Default রাজনীতি

ভূঞাপুরে আ’লীগ নেতাকে গলাকেটে হত্যা

tangail-forid-jugantor_33086_1481029678টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদকে (৫৫) গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভারই গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

ফরিদ ভারই গ্রামের আব্দুল মজিদ মাস্টারের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তার জানান, প্রতিদিনই তার স্বামী ব্যবসা ও রাজনীতির কারণে অনেক রাতে বাড়ি ফিরতেন। সোমাবার রাত দশটার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইলে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। কোথায় আছে এবং রাতে কী দিয়ে ভাত খাবে? সেটা মেয়ে জানতে চায়। রাত বারটার পর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, মনে করেছিলাম সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের বাড়িতে রয়েছে। সেকারণে হয়ত মোবাইল বন্ধ রেখেছে। এরপর আর রাতে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে তার পরিহিত কাপড় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশিরা খবর দিলে গিয়ে দেখি, আমার স্বামীর লাশ পুকুরের পানিতে ভাসছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ভারই গ্রামের সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদ টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর রোডের কাগমারীপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন এক্সপোর্ট ট্রেডিং বিডি লিমিটেডে (ইটিজি) ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঠিকাদারী কাজে জড়িত ছিলেন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন, ভূঞাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা মন্ডলসহ পিবিআই ও র‌্যাবের একটি দল।

জানা যায়, জেলা পরিষদ নির্বাচন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রকিবুল ইসলাম ফরিদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিন ধরে এই নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের বাসায় একাধিকবার বৈঠকও হয়। এতে প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ ভোলা, তাহেরুল ইসলাম তোতা ও অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের একাধিকবার তর্ক-বির্তক হয়।

অন্যদিকে অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে নুরুল ইসলামের পক্ষে কাজ না করায় ফরিদকে একাধিকবার হুমকিও দেয়া হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম জানান, রকিবুল ইসলাম ফরিদ একটি ডালের মিলে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতাকে নিয়ে কঠাক্ষ করলে সেখান থেকে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এ নিয়ে ফরিদকে হুমকিও দেয়া হয়। মৃত্যুর আগে ফরিদ একাধিকবার তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ার বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছিল।

ভূঞাপুরের সাবেক পৌর মেয়র ও নিহত ফরিদের চাচাতো ভাই আমিনুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ বলেন, দলীয় কোন্দলের কারণে ফরিদকে হত্যা করা হতে পারে। সঠিক তদন্ত হলেই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের হয়ে আসবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ জানান, রকিবুল ইসলাম ফরিদ সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রেখেছে। সঠিকভাবে তদন্ত করে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

ভূঞাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা মন্ডল জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ভাই ফজলুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তদন্ত করে খুনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।

 

Advertisements

Add Comment

Click here to post a comment