slider আন্তর্জাতিক

বিবিসির বিশ্লেষণ: কেন হারলেন হিলারি ক্লিনটন?

11আমেরিকার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় ব্যতিক্রমী, সন্দেহ নেই। এটা ছিল রাজনৈতিক আভিজাত্যের বিরুদ্ধে একটি বিপ্লবের মতো। আমেরিকার ভোটাররা হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে সেই আভিজাত্যের ছাপই দেখতে পেয়েছেন, যেখানে ভঙ্গুর রাজনীতির ছাপ রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ভঙ্গুরতা ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটারদের ভোট পেয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে, কারণ তিনি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে থেকে এসেছেন। আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায়, রাস্তায়, দোকানে সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির সংবাদদাতা। তারা বলেছে, তারা হোয়াইট হাউজে একজন ব্যবসায়ীকে দেখতে চায়, কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদকে নয়। ওয়াশিংটনের মানুষজনের প্রতি তাদের বিরাগ অকল্পনীয়।

ই-মেইল কেলেঙ্কারির কারণে হিলারি ক্লিনটনের ওপর আমেরিকানদের বিশ্বাসের ঘাটতি আছে। এই ঘটনাটি অনেক ভোটারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ আমেরিকানরা তাকে নিজেদের নয়, বরং বরাবরই এলিট গোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসাবে দেখেছেন। ভাবা হতো যে, আমেরিকার নারীরা হিলারিকেই বেছে নেবেন। কিন্তু প্রাইমারিতে বার্নি স্যান্ডার্সের সাথে প্রতিযোগিতার সময়েই টের পাওয়া গেছে, দেশের তরুণ নারী ভোটারদের টানতে পারা তার জন্য কতটা কঠিন। বিল ক্লিনটনের নারী কেলেঙ্কারিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ বা ক্লিনটনের ওই ঘটনাগুলোও হিলারির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। আবার অনেক পুরনো ধ্যানধারণার পুরুষ ভোটার, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে একজন নারীকে দেখতে চাননি।

বারাক ওবামা এবং হিলারি পক্ষের অন্য নেতারা বরাবরই ফাস্ট লেডি হিসাবে তার অভিজ্ঞতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তার যোগ্যতার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমেরিকার ভোটাররা চেয়েছিলেন নতুন কাউকে। যখন অনেক আমেরিকান পরিবর্তন চাইছে, তখন তিনি যেন পুরনো জিনিসগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো পার্টির পক্ষেই পরপর তিনবার হোয়াইট হাউজে যাওয়া বরাবরই কঠিন। ১৯৪০ সালের পর ডেমোক্র্যাটরা এটা পারেনি। আবার অনেক ভোটারই ‘ক্লিনটন’দের ওপর বিরক্ত হয়ে গেছে।

হিলারি ক্লিনটনের স্লোগান ছিল, একত্রে শক্তিশালী হয়ে উঠব। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগান, আমেরিকাকে আবার শ্রেষ্ঠ করে তোলো। প্রচারণার দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগান অনেক সুবিধা পেয়েছে। হিলারির প্রচারণায় অনেক কৌশলগত ক্রুটি ছিল। তিনি এমন সব রাজ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে তার জয়ের দরকার ছিল না। যেমন নর্থ ক্যারোলাইনা বা ওহিও। বরং তার ওই ১৮টি রাজ্যে বেশি সময় দেওয়া দরকার ছিল, যারা গত ছয়টি নির্বাচন ধরে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে আসছে।

অন্যদিকে পেনসিলভানিয়া বা উইসকনসিনের মতো রাজ্য, যেগুলোর ভোট ১৯৮৪ সালের পর আর রিপাবলিকানরা পায়নি, তার ভোট দখল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ কথা হলো, এটা শুধু মাত্র যে হিলারি ক্লিনটনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা নয়, এর মাধ্যমে আসলে বারাক ওবামার আমেরিকাকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন আমেরিকান ভোটাররা।

ভিডিওঃ বার্মুডা ট্র্যায়াঙ্গেলের ১৩টি অজানা তথ্য যা জানলে অবাক হবেন, ভিডিওতে দেখুন

Add Comment

Click here to post a comment