Advertisements
আন্তর্জাতিক

‘মুক্ত মসজিদ’ যেখানে নামাজ পড়বেন ‘নারী, পুরুষ, শিয়া, সুন্নী ও সমকামী’

লিহান লিমা: সম্প্রতি দেশের প্রথম ‘মুক্ত মসজিদ’ উদ্বেধন করল জার্মানি। এই মসজিদে একই সঙ্গে নামাজ আদায় করবেন ‘নারী, পুরুষ, শিয়া, সুন্নী ও সমকামী’ মুসলিমরা। বোরখা পরতে বা মাথায় কাপড় দিতে হবে না কাউকেই, এমনকি নারীরা আযান দিতে ও ইমামতি করতে পারবেন।
বার্লিনের একটি ক্যাথলিক চার্চের তৃতীয় তালায় ‘ইবন রুশদি গোয়েথে মসজিদ’ টি স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মসজিদের বাহিরে মোতায়ন করা হয়েছে পুলিশ। দার্শনিক ইবন রুশদি এবং জার্মান লেখক জোহান উলফগ্যাং গোয়েথের নামে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে।
মসজিদটির উদ্যোক্তা ও নারী অধিকার কর্মী সায়রা আর্টেস বলেন, ‘এই মসজিদ একটি স্বপ্ন যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।’ আট বছর ধরে এই রকম একটি মসজিদ স্থাপনের স্বপ্ন দেখে আসছিলেন তিনি। যেখানে কোন ভেদাভেদ থাকবে না। তবে রক্ষণশীল মুসমানদের সমালোচনা ও হুমকির ভয় পাচ্ছেন তিনি।
সায়রা বলেন, মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি অন্যান্য ধর্মের ধারণা বদলানোর জন্যই এই পদক্ষেপ। ইসলামের নামে এখন চারিদিকে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদী হামলা চলছে। যা আমরা কখনই চলতে দিতে পারি না। পাশাপাশি আমাদের মতো মুসলিম সমাজের উদারমনষ্ক ও আধুনিক মানুষদেরও উচিত সমাজের সামনে নিজেদের সুন্দর ভাবমূর্তি তুলে ধরা। আপাতত আগামী এক বছরের জন্য একটি ঘর ভাড়া নিয়েছি আমরা।’
তিনি আরো জানান, এই মসজিদে সবাই প্রবেশ করতে পারবেন। মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরতে হবে না, তারা ইমাম হতে পারবেন এবং অবশ্যই পুরুষদের মতো প্রার্থনা করতে পারবেন।’ তিনি আরো বলেন, আগামী দিনে নিজেরও ইমাম হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।
জার্মানিতে বসবাসকারী মুসলিমের সংখ্যা এখন প্রায় ৪০ লাখ। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই তুরস্কের বাসিন্দা। এছাড়া মধ্য এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকা থেকেও বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ গত বেশ কয়েকদশক ধরে জার্মানিতে বসবাস করছেন। এছাড়া ২০১৫ সালের পর থেকে আফগানিস্তান, সিরিয়া এবং ইরাক থেকে শরণার্থীরা সেদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। গত কয়েক বছরে বহুবার সন্ত্রাস হামলার শিকার হতে হয়েছে জার্মানিকে। যারা জন্য ইসলামী চরমপন্থাকে দায়ী করা হয়েছে। মিউনিখ আই/ ডেইলি মেইল/ওয়াশিংটন পোস্ট

Advertisements