খেলা-ধুলা

মাতালেন পাকিস্তান, বিদায় বেলায় ধন্যবাদ জানালেন রোনালদিনহো

পাকিস্তানের মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট হয়েছে আজ থেকে আট বছর আগে। ২০০৯ সালের মার্চে একটি টেস্ট সিরিজ চলার সময়ই লাহোরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানের নামের পাশে পড়ে গেছে লাল কালির দাগ। মাঝে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান পাকিস্তান সফর এবং পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি লিগের (পিএসএল) ফাইনাল হলেও কাটেনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের নির্বাসন।

এমন অবস্থায় যেন ঈদের চাঁদ হাতে পেলো পাকিস্তান। নিরাপত্তাহীন সেই পাকিস্তানেই দু’টি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নিলেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রোনালদিনহোসহ আট তারকা ফুটবলার। করাচি ও লাহোরে দর্শকে ভরা গ্যালারির ভালোবাসায় আপ্লুত রোনালদিনহোও। তাইতো বিদায়বেলায় ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা জানালেন, ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান!’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে আরেকটি পোস্টে পাকিস্তানকে শান্তির জায়গা বলেও উল্লেখ করেন ব্রাজিলের এই তারকা। পুরো পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি দেশটির আর্মি ও স্টেডিয়ামে আসা দর্শকদেরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে আবারও পাকিস্তানে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন রোনালদিনহো।

১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তানে ভালোই জনপ্রিয় ছিল ফুটবল। সে সময় এশিয়ার অন্যতম সেরা দলগুলোর মধ্যেই ছিল পাকিস্তানের নাম। কিন্তু এরপর সরকারি সহায়তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কমে যাওয়ায় অবনতি হতে থাকে পাকিস্তান ফুটবলের। বর্তমানে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ২০০তম স্থানে আছে পাকিস্তানের নাম। তাইতো ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট করতে রোনালদিনহোসহ বেশ কয়েকজন সাবেক তারকা ফুটবলারকে ডেকে এনেছিল পাকিস্তান।

রোনালদিনহো ছাড়াও পাকিস্তানে প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাওয়া ফুটবলারদের মধ্যে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা রায়ান গিগস, ব্রাজিলের সাবেক তারকা রবার্তো কার্লোস, সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক ডেভিড জেমস, নেদারল্যান্ডের জর্জ বোয়ার্তে, ফ্রান্সের সাবেক তারকা রবার্ট পিরেজ ও নিকোলাস আনেলকা এবং পর্তুগালের সাবেক তারকা লুইস বোয়া মোর্তে।

দু’টি প্রদর্শনী ম্যাচেই ‘রোনালদিনহো এন্ড ফ্রেন্ডস’ গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদিনহো। সেভেন-এ-সাইড ম্যাচে দুই দলে ভাগ হয়ে খেলা এই তারকাদের সঙ্গী ছিলেন পাকিস্তানের তারকা ফুটবলাররাও। এই দুই ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য রোনালদিনহোকে ছয় লাখ মার্কিন ডলার (চার কোটি ৮৭ লক্ষ ৫০টাকা) দিয়েছে পাকিস্তানের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। রোনালদিনহো ছাড়া বাকি সাত তারকাও পেয়েছেন তিন থেকে চার লাখ মার্কিন ডলার করে।

যদিও জয়-পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল না এ ম্যাচে, তবে স্থানীয় দর্শকদের পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিতেই যেন দুই ম্যাচেই গিগসের দলকে হারিয়েছেন রোনালদিনহোর দল। শনিবার করাচির আব্দুল ছাত্তার ইধি হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ম্যাচটি। আর রোববার লাহোরে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় ম্যাচটি। ম্যাচের টিকেটগুলো বিক্রি হয়েছে চড়া দামেই। স্টেডিয়ামে ঢুকতে পাকিস্তানিদের গুণতে হয়েছে ২০০০ থেকে ৩০ হাজার রুপি।

খেলোয়াড় এবং পুরো ইভেন্টে নিরাপত্তার নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তান আর্মিকে। স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর এমনকি পথেঘাটেও সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা ছিল হেলিকপ্টারও। কড়া নিরাপত্তায় রোনালদিনহোদের খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার দর্শক।