Advertisements
খেলা-ধুলা

বাংলাদেশ সেবার আতঙ্কিত করে তুলেছিল: গিলক্রিস্ট

বাংলাদেশের ক্রিকেটের তখন গরিবানা দশা। টেস্ট তো দূরে থাক, ওয়ানডেও জিততো কালেভদ্রে। তবে সেই সময়ই অস্ট্রেলিয়ানদের কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ রফিকরা। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছিলেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। প্রায় এক যুগ পর স্মৃতিচারণায় গিলক্রিস্ট বলছেন ফতুল্লায় ব্যাকফুটে চলে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া একসময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলো।

ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করলো ৪২৭। লি, গিলেস্পি, ওয়ার্ন, ম্যাগগিলদের পিটিয়ে শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাট থেকে এসেছিলো স্মরণীয় ১৩৮ রান। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার করলেন ৭৬, রাজিন সালেহর ব্যাট থেকেও এসেছিলো ৬৭ রানের ইনিংস। তবে অস্ট্রেলিয়ানদের আতঙ্কের শুরু এরপরেই। প্রথম ইনিংসে মোহাম্মদ রফিকের ঘূর্ণিতে নেমে ৯৩ রানেই ছয় উইকেট হারিয়েছিলো তারা। হেইডেন, পন্টিং, মার্টিন, ক্লার্কদের মতো বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা যখন আউট হয়ে ফিরলেন ড্রেসিং রুমে তখন আতঙ্ক।

গিলক্রিস্ট বলছেন, ‘বাংলাদেশ সফরের আগে ভেবেছিলাম। ওখানে যাব, দুই টেস্ট খেলব। ওদের গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে আসব। কিন্তু তারা আমাদের চমকে দিল। আমি যখন ক্রিজে যাই তখন ছিলো আতঙ্কের সময়।’

৯৩ রানে ছয় উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৯ রানের পুঁজি পাইয়ে দেন এই গিলক্রিস্টই। ২১২ বলে করেন ১৪৪ রান। ছয় নম্বরে নামা গিলিক্রিস্টের খ্যাতি ছিলো পরের দিকে নেমে বেপরোয়া পিটিয়ে রান বাড়ানোর, সাদা পোশাকেও চলত তার তাণ্ডব। ফতুল্লায় টেল এন্ডারদের নিয়ে ওই লড়াইকে গিলক্রিস্ট দেখছেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ইনিংসগুলোর একটি হিসেবে, ‘টেল এন্ডারদের নিয়ে ব্যাট করে ১০০ করেছিলাম। ওটা ছিলো আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মন্থর গতির আর লড়াই করে পাওয়া শতক।’

ফতুল্লা টেস্টের হার বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই বড় এক আফসোস। প্রথম ইনিংসে বেশ বড় একটি লিড পেয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানের বেশি টার্গেট দেওয়া যায়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে রিকি পন্টিংয়ের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়ানরা। আরেকটি অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে বাংলাদেশ এখন বেশ শক্তিশালী দল। স্টিভেন স্মিথরাও জানেন এবার লড়াই হবে সমানে সমান।

Advertisements