ারা বুঝে নিয়েছে ঐসব ভাগাড়ের আশেপাশে আপাতত কা কা করে আর লাভ হবে না। তাইতো ঐতিহ্যবাহী অাদর্শের বাহক,পবিত্র সংগঠন আওয়ামীলীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গে তাদের অপবিত্র ঠোঁট ছোঁয়ানোর এত অপচেষ্টা। এসব অপচেষ্টা কখনোই সফলতা পেত না যদি দলের ভেতরে থাকা খন্দকার মোশতাকদের মদদ না পেত।

 

আসলে মুজিব আদর্শ ব্যাপারটা লোহিত কণিকায় না থাকলে ২-১ বছরে আয়ত্তাধীন হওয়ার নয়। তারপরও কেউ ভুল সংশোধন করে সঠিকের সঙ্গী হলে তাকে সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে, কিন্তু নেতৃত্ব কেবলই প্রতি ধাপে রাজনৈতিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই পাবে। সুযোগ নিয়ে কেউ আওয়ামী লীগ নামের সোনার তরীতে ধান বোঝাই করে হাটে হাটে বিক্রি করবে আর পকেট ভারী করবে তা হতে পারে না। প্রয়োজনে সেইসব হাটবাজার চিরতরে বন্ধ করে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করবে না রক্তে মুজিব অাদর্শ বহনকারী মুজিব সেনারা।

 

লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা

Advertisements