অপরাধ/দুর্নীতি

ভোলার দৌলতখানে অবৈধ গর্ভপাত ব্যবসা

ভোলার দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ডক্টরস কোয়ার্টার দখল করে অনৈতিক (অবৈধ গর্ভপাত) ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) সেলিনা পারভীন এমন কাজ করছেন বলে জানা যায়। তাকে কোয়ার্টার ছেড়ে দেয়ার জন্য বারবার নোটিশ করা হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে ওই কোয়ার্টার ছাড়ছেন না। বৃহস্পতিবার ছিল চূড়ান্ত নোটিশের সর্বশেষ সময়। কিন্তু এ দিনও তিনি ওই কোয়ার্টার দখল ছাড়েননি।

এদিকে ওই কোয়ার্টার ছাড়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৬ জন ডাক্তার আলটিমেটাম দিয়েছেন। সেলিনা পারভীন কোয়াটার না ছাড়লে ডাক্তাররা কেউ ওই কোয়ার্টারে থাকবেন না এমন আলিমেটামের কথা জানান সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার।

সেলিনা পারভীনকে কোয়ার্টার ছাড়ার জন্য গত ৪ জুন চিঠি দেয়া হয়। পর পর আরও দু’বার নোটিশ করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বরাদ্দ। তবু কোয়ার্টার ছাড়তে নারাজ সেলিনা পারভীন। উল্টো তার ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা হামজা রহমান অন্তুর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের হুমকি দিচ্ছেন।

সিভিল সার্জন আরও অভিযোগ করেন, ওই পরিবার কল্যাণ কর্মী কোয়ার্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

কমপ্লেক্সের ডাক্তারসহ বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ওইে কোয়ার্টারে অনেক বহিরাগত আসেন। অবৈধ গর্ভপাতসহ অনেক অনৈতিক কাজ করা হচ্ছে। গর্ভপাত ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা অন্তুর জানান, তার মা ওই কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে থাকছেন। তাকে বাসা থেকে সরানোর জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। অপরদিকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মাহামুদুল হক আযাদ জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের কোয়ার্টার ছেড়ে দেয়ার নোটিশের কপি তিনিও পেয়েছেন। এফডব্লিউভি সেলিনা পারভীন ওই কোয়ার্টার বরাদ্দ পাওয়ার অধিকার রাখেন না।

২০১৪ সালের ২৯ জুন ডাক্তারের জন্য নির্ধারিত একটি কোয়ার্টার শূন্য থাকায়, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্ত সাপেক্ষে কোয়ার্টার বরাদ্দ দেন তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা । শর্ত ছিল ডাক্তারদের প্রয়োজনে ওই কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে হবে। এদিকে কোয়ার্টার না ছাড়ায় বিষয়টি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে বরিশাল বিভাগীয় পরিচালককেও জানানো হয়। একই কথা জানান উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অচিন্ত কুমার ঘোষ।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেলিনা পারভীন জানান, তাকে কোয়ার্টার ছাড়তে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই কমপ্লেক্সে তার মতো আরও অনেকে রয়েছে তাদের নোটিশ দেয়া হয়নি। তিনি ওই কোয়ার্টার তার নামে বরাদ্দ নিয়েছিলেন। বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কাটা হয়। বৈধভাবে আছেন বলেও দাবি করেন।

অন্যদিকে তার কোয়ার্টারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। কোয়ার্টারে থেকে অনৈতিক কাজ করছেন এমন অভিযোগ সঠিক নয়। চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তার আবাসস্থলই হচ্ছে কর্মস্থল। কোনো বহিরাগত আসেন না বলেও দাবি করেন।