অন্যরকম খবর শিক্ষা

মুখে লিখে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে জুবায়ের !

1aজন্ম থেকেই দুটি হাত বিকলাঙ্গ। তবে হাত না থাকলে কি হবে, মনের শক্তি তো আছে ! আর তাই মুখে কলম নিয়ে খাতায় লিখে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে অদম্য সাহসী ছাত্র জুবায়ের। মানুষের মতো মানুষ হওয়ার দুর্বার বাসনায় শুধু ইচ্ছাশক্তি দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য শত প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে এবং শত বাধা উপেক্ষা করে এ বছর জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

জুবায়ের হোসাইন উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের হযরতপুর গ্রামের কৃষক জাহিদ সরওয়ারের ছেলে। ২ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে জুবায়ের দ্বিতীয়। বড়ভাই উমাজুল জাদিদ উল্লাস স্নাতক শেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই পড়ছে নবম শ্রেণীতে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেখাপড়ায় সাফল্য অর্জন করছে জুবায়ের। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। বালারহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাজার দুয়েক পরীক্ষার্থী থাকলেও সবার নজর জুবায়ের হোসাইনের দিকে। কারণ জুবায়ের পরীক্ষার খাতায় লিখছে মুখ দিয়ে। এরই মধ্যে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় ভালো লিখেছে বলে জানান জুবায়ের হোসাইনের শিক্ষকরা। জুবায়ের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) মুখ দিয়ে লিখে উত্তীর্ণ হয়েছিল জিপিএ-৪ পেয়ে।

জুবায়েরের জন্য বালারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সে কক্ষে পাতা হয়েছে একটি বিছানা ও বালিশ। মাথা উঁচু করে লিখতে গিয়ে মাঝেমধ্যে ক্লান্ত হলে বালিশে মাথা রেখে বেডে শুয়ে মুখে কলম নিয়ে খাতায় লিখছে জুবায়ের। বালারহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব আজিজুল ইসলাম বলেন, জুবায়ের হোসাইন আলাদা কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তাকে ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়। ঠিকমতো কথা বলতে না পারলেও ভাঙা ভাঙা শব্দে জুবায়ের হোসাইন বলে, ‘আমি লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই।’ সরেজমিন জুবায়ের হোসাইনের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় মা উম্মে কুলসুমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই জুবায়েরের লেখাপড়ার প্রতি বেশ ঝোঁক ছিল। তাই পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিলাম তাকে স্কুলে ভর্তি করার জন্য। তিনি আরও বলেন, জুবায়ের হাঁটা-চলা করতে পারে না। ভ্যান গাড়িতে করে সে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। স্কুলের খাতায় মুখে কলম নিয়ে লিখে সে। বাবা জাহিদ সরওয়ার বলেন, খাতায় লেখা শিখতে জুবায়েরের প্রায় বছরখানেক সময় লেগেছে। এখন সে স্বাভাবিক মানুষের মতো মুখে কলম নিয়ে লিখতে পারে।

ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই বলে, আমরা জুবায়েরকে কখনোই প্রতিবন্ধী মনে করি না। সে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে না পারলেও, লেখাপড়ায় মেধাবী। বালারহাট মডেল উচ্চবিদালয়ের প্রধান শিক্ষক ফইজুন্নাহার বেগম বলেন, জুবায়ের হোসাইন সপ্তাহে ২ দিন ভ্যান গাড়িতে করে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করে।

ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাজ্জাতুল ইসলাম শান্ত বলেন, আগের পরীক্ষার ফল তার বেশ ভালো। আমরা আশা করি, জেএসসিতেও সে ভালো ফল করবে। জুবায়ের হোসাইনের সহপাঠী মিথিলা, শিরিনা, সাথী ও আরমিনা বলে, জুবায়ের আমাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করে। পড়ালেখায়ও বেশ মনোযোগী। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুবায়েরের বিষয়টি আমাকে কেন্দ্র সচিব জানিয়েছেন।

ভিডিওঃ গান গাইলেন শ্রদ্ধা (ভিডিও)



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন

Add Comment

Click here to post a comment