মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশিরা আমেরিকার চাইতে ১০০ বছর এগিয়ে

1aআড়াই মাস আগে পত্রিকায় একটা কলাম লিখেছিলাম। সেই কলামের শিরোনাম ছিলো- ‘যেখানে বাংলাদেশ আমেরিকার থেকে অনেক এগিয়ে।’

ওই কলামের সমালোচনা করে দেশের নামকরা একজন কলামিস্ট লিখেছিলেন, ‘আমি নাকি ফ্যান্টাসিতে থেকে ওই কলাম লিখেছি!’

ওই লেখায় আমি পরিষ্কার বলেছিলাম, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আমেরিকানরা কোনো নারীকে তাদের দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে না।

এর মাঝে সবারই জানা হয়ে গেছে, আর কেউ না, ডোনাল্ড ট্রাম্পই হতে যাচ্ছেন এই গ্রহের সব চাইতে ক্ষমতাধর মানুষ, যে মানুষ মেয়েদের কেবলই ভোগের বস্তু বলে মনে করেন এবং সেই কথা তিনি দিনেদুপুরে বলেও বেড়ান!

আমার সাথে আপনাদের দ্বিমত থাকতে পারে। নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়েছে, প্রতিটা আমেরিকান বড় হয় নারীর প্রতি ভয়ঙ্কর মানসিকতা নিয়ে! আমার দুই-দুইজন আমেরিকান সহকর্মী আছেন এখানে। এরা ওয়ার্কিং ক্লাস মানুষ নন, আমার মতোই শিক্ষক। এরা নারীদের যে চোখে দেখেন, সেটা মনে হলেও আমার মাঝে মাঝে বমি চলে আসে।

আমরা বাংলাদেশিরা বছরের পর বছর দেখে আসছি আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, আমাদের স্পীকার নারী; আমার মনে হয় না আমরা কোনো দিন চিন্তাও করেছি তাদের ‘নারী’ পরিচয় নিয়ে।

আমারা কিন্তু ঠিকই একজন নারী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী নেত্রী, স্পীকার বানাতে পেরেছি, যেটা আমেরিকা আদৌ পারেনি।

আমেরিকানরা প্লেনের পাইলট নারী হলে আজও ভয় পায়, কি না কি হতে যাচ্ছে ভেবে! ভাবখানা এমন, মেয়ে আবার পাইলট হয় কী করে!

যে দেশের মানুষের মানসিকতা এমন, সেদেশে সাম্প্রদায়িক, নারীবিদ্বেষী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মানুষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, সেটা আসলে স্বাভাবিকই ছিল।

সময়ে এসেছে একথা বলার, অন্তত নারীর অধিকার না হোক, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে আমরা বাংলাদেশিরা আমেরিকার চাইতে ১০০ বছর এগিয়ে। আমেরিকাকে আরও একশো বছর কাজ (অপেক্ষা) করতে হবে আমাদের পর্যায়ে পৌঁছাতে।

আমিনুল ইসলামের ফেসবুক থেকে

ভিডিওঃ বিমান বালাদের কি করতে হয় যাত্রীদের সাথে,গোপন ভাবে ধারন করা ভিডিও

Add Comment

Click here to post a comment



সর্বশেষ খবর