খেলা-ধুলা

ভারতের শোচনীয় পরাজয়ে সৌরভ সহ সাবেক গ্রেটরা যত ক্ষোভ জাড়লেন

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় বোলিংকে দিশাহীন বলছেন ধারাভাষ্যকাররা। সে–কারণেই ভারত পিছিয়ে পড়ল। এবং সব বিভাগেই টেক্কা দিল সরফরাজের পাকিস্তান।

সৌরভ গাঙ্গুলি বলেই ফেললেন, ‘অতিরিক্ত কিছু করতে গিয়েই ভারতীয় বোলাররা নিজেদের চাপে ফেলে দিয়েছে।

বুমরাকে দেখে মনে হল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল এবং বিপক্ষ পাকিস্তান এই দুটো চাপ সামলাতে পারল না। জঘন্য বোলিং ভারতের। একমাত্র ভুবনেশ্বর কুমার ছাড়া আর কোনও বোলার পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখতে পারল না! জানি না কী হল ভারতীয় বোলারদের? সত্যি এত খারাপ বোলিং পারফরমেন্স ভাবা যায় না। ’

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। এ জয়ের ফলে ২৫ বছর পর আইসিসির কোনও ইভেন্টে শিরোপা পেয়েছে ইমরান-ওয়াসিমের উত্তরসূরীরা।

এছাড়াও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডও করেছে সরফরাজবাহিনী। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের ম্যাচটি ছিল সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। সেবার অস্ট্রেলিয়া ভারতের বিরুদ্ধে ১২৫ রানের জয় পেয়েছিল।

প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেন তো বলেই দিলেন, ‘পাকিস্তান দেখিয়ে দিল, ওদের নিচু চোখে দেখা উচিত হয়নি। এই পাকিস্তান সত্যি চমকে দিল ক্রিকেট বিশ্বকে। ’

সৌরভের মূল্যায়ন এরকম, ‘ভারতের বিরুদ্ধে এজবাস্টনে প্রথম ম্যাচ হেরে যাবার পর প্রতিটা ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্ত উন্নতি করেছে। যার প্রমাণ ফাইনাল। দুরন্ত ব্যাটিং। সঙ্গে দুরন্ত বোলিং। দাঁড়াতেই দিল না ভারতকে। মনে রাখতে হবে নবাগত ফাখারের ব্যাটিং। ওকে দেখে কে বলবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাট করল!

সুনীল গাভাসকার মতে, পাকিস্তানের ৩৩৮ রানে বোঝা ভারতীয়দের ফাইনালে ব্যাকফুটে ঠেলে দিল। তার কারণ, ভারতীয় বোলিংয়ের দৈন্য অবস্থা। ‘এত পরিকল্পনাহীন ভারতীয় বোলিং বহুদিন দেখিনি। অশ্বিন–জাদেজা জুটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনিং জুটিকে ফাখার একাই শেষ করে দিল। এত বাজে বোলিং হলে তখন দলের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপটা স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে। সেটাই হল। ফাইনালে ৩০০ রানে বোঝা সবসময় বেশ কঠিন হয়ে থাকে। সঙ্গে এই পাকিস্তানি বোলিং। কোনও সন্দেহ নেই পাক বোলিংয়ে যা বৈচিত্র রয়েছে তা পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে দেখতে পাওয়া যায় না। ’

এদিকে ভারতকে সর্বোচ্চ ১৫৯ রানে হারানোর রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের। চার দশকের বেশি সময় ধরে থাকা ওই রেকর্ডই স্বপ্নের ফাইনালেই ভাঙল সরফরাজ বাহিনী।

রোববার ওভালে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আলোচিত দ্বৈরথে টসে জয়লাভ করেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান।

ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ফখর জামানের সেঞ্চুরি ও হাফিজের ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান করে সরফরাজবাহিনী। পাকিস্তানের দেয়া ৩৩৯ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৩ ওভারে মাত্র ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ভারতীয় ইনিংস।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফাইনালে যোগ্য দল হিসেবে কর্তৃত্ব দেখাল সরফরাজের পাকিস্তান তা মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিং। ‘টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ বাজে ভাবে হেরে যাবার পর পাকিস্তান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। দেখার মতো, একটা দল যেভাবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের ছাপিয়ে গেল। না, এমন সচরাচর দেখা যায় না।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তান জিতলে সেটাই হবে যোগ্য দলের জয়। সত্যি, ভারতীয় বোলিং চোখে দেখা যায় না। এত খারাপ বোলিং ভারতের এই প্রতিযোগিতায় আগে দেখা যায়নি। পাকিস্তান তিন বিভাগেই ভারতকে টেক্কা দিল। ’‌

ভারত অধিনায়কের বোলিং পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শেন ওয়ার্ন। লন্ডনের ওভালে ফাইনালে ধারাভাষ্য দেবার সময় ওয়ার্ন সরাসরি প্রশ্ন করে বসলেন। ‘কোহলির বোলিং চেঞ্জ দেখে আমার মনে হয়েছে ওর কোন পরিকল্পনাই নেই ফাইনালের। পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের থামানোর কোনও পরিকল্পনা দেখতে পেলাম না। কোহলিকে দেখে মনে হচ্ছে ক্যাপ্টেন হিসেবে ও দিশেহারা হয়ে গেছে। ’‌



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন