অন্যরকম খবর

বিয়ের পথে সাইকেলে দুনিয়া

1aকেবল বিয়ের জন্য সাইকেলে করে দুনিয়া দেখতে বেরিয়েছেন টেরি সিয়ারস। প্রেমিকার আব্দার নয়৷ মেয়ের বাড়ি যে অস্ট্রেলিয়ায়৷ আর তিনি থাকেন লন্ডনে৷ তাই এই রথ দেখা আর কলা বেচার প্ল্যান৷

দু-চাকায় দুনিয়া ঘোরার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে টেরি সিয়ারস বলেন, বাড়ি থেকে যেদিন বেরিয়েছিলাম মাথায় তেমন কোনও ভাবনা ছিল না৷ শুধু মনে ছিল একটাই প্রশ্ন, হাউ মেনি রোডস মাস্ট আ ম্যান ওয়াক ডাউন বিফোর ইউ কল হিম অ্যা ম্যান? তখন কি জানতাম, পথেই খবর মিলবে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন বব ডিলান? সাইকেল চালাতে ভালো লাগত, তাই বলে দু চাকায় দুনিয়া ঘুরে ফেলব এমন উদ্যম ছিল না বছর কয়েক আগেও৷ কিন্তু পৃথিবীটা ঘুরে দেখার ইচ্ছে ছিল বরাবর৷ এদিকে পকেট গড়ের মাঠ৷

টেরি সিয়ারস বলেন, আপনারা হয়তো মনে করেন সাহেব মানেই বড়লোক৷ সেটা কিন্তু সর্বৈব ভুল৷ আমার মতো গরিব ব্রিটিশই সংখ্যায় বেশি৷ যাদের আয়-ব্যয়ের পর সঞ্চয় করতে গেলে রীতিমতো বেগ পেতে হয়৷ রেকর্ডিস্ট আর মিউজিক প্রোডিউসিং-এর (অর্থে মিউজিক অ্যারেঞ্জার) কাজ করে আমার পক্ষে যে ১০,০০০ ডলার জমানো প্রায় অসম্ভব তা বুঝতে পেরেছিলাম৷ ওদিকে বিয়ে করাটা কিছুতেই হয়ে উঠছে না৷ তাই মিশিয়ে ফেললাম সব কিছুকে৷ ঠিক করলাম, বিয়ে করতে লন্ডন থেকে অস্ট্রেলিয়া যাব, সাইকেল চালিয়ে৷ পাত্রী যে সে দেশরই বাসিন্দা। বছর দুয়েক ধরে পরিকল্পনা চলেছে৷ আস্তে আস্তে জমেছে হাজার পাঁচেক ডলার৷ সঙ্গে ইন্টারনেটে হাজারো মানুষের অনুদানে বিন্দু বিন্দু জমে উপস্থিত লন্ডন থেকে কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারলাম৷

তিনি বলেন, ইংল্যান্ড থেকে স্থলপথে একটা দেশেই যাওয়া যায়, ফ্রান্স৷ চলতি বছরের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরুর পর প্রথম গন্তব্য ছিল সেখানেই৷ সেখান থেকে সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রিয়া হয়ে ইতালি৷ তাতেই কেটে গেছে বেশ কয়েক মাস৷ তল্পি তল্পা নিয়ে সাইকেলে দিন যাপন। পশ্চিম ইউরোপ ছাড়িয়ে পূর্ব ইউরোপে ক্রমশ বদলাতে থাকে ভূপ্রকৃতির গঠন৷ বদলাতে থাকে মানুষ৷ স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া-হার্জোগোভিনা, মন্টিনেগ্রায় পরিচয় হয়েছে কত নতুন মানুষের সঙ্গে৷ কখনও সঙ্গী হয়েছেন কেউ, কয়েক ঘণ্টার জন্য হোক বা কয়েক দিন, কথায় কথায় সময় কেটেছে৷ পথ রয়ে গেছে পেছনে৷ বন্ধুত্ব নয়৷পথে পড়েছে আলবেনিয়া, গ্রিস, তুরস্ক, জর্জিয়া৷ রওনা হওয়ার আগেই আলবেনিয়া যেতে বারণ করেছিলেন অভিজ্ঞরা৷ বলেছিলেন, সেখানকার মানুষ ঠিক বোঝার মতো নয়৷ তবু গিয়েছিলাম সেই দেশে৷ আর সেখানেই পেয়েছি বহু ভালো বন্ধুকে৷ সবাইকে ভুল প্রমাণ করেই৷ পথে জর্জিয়ায় বান্ধবী এমিলি জেনি মেকালিস্টারের সঙ্গে বাগদান পর্বটা সেরে ফেলেছি৷ ব্রিসবেন থেকে ই-জে উড়ে এসেছিল জর্জিয়ায়৷

ভারত বাদ দিলে গোটা সফরেই প্রায় রাত কেটেছে তাঁবুতে৷ যেখানেই সন্ধ্যা হত জনবসতি থেকে কিছু দূরে৷ টাঙিয়ে ফেলতাম তাঁবু৷ রাতের খাওয়া সেরে সেখানেই ঘুম৷ সকালে উঠে প্রথম কাজ স্টোভ জ্বালিয়ে ওটস্ সিদ্ধ করা৷ তাই দিয়েই সেরেছি প্রাতঃরাশ৷ তাঁবু গুটিয়ে এবার শুরু সেদিনের মতো পথ চলা৷ কয়েক ঘণ্টা সাইকেল চালানোর পর কোথাও একটু দাঁড়িয়ে এক কাপ কফি৷ আবার শুরু করেছি চলতে৷ দুপুরের খাওয়া সেরে সন্ধে পর্যন্ত যতটা পেরেছি এগিয়েছি৷ সন্ধ্যা নামতেই ঢুকে পড়েছি সঙ্গের আস্তানায়। এভাবেই কেটেছে দিনগুলো৷ আজারবাইজানে তো ভিনদেশি দেখে রাতে ছুরি হাতে হাজির হয়েছিল স্থানীয়রা৷ কিন্তু বুঝিয়ে বলতেই আশ্বস্ত হয়েছে তারা৷ সেদেশের রাজধানী বাকু থেকে বিমান ধরে সোজা চলে এসেছি দিল্লিতে৷ সেখান থেকে আবার ঘুরেছে প্যাডেল, ঘুরেছে সাইকেলের চাকা৷ দিল্লি থেকে কলকাতা আসতে সময় লেগে গেছে এক মাস৷ তবে তাড়া নেই, কারণ বিয়ের এখনও অনেক দেরি৷  আগামী বছরের ৪ জুনের আগে ব্রিসবেন পৌঁছাতে পারলেই হলো। কলকাতা থেকে পেট্রাপোল হয়ে যাব বাংলাদেশে৷ সেখান থেকে মিয়ানমার৷ সেখান থেকে থাইল্যান্ড, লাওস, কাম্পোডিয়া, মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুর৷ সেখান থেকে বিমানে সোজা ব্রিসবেন৷

ভিডিওঃ প্রাইভেট টিচার এর সাথে মা ও মেয়ের নষ্টামি (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment