খেলা-ধুলা

মজার যত ইতিহাসের সাক্ষী বিপিএল ফাইনাল

1481259089আজ পর্দা নামছে বিপিএলের। শেষ হাসিটা হাসবে কে? উত্তর জানা যাবে ফাইনালের পর। এর আগে জেনে নেওয়া যাক আগের তিন আসরের ফাইনালের ফল। দুবারই অবশ্য শিরোপা গেছে ঢাকার ঘরে। আর সবশেষ আসরের শিরোপা ছিল কুমিল্লার।

সেমিফাইনাল নিয়ে কেলেংকারির পর শেষ পর্যন্ত বিপিএলের প্রথম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস আর বরিশাল বার্নারস। টসে হেরে ব্যাট করা বরিশাল অল্পতেই আহমেদ শেহজাদকে হারালেও (২৮) ব্র্যাড হজের অপরাজিত ৭০ রানে ভর করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল দক্ষিণের দলটি।

কিন্তু অন্য কেউ তো সঙ্গ দিলেন না অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়টিকে! মাস্টার্ড ৫, মমিনুল ১১, মিঠুন ১ আর ফরহাদ হোসেনের ১১ রানে ২০ ওভারে ১৪০ রানের বেশি করতে পারেনি বরিশাল। ৩ উইকেট নেন শহীদ আফ্রিদি। জবাবে ইমরান নাজিরের ৪৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংসেই ‘গেইম ওভার’।

৬ ছক্কা আর ৬ বাউন্ডারিতে নাজিরের এই ইনিংসটাই তো বরিশালের অর্ধেক রানের চেয়ে বেশি। এনামুল হকও ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে যান ফাইনালে। ১৫ ওভার ৪ বলেই জয়ের গন্তব্যে গ্ল্যাডিয়েটরস, প্রথম বিপিএল শিরোপা তাদেরই।

২০১৩

চিটাগং কিংসকে ৪৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের শিরোপা নিজেদের কাছেই রেখে দেয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৭২ রান করেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। অবশ্য ঢাকার এই রানে চট্টগ্রামের ফিল্ডারদের অবদান কম নয়। ক্যাচ পড়েছে হরদম, অতিরিক্ত রান এসেছে অবিরাম।

টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিল চিটাগং। ঢাকার আশরাফুল শুরুর ভাগ্যে চড়ে এগিয়েছেন বেশ কিছুটা। কিন্তু বারদুয়েক জীবন পেয়েও আশরাফুলের রান মোটে ২৪!

এনামুল-সাকিবের ৩১ বলে ৪৮ রানের জুটিতে কাটে বিপদ। এনামুল খেলেছেন ৩৬ বলে ৫৮ রানের দারুণ এক ইনিংস। সাকিব ২৯ বলে ৪১ রান করার ফাঁকে আউট হতে হতে বেঁচে গেছেন বেশ কয়েকবার। তাই পৌনে ২০০-র কাছাকাছি রান ঠিকই করে আগের বারের চ্যাম্পিয়নরা।

রান তাড়া করতে নামা প্রতিপক্ষের ৪ উইকেট ১৬ বলের মধ্যে তুলে নিয়ে অধিনায়ককে নির্ভার করেন বোলাররা। চিটাগংয়ের স্কোর ৫ উইকেটে ৬৫ রানে পরিণত হওয়ার পর লড়াই জারি রাখে মূলত মাহমুদ উল্লাহর ব্যাট। ২৭ বলে ৪৪ রান করে ফেলেন অধিনায়ক, তাতে শেষ ২৪ বলে তিন উইকেট হাতে নিয়ে ৪৬ রানের প্রয়োজনীয়তায় এসে যায় চিটাগংয়ের ইনিংস। আলফনসো থমাসের করা ১৭ নম্বর ওভারে মুছে যায় ওই সম্ভাবনার সব অঙ্ক। প্রথম বলে মাহমুদ, দ্বিতীয় বলে তাসকিন, হ্যাটট্রিক বল বাদ দিয়ে পরেরটিতেই এনামুল হক জুনিয়র আউট। ১৬.৪ ওভারে চিটাগং কিংস তাই অলআউট ১২৯ রানে। ৪৩ রানের জয় ঢাকা গ্লাডিয়েটরসের।

