অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয়

বাড়িওয়ালার ছেলের নিষ্ঠুরতায় এক কলেজছাত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট

স্বামীর চাকরির সুবাদে জামালপুর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন কলেজছাত্রী। সন্তান সম্ভবা ওই ছাত্রীর ইচ্ছে ছিল এখন থেকে স্বামীর সঙ্গেই থাকবেন। এ কারণে ২ জুলাই তিনি রাজধানীর দক্ষিণ মুগদার ২ নম্বর গলির ১৬২/১ নম্বর বাড়ির নিচতলায় স্বামীর ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ওঠেন। কিন্তু দুই মাস না যেতেই ঢাকা ছাড়তে হয়েছে তাদের। স্বামীর অবর্তমানে বাড়িওয়ালার ছেলের নিষ্ঠুরতায় তার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাড়িওয়ালা তালেব আলী (৭৭) এবং তার বড় ছেলে জিএম মহসীন আলী জেমক (৪৫) গ্রেফতার হলেও গ্রেফতার হয়নি দুর্বৃত্ত জিএম মাসুদ আলী সিজান (বাড়িওয়ালার ছোট ছেলে)। এখন সিজানের মা মামলা তুলে নেয়ার জন্য কলেজছাত্রী ও তার স্বামীকে দিচ্ছে। গত ২১ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন কলেজছাত্রীর স্বামী। নামাজ শেষে বাসার সামনে গলিতে এসে দেখতে পান কয়েকজন লোক তার স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় রিকশায় উঠাচ্ছেন। পরে জানতে পারেন ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে জেসন তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে।

বাদী কলেজছাত্রীর স্বামী মামলার এজাহারে বলেন, ‘আমার অবর্তমানে বাড়িওয়ালা তালেব আলীর ছেলে জেসন আমার ভাড়া ফ্ল্যাটের দরজায় নক করে। ওই সময় আমার স্ত্রী বাসায় একা ছিল। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে জেসন মুখোশ পরা অবস্থায় তার বুকে খেলনা রিভলভার ঠেকায়। পরে জোরপূর্বক বেডরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমার স্ত্রী বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জেসনের মুখোশ খুলে যায়। এ সময় জেসনকে চিনে ফেলে আমার স্ত্রী। তখন জেসন সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশে উপর্যুপরি আঘাত করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জেসনের বড় ভাই জিএম মহসীন আলী জেম এবং বাবা তালেব আলী তাদের জানায়, এখানে কিছু হয়নি, আপনারা চলে যান। এর আগেই জেসন পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জেম ও তালেব মিলে বেডরুম এবং সিঁড়িতে থাকা রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে।’
বাদী বলেন, ‘ঘটনার পর প্রথমে আমার স্ত্রীকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ২৪ জুলাই তাকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। বাড়িতে রেখে এখন তাকে সুস্থ করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তার গর্ভের দুই মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। তার শরীরে ছুরির ৯টি আঘাত করা হয়েছে। পিঠের আঘাতটি ছিল গুরুতর।’ তিনি আরও জানান, জেসনের মা এখন বিষয়টি মীমাংসার জন্যে তাকে চাপ দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধ তালেব আলীকে পুঁজি করে বলা হচ্ছে, ‘অন্তত তালেব আলীর দিকে তাকিয়ে একটা কিছু করো।’ তবে তিনি (বাদী) জানিয়ে দিয়েছেন, জেসনকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। এ বিষয়ে মুগদা থানার ওসি এনামুল হক  জানান, মূল আসামি জেসনকে গ্রেফতারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই তাকে আইনের অওতায় আনা যাবে। তাকে গ্রেফতারে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে।