Advertisements
খেলা-ধুলা

ভারতকে হারাতে ইতিহাস গড়তে পাকিস্তানকে কাজে লাগাতে হবে কিছু কৌশল। কি সেই কৌশল?

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম শিরোপার হাতছানি পাকিস্তানের সামনে। রোববার ওভালের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। টুর্নামেন্টে দুদলের আগের দেখায় সরফরাজ আহমেদরা বড় ব্যবধানে হেরেছিল ভারতের কাছে। তবে সেই হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা ৩ জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের মতো দলকে টপকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নাম লিখিয়েছে তারা। তবে তারকায় ঠাসা বিরাট কোহলির দল পারফরম্যান্স আর সামর্থ্যের বিচারে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবুও ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেরা আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ বলে কথা। ‘আন্ডারডগ’ পাকিস্তানও সহজে ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। তারুণ্যনির্ভর দলটি শিরোপা ঘরে তুলবে কি না তা জানা যাবে আগামীকাল (রোববার)। তবে বৈরী প্রতিবেশী ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে পাকিস্তানকে কাজে লাগাতে হবে কিছু কৌশল। কি সেই কৌশল?

এক. মনোযোগ রাখতে হবে খেলায়

পাকিস্তান-ভারত লড়াই মানে উত্তেজনার পারদ আকাশছোঁয়া। তার উপরে এবার দুদলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। তাই ক্রিকেটারদের ছুঁয়ে যাচ্ছে রোমাঞ্চ। তবে ভারত অধিনায়ক কোহলি জানিয়েছেন, আর পাঁচটা সাধারণ ম্যাচের মতোই চাপমুক্ত হয়ে খেলবেন তারা। জয় পেতে পাকিস্তানকেও ঠিক একইভাবে মাঠে নামতে হবে নির্ভার হয়ে। বাড়তি চাপ নিলেই বিপদ! মনোযোগ দিতে হবে মাঠের খেলায়। ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকাকেও পাত্তা দেয়া যাবে না। মাঠে ঢেলে দিতে হবে নিজেদের সেরাটা।

দুই. জ্বলে উঠতে হবে বাবরকে

সময়ের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভাবান ব্যাটার বাবর আজম। ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন নম্বর পজিশনে খেলেন তিনি। ২২ বছর বয়সী তারকা মাত্র ৩০ ওয়ানডেতেই হাঁকিয়েছেন ৫টি সেঞ্চুরি। তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে তার ব্যাটিং দুর্দশা চলছেই। ৯ ইনিংসে করেছেন ২২৯ রান। সর্বোচ্চ ইনিংসটি ৪০ রানের। চলতি টুর্নামেন্টেও এখন পর্যন্ত নিজের ছায়া হয়ে খেলেছেন। ফাইনালে তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে পাকিস্তান। তিনিও নিশ্চয়ই চাইবেন সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। আর তা হলে ভারতীয় বোলারদের কঠিন পরীক্ষায়ই পড়তে হবে।

তিন. ফখরকে দিতে হবে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ

ভারতের কাছে হারের পর আহমেদ শেহজাদের বদলে ফখরকে একাদশে টানে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক। এখন পর্যন্ত এই বাঁহাতি ৩ ম্যাচে করেছেন ১৩৮ রান। ১১৮ ছুঁইছুঁই স্ট্রাইক রেটে হাফসেঞ্চুরি দুটি। তার ভয়-ডরহীন ব্যাটিং বোলারদের অস্বস্তির কারণ। কিন্তু ফখর নিজে সন্তুষ্ট নন তার ওপেনিং পার্টনার আজহার আলির ওপর। আজহার ইনিংসের শুরুতে অনেক ডট বল খেলেন। ফলে চাপে পড়ে যান ড্যাশিং ফখর। নিজের পছন্দের স্টাইলে ব্যাট করতে পারেন না। আজহারকে তাই স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে হবে। সচল রাখতে হবে রানের চাকা। তবেই না ভারতীয় বোলারদের ওপরে তান্ডব চালাতে পারবেন ফখর। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে এনে দিতে পারবেন উড়ন্ত সূচনা আর বড় স্কোরের ভিত।

চার. ধরতে হবে ক্যাচ

এজবাস্টনে দুদলের আগের দেখায় পাকিস্তানের ফিল্ডিং ছিল যাচ্ছেতাই। তবে পরের ম্যাচগুলোতে ফিল্ডিংয়ে লক্ষণীয় উন্নতি করেছে তারা। বিশেষকরে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যাচিং ছিল বিশ্বমানের। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে ফাইনালেও। কারণ কোহলি-শিখর-রোহিত-যুবরাজ যে কোনো একজনের ক্যাচ ছেড়ে দেয়া ট্রফি হারানোরই সমার্থক হতে পারে!

পাঁচ. নির্ভার রাখতে হবে আমিরকে

অধিকাংশ ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, ফাইনালে ভারতের ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে লড়াইটা হবে পাকিস্তানের বোলিংয়ের। আর পাকিস্তানের বোলিংয়ের মূল অস্ত্র মোহাম্মদ আমির। চোটের কারণে সেমিতে খেলতে পারেননি তিনি। তবে ফাইনালে খেলবেন বাঁহাতি গতিমানব। জুটি বাঁধবেন জুনাইদ খান আর হাসান আলির সঙ্গে। হাসান ১০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তবে বোলিং আক্রমণের মূল নেতা আমিরই। তিনি জ্বলে উঠলে ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেয়া কঠিন হবে না পাকিস্তানের!

Advertisements