অপরাধ/দুর্নীতি আইন-আদালত গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

স্ত্রীর যৌনাঙ্গে রডের গরম ছ্যাঁকা, মায়ের নির্যাতনে বাবার বিচার চায় ছেলে, অর্থাভাবে চিকিৎসা ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : গাজীপুরের কালীগঞ্জে মা মরিয়ম বেগমকে (৩৬) অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় বাবা তমিজ উদ্দিনের (৫০) বিচার চায় ছেলে মো. তামিম ভূইয়া (১৮)। গতকাল রোববার বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহিলা ওয়ার্ডে ২৪ নং বেডে মায়ের শিয়রে বসে অশ্রæসিক্ত নয়নে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত অন্য রোগী ও দর্শনার্থীদের মাঝে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

নির্যাতিতা ও নির্যাতনকারী দম্পতির বড় ছেলে তামিম জানায়, তার বয়স যখন ৭ বছর তখন থেকে বাবা তমিজ উদ্দিন মা মরিয়ম বেগমকে নির্যাতন করতো। কিন্তু আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও মায়ের কোন চিকিৎসা করতো না। মা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে নানা বাড়ীতে চলে যেত। সেখান থেকে সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরত।

তামিম জানায়, নির্যাতনের পর মা নানা বাড়ী চলে গেলে বাবা তাকে মিছে সন্দেহ করতো। নানা বাড়ীর এক লোকের সাথে পরকিয়ার সন্দেহ করতো এবং বিভিন্ন সময় মারধরের ভয় দেখিয়ে বাবা পরকিয়ার সম্পর্কের কথা স্বীকার করাতো। সম্প্রতি মাকে নির্যাতনের ঘটনায় সে প্রতিবাদ করতে গেলে তামিমকে মেরে তার হাত ভেঙ্গে দেয়। এ কারণে বাড়ীর আশে-পাশের লোকজনও ভয়ে প্রতিবাদ করতে যেত না। প্রতিবাদ করতে গেলেই তাদের দা-বটি দিয়ে কোপাতে আসে।

তামিম আরো জানায়, ২০০৯ সালের একটি হত্যা মামলার আসামী তার বাবা। মায়ের অনুমতি ছাড়া বাবা আরো ৫টি বিয়ে করে। কিন্তু একটিও টিকেনি। চার ভাইসহ ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিল বাবা। এজন্য মা বাবার কথায় বিদেশ পারি দেয়। সংসারের সুখের জন্য নিজের লেখাপড়া বাদ দিয়ে ছোট থেকে দিন-রাত বাবার সাথে কাজ করেছি। তবুও সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। আসলে বাবা বড় নিষ্ঠুর। তাই তার সঠিক বিচার হওয়া দরকার, তার বিচার চাই।

কালীগঞ্জ থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চার সন্তানের জননী মরিয়ম বেগমকে রডের গরম ছেঁকা দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আটক করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনার আরেক আসামী নরসিংদীর মাধবদী এলাকার সুমন নামের একজনকে খুঁজছে পুলিশ।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো. ছাদেকুর রহমান আকন্দ জানান, তারা তাদের সাধ্যমত নির্যাাতিতা ওই নারীর চিকিৎসা করছেন। সরকারী হাসপাতাল অনেক কিছুই থাকে না। তারপরও বিভিন্ন সাহায্য সহযোগীতায় চিকিৎসা চলছে।

উল্লখ্য, গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার (৪-৭ সেপ্টেম্বর) চার দিন ঘরে আটকে রেখে স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ওপর নির্যাতন চালায় স্বামী তমিজ উদ্দিন। এ সময় লোহার রড গরম করে স্পর্শকাতর অঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেয়। কেটে ফেলা হয় স্ত্রীর দুই স্তনের বোঁটা। তা ছাড়াও তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়।

কালীগঞ্জ সরকারী হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে নির্যাতিতা মরিয়ম।