গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাবা দিবস হিসেবে পালন করার পেছনের ইতিহাস কি? জানুন বিস্তারিত

প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বাবা দিবস। সে হিসেবে আমাদের দেশে এ বছর ২০ জুন বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্ব জুড়ে বাবা দিবসের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল-সোনার স্মার্ট ডোড্। জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি,১৮৮২। তাঁর পিতা উইলিয়াম জেকসন স্মার্ট ছিলেন কৃষক তবে মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময় তিনি বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ডোড্ এর মা অ্যালেন ভিক্টোরিয়া চেক স্মার্টসহ পুরো পরিবার চলে যায় ওয়াশিংটনের স্পোকেনে।

সেখানেই জন্ম হয় সোনার স্মার্ট ডোড্ এর। যখন তাঁর বয়স ষোলো,তখন তাঁর মা ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। পরিবারে সোনারই ছিলেন একমাত্র কন্যা। বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের স্রোত নানা বাঁকে মিশে এক মোহনায় মিলিত হয়। সোনার স্মার্ট বিয়ে করেন জন ব্রোস ডোড্কে । সোনার ছোটোবেলা থেকেই নিজের সন্তানকে বাবার জন্য ভালোবাসা আর শ্র্রদ্ধার বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতে থাকেন। কেননা, মা হারানো পরিবারে বড়ো হয়েছেন সোনার। নিজের কষ্ট দিয়ে উপলব্ধি করেছেন চারপাশকে। নিজের বাবার ভালোবাসাকে করেছেন মাথার তাজ। তাই চেয়েছিলেন, সন্তান শিখবে বাবাকে ভালোবাসতে, শ্রদ্ধা করতে। কিন্তু ইচ্ছে পূরণ হবার সুযোগটাই পেলো না। ১৯০৯ সালেই মারা গেলেন জ্যাক ডোড্।

‘বাবা দিবস’ ঘোষণার বিষয়টি সোনারের মাথায় আছে ১৯১০ সালে। ‘মা দিবস’ এর অনুষ্ঠানে সে বছর চার্চে যান সোনার লুইস ডোড্। অনুষ্ঠানে এসেই তাঁর মনে হয় মা দিবসের মতো বাবাদের জন্যও একটি দিবস করা প্রয়োজন, যেখানে বাবাদের জন্য থাকবে হৃদয় নৈবেদ্যের ছোঁয়া। যেই ভাবনা, সেই কাজ। স্পোকেন মন্ত্রীজোটের কাছে তিনি তাঁর নিজের পিতার জন্মদিন ৫ জুনকে বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব পাঠান। তাঁর প্রস্তাবের ভূয়সী প্রশংসা করলেও মন্ত্রীজোট ৫ জুনকে বাবা দিবস ঘোষণা করতে রাজি হয়নি। তারা জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

একটি স্থানীয় পত্রিকা সেদিন ছুটি ঘোষণা করে এবং বিভিন্ন দোকানিরা বাবাদের জন্য নানা রকমের উপহার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে রাখেন। ১৯ জুন, ১৯১০। প্রথম বাবা দিবস উদযাপিত হচ্ছে স্পোকেনস শহরে। বিষয়টি পুরো মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সকলে মিলে এই ভাবনার প্রশংসা করেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রে তা শুরু হয়। ১৯১৯ সালে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু হয়। অবশেষে ১৯৬৬ সালে ছাপ্পান্ন বছর পর বাবা দিবসকে জাতীয় মর্যাদা দেয়া হয়।