খেলা-ধুলা

বাছাইপর্বে কে সেরা , মেসি-রোনালদো নাকি নেইমার

ফুটবল বিশ্বে বর্তমানে সেরা তিন খেলোয়াড় হলেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমার। ক্লাব ফুটবলে এই তিনজনই এখন শীর্ষে। সদ্য শেষ হওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে নিজ দলের টিকেট নিশ্চিত করতে শতভাগ উজাড় করে দিয়েছেন তারা।

সবার আগে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে ব্রাজিল। তবে মেসি-রোনালদোদের দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে বিশ্বকাপে নিতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে মেসি ও রোনালদোকে।

মেসির হ্যাটট্রিকে ইকুয়েডরকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। একই দিনে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে পতুর্গাল।

বিশ্বকাপে বাছাই পর্বে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে ১৮টি ম্যাচ খেলে মেসির আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে সবগুলো ম্যাচ খেললেও লিওনেল মেসি ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচ ম্যাচ। বাছাই পর্বে তার রেটিং পয়েন্ট ৮.৩৪।

অপরদিকে ইউরোপের গ্রুপ পর্বে ১০টি বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলে পর্তুগাল। যার মধ্যে ছয় ম্যাচই ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন রোনালদো। তার রেটিং পয়েন্ট ৮.৭৬।

তবে এদের চেয়ে এগিয়ে পিএসজির নতুন ট্রার্ম কার্ড নেইমার। বাছাই পর্বের ১৭ ম্যাচে সাতবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন নেইমার। তার রেটিং পয়েন্ট ৮.৮১।

বাছাইপর্বে সেরা পাঁচ :
খেলোয়াড়——————-ম্যান অব দ্য ম্যাচ————রেটিং পয়েন্ট

১. নেইমার —————— ৭ ————————– ৮.৮১

২. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—- ৬ ————————৮.৭৬

৩. রবার্ট লেয়ানডস্কি———–৭ ————————- ৮.৬৪

৪. ইডেন হেজার্ড ————- ৩ ————————- ৮.৬৩

৫. লিওনেল মেসি————- ৫ ————————- ৮.৩৪

মেসিতে স্বস্তি আর্জেন্টিনা

মাঠে গোল খরা ৪৪৬ মিনিটের। ইকুয়েডর সফরের আগে গত মে মাসে পেনাল্টি থেকে সর্বশেষ গোল উৎসবের সৌভাগ্য হয়েছিল আর্জেন্টাইনদের। গোলদাতা মেসি। বাংলাদেশ সময় গত বুধবার ভোরে আসন্ন বিশ্বকাপে লাতিন দেশটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বার্সেলোনা সেনসেশনকেই এগিয়ে আসতে হয়েছে। তিনিই পার্থক্য গড়ে দেন লাতিন জায়ান্টদের বিশ্বকাপ ভাগ্যে। তার একক নৈপুণ্যের হ্যাটট্রিকে বোঝা বেড়েছে আর্জেন্টিনার। দেশটিকে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করার মঞ্চ থেকে উদ্ধারে ‘অন্য’ কেউই এগিয়ে আসেনি। মেসিই রক্ষাকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। হতাশ আর্জেন্টাইনদের মুখাবয়বে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। পর্বতসম চাপের বোঝা কাঁধ থেকে নেমে যাওয়ায় বার্সেলোনা সেনসেশনও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন পর আর্জেন্টাইন ড্রেসিংরুমে উল্লসিত মেসির দেখা মিলেছে। তবে কোনো প্রকার আত্মতুষ্টির লক্ষণ মেলেনি তার প্রতিক্রিয়ায়।

কুইটোর সাফল্যকে ‘চতুর্থ ফাইনাল’ জয়ের সাথে তুলনাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সংযত মেসিতে মন ভরেনি গণমাধ্যমের। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার বলেন, ‘আর্জেন্টিনার প্রত্যেক বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আজ যা প্রয়োজন ছিল তা করতে পেরেছি। সময় এখন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি গ্রহণের।’

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অস্বাভাবিক উঁচুতে অবস্থিত ভেনুতে সাম্প্রতিক সময়ের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের অতীতও বাদ সাধতে পারেনি মেসির বল পায়ের জাদু প্রদর্শনে। একক নৈপূন্যেই তিনি আসন্ন ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। মাস্টউইন ম্যাচের ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল হজমও ব্যর্থ হয় মেসিকে বিচলিত করতে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর দুই বারের চ্যাম্পিয়ন লাতিন জায়ান্টদের আসন্ন বিশ্বকাপের দর্শক সারিতে অবস্থানের লজ্জা হজম থেকে মেসি একাই রক্ষা করেছেন।

রাশিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বের টিকিট অর্জনের ক্রেডিট মেসি দলের সবাইকে দিলেও আর্জেন্টিনার মাঠের পারফরম্যান্সের চিত্রনাট্য সর্ম্পূর্ণ আলাদা। দেশটির সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যমণির ভূমিকা তাকেই পালন করতে হয়েছে। ইনজুরি ও সাসপেনশনের খরায় বাছাইপর্বের আট ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন বার্সেলোনা সেনসেশন। খেলেছেন ১০ ম্যাচে।

মাঠে মেসির উপস্থিতিতে সম্ভাব্য ২৮-এর মধ্যে ২১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে আর্জেন্টিনা। তার অবর্তমানে আট খেলায় লাতিন জায়ান্টদের সংগ্রহ মাত্র সাত পয়েন্ট। গোল করতে ভুলতে বসা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারদের লজ্জিত না হওয়ার কোনো পথও খোলা থাকেনি প্লে-মেকার দায়িত্ব নিয়ে খেলা মেসির গোলোৎসবের পরিসংখান। ১০ ম্যাচে সাত গোলে লাতিন আমেরিকার বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল স্কোরার লিটল জিনিয়াস। সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন উরুগুয়ের এডিনসন কাভানি। তবে প্যারিস সেন্ট জামেইয়ের স্ট্রাইকার অংশ নেন ১৫ ম্যাচে।

তিনজন ভিন্ন কোচের অধীনে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের গোলমেশিন স্ট্রাইকাররা আর্জেন্টাইন বাছাইপর্বে অংশ নেন। কিন্তু তারা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। হিগুয়েন, আগুয়েরো, আলারিও, পারাতো, ইর্কাদি ও দারিওকে গোল করার মতো সহজ সুযোগও অহরহ তৈরি করে দিয়েছেন প্লে-মেকার মেসি। কিন্তু ফলাফল প্রায় শূন্যের কোটায়। বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার ওই ৬ স্ট্রাইকারের মিলিত গোলসংখ্যা ৩ ফলে ১৯৯৮ সালের পর বাছাইপর্বে সর্বনিম্ন ১৯ গোলের হতাশাও সঙ্গী হয়েছে আর্জেন্টাইনদের।