slider অন্যরকম খবর আন্তর্জাতিক

মাথার খুলিটি মানুষের নয়, তবে কার?

রেহেনা আক্তার রেখা: দেখেই মনে হবে মাথার খুলিটি মানুষের। কিন্তু এটি মানুষের মাথার খুলি মনে হলেও আদৌ মানুষের নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি মানুষের মাথার খুলি নয়। পেরুতে পাওয়া  এই লম্বাটে, প্রায় কৌণিক আকৃতির খুলির অনেক ব্যাখ্যা দেন অনেকে। সবচাইতে প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো, এটা হলো পেরুর প্রাচীন সভ্যতার একটি রীতির ফলাফল, যেখানে বাচ্চাদের মাথা শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হতো এবং এর ফলে তাদের মাথা লম্বা হয়ে যেত।

পেরুর পারাকাস এলাকায় পাওয়া যায় এসব খুলি। একই এলাকায় রয়েছে রহস্যময় নাজকা লাইন সমূহ। এই খুলিগুলোর সাথে স্বাভাবিক মানুষের খুলির রয়েছে অনেক পার্থক্য। মানুষের খুলিতে থাকে দুইটি ক্রেনিয়াল প্লেট, ফ্রন্টাল প্লেট এবং দুইটি প্যারাইটাল প্লেট। কিন্তু পারাকাস খুলিতে দেখা যায় মাত্র দুইটি প্লেট, একটি ফ্রন্টাল এবং একটি প্যারাইটাল।

সাধারণ মানুষের খুলির চাইতে এর আয়তন ২৫ শতাংশ বেশী। এর নাক ও চোখের কোটর স্বাভাবিকের চাইতে বড়। এছাড়াও খুলির পেছনে স্নায়ুর জন্য রয়েছে দুইটি ছিদ্র। সাধারণ একটি মানব খুলির হাড় এত পুরু হতে দেখা যায় না। এদের চোয়ালও অনেকটা বড় এবং দাঁতের সংখ্যা কম। এসব থেকে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে এই খুলি মানব খুলি নয়।

তবে অনেকে এইসব মাথার খুলিগুলি এলিয়েনদের বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু তার পরেও অনেক নৃবিজ্ঞানী এদেরকে এলিয়েন খুলি বলে মানতে নারাজ। কিন্তু স্পেন এবং রাশিয়ার নৃবিজ্ঞানীরা একে পর্যবেক্ষণ করে মত দেন, এই শরীরগুলো মানুষের নয়। এ থেকেই মূলত ধারনাটি শক্ত হয় যে, এগুলো প্রাচীন এলিয়েনের শরীর এবং তাদেরকে দেখে সে সময়ে কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর মানুষের মাঝে মাথা বাঁধার প্রচলন হয়েছিলো।

কিন্তু শুধু পেরু নয় বরং বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায় দেখা যায় বিকৃত এবং স্বাভাবিকের চাইতে বড় খুলির নমুনা। মায়ান সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা, মেক্সিকান, ভূমধ্যসাগরীয়, মেলানেশিয়, এমনকি ভ্যাটিকান এলাকাতেও পাওয়া গেছে এমন বিকৃত খুলি। তাদের কোনটি শুধুই লম্বাটে, কোনটি বৃহৎ এবং গোলাকার, কোনটি কৌণিক। এখনো পর্যন্ত এই সব মাথার খুলি এলিয়েনের নাকি অন্য কোন প্রাণীর সেটা রহস্যেই থেকে গেল। তবে এই খুলিগুলি যে মানুষের নয় সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।