২০১৫

বিপিএলের শুরুতে তাঁকে দলে নিতে চায়নি কেউ। সেই অলক কাপালির ব্যাটেই জিতল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। বরিশাল বুলস ১৫৬ রান তুলে ফেলার পরও। শাহরিয়ার নাফীসের ৩১ বলে অপরাজিত ৪৪ ও মাহমদু উল্লাহর ৩৬ বলে ৪৮ রানে ওই সংগ্রহ বরিশালের। বড় রান তাড়া করতে নেমে ইমরুল কায়েসের ব্যাটে ভরসা পায় ভিক্টোরিয়ানস। মাহমুদ উল্লাহকে ছক্কা কেভন কুপারকে অফ ড্রাইভে অসাধারণ চারের মারের পাশাপাশি সেকুগে প্রসন্নকে টানা দুই বলে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে মাত্র ৩৩ বলে ফিফটিতে পৌঁছে যান ইমরুল। বরিশাল বুলস তাদের ইনিংসের প্রথম ১৩ ওভারে করেছিল ৭৯ রান। শেষ ৭ ওভারে ৭৭ করে স্কোর নিয়ে যায় ১৫০-র ওপর। অথচ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ইনিংস কিন্তু অমন দুটি ভিন্ন চেহারার ছিল না। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৭৭ রান তোলে মাশরাফির দল। জয়ের জন্য ফেভারিট তখন কুমিল্লাই। পরের ১০ ওভারে আট উইকেট নিয়ে কী আর ৮০ রান করতে পারবে না!

ইমরুল আউট হওয়ার সময়ও ৫০ বলে মোটে ৬৫ রান চাই। সহজেই তো ম্যাচটি জেতার কথা। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা ক্রমেই কঠিন করে তোলেন তা। আর ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে স্টিভেন্স ও মাশরাফিকে যখন আউট করেন কুপার, সম্ভাবনার পাল্লা অনেকখানি হেলে বরিশালের দিকে। তখনো কারো কষ্টকল্পনাতে আসেনি, মঞ্চে শেষবেলার নায়ক হিসেবে আবির্ভাব হবে অলক কাপালি। ২৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংসটা খেলে কুমিল্লাকে ভিক্টোরিয়ানস তো বানালেন কাপালিই!

♦ প্রথম তিন আসরের শিরোপা উঠেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে। এবারই প্রথম ফাইনালে যেতে পারেনি তাঁর দল।

♦ ফাইনালের সর্বোচ্চ রান ১৭২। চিটাগং কিংসের সঙ্গে ২০১৩ সালে করেছিল ঢাকা গ্লাডিয়েটরস।

♦ তিন ফাইনালে সবচেয়ে কম রান ১২৯। ২০১৩ সালে ঢাকা গ্লাডিয়েটরসের ১৭২ রানের জবাবে ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় চিটাগং কিংস।

♦ আগের তিন ফাইনালে দুবার জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। শুধু ২০১৩ সালে প্রথমে ব্যাট করে ৪৩ রানের জয় পায় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস।

♦ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ইমরান নাজিরের। ২০১২ সালে বরিশাল বার্নার্সের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় বিস্ফোরক ইনিংসটি খেলেছিলেন ঢাকা গ্লাডিয়েটরসের এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান।

♦ সবচেয়ে বেশি ৪ উইকেট রুবেল হোসেনের। ২০১৩ সালে ঢাকার বিপক্ষে ৪৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েও অবশ্য চিটাগংকে জেতাতে পারেননি এই পেসার।-কালেরকেন্ঠ

ভিডিও নিউজ : চিংড়ি কেনার আগে ভিডিও টি দেখুন

Advertisements

Add Comment

Click here to post a comment