slider জাতীয়

মুক্তামনির হাত নিয়ে যে দুঃসংবাদ দিল ডাক্তাররা

বিরল রোগে ভুগতে থাকা মুক্তামণির আক্রান্ত হাতটি শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। রক্তনালির বিশেষ ধরনের টিউমারের কারণে তার এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তবে শিশুটির শরীরের অন্য জায়গায় এখনো তা ছড়ায়নি। বায়োপসি রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চিকিৎসকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁরা জানান, আগামী শনিবার আরেকটি অপারেশন করা হবে। তবে হাত কাটার বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় আরো কিছু চিকিৎসার পর এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

মুক্তামণির বাড়ি সাতক্ষীরায়। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। রোগ নির্ণয়ের জন্য গত শনিবার সকালে তার রোগাক্রান্ত হাত থেকে বায়োপসি নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকরা।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘মুক্তামণির রোগাক্রান্ত হাতে ছোট অপারেশনের মাধ্যমে বায়োপসি টিস্যু নেওয়া হয়েছিল।
গত সোমবার রাতে বায়োপসির রিপোর্ট পাওয়া যায়। এতে শিশুটির রক্তনালিতে এক ধরনের টিউমার ধরা পড়েছে, যা এক রকমের ক্যান্সার। তবে এখনো তা শরীরে ছড়ায়নি। আমরা তাকে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। শিশুটির মা-বাবাও আমাদের চিকিৎসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ’

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এরই মধ্যে ভিডিওতে এবং কাগজপত্রের মাধ্যমে মুক্তামণির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন, রোগটি নিরাময়যোগ্য নয়। এটি খুবই জটিল একটি সমস্যা।

গতকাল মুক্তামণির মা-বাবা চিকিৎসকদের ওপর আস্থা জানিয়ে তাঁদের মেয়ের ভালোর জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো কিছু করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯-১০ বছর ধরে বিরল এ রোগে ভুগছে মেয়েটি। ডান হাত ফুলে পচন ধরে যায়। যা বুকের একাংশসহ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে তার দিন পার হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উদ্যোগে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